আজ ছিল স্বৈরাচার পতন দিবস। কারো কারো মতে ডিসেম্বরের চার তারিখে সামরিক স্বৈরাশাসক এরশাদ গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। পতন ঘটে সামরিক শাসক এরশাদের। যদিও এরশাদের মত জঘন্য শাসকের সাময়িক পরাজয় ঘটলেও এখন সে বহাল তবিয়তে ক্ষমতার কাছাকাছি আছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত, জনগণের টাকায় এখন সিংগাপুরে বিলাশী চিকিৎসা নিচ্ছে। আমাদের আজ আফসোস যে আমাদের ভাইয়ের রঞ্জিত রক্তে রাঙানো হাতে আজ এরশাদ ক্ষমতাশীল হয়। নির্লজ্জ বেহায়া ক্ষমতালোভীরা যে একই গোয়ালের গরু আজ তা প্রমাণ করেছে। এরশাদ শাহীর পতন ঘটেছে ঠিকই কিন্তু স্বৈরাচারের ভুত কি আমরা নামাতে পেরেছি? গণতন্ত্রের এ কোন নমুনা আমরা দেখলাম। যারা ক্ষমতায় যায় তারা অজীবন ক্ষমতায় থাকার খায়েস ছাড়া অন্য চর্চা করে না। এদেশে ক্ষমতায় থাকার এত স্বাদ কেন? কারণ আঙ্গুলফুলে কলাগাছ হতে হলে আজীবন ক্ষমতায় থাকতে হবে। মৌচাক থেকে অবিরাম মধু পেতে ক্ষমতা ছাড়া যে উপায় নেই। যেনতেন একটা দায়সারা ইলেকশন দিলেই এর নাম হয়ে যায় গণতন্ত্র! গোটা সমাজকাঠামো হয়ে পড়ে অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী চিন্তার আবাসভূমি। রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা ফ্যাসিবাদী মানসে মত প্রকাশের উপর নির্লজ্জ সেন্সর চালায়। রাষ্ট্রীয় বাহিনী বিচার বহির্ভূত গুম করে ফেলে। নিজ পরিবারের লোকজন জানে না তার স্বজন কোথায় আছে? আসলে বেঁচে আছে নাকি দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে বেশি উন্নয়ন কম গণতন্ত্র।
উন্নয়ন টা আসলে কাদের হচ্ছে? সাধারণ জনগণের না বড় বড় পুঁজিপতি, বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানি, ক্ষমতায় থাকা রাজনীতিবিদদের? অংক মিলিয়ে দেখেন, বাজারদর আর আয়ের সংগতি মিলিয়ে নেন কত উন্নয়ন হল। এদেশের শ্রমজীবী মানুষের কঠোর শ্রমের উপর ভর দিয়ে এবং প্রবাসে কঠিন পরিশ্রম করে প্রবাসী শ্রমিকরা হয়তো অর্থনীতির চাকা কিছুটা সচল রেখেছে, কিন্তু তার ফল ভোগ করছে উপর তলার যারা আছে। যে শ্রম দিচ্ছে কিন্তু তার ফল ভোগ করছে এই উপর তলার শাসক শোষকরা। নিংড়ে শুষে নিচ্ছে গার্মেন্টস সহ সকল শ্রমিকের শ্রমকে। এর নাম আমরা দিয়েছি গণতন্ত্র। কয়েকবছর লুট করার আয়োজন ছাড়া এটা কিছু নয়।
আইয়ুব শাহীর আমলে দলীয় রাজনীতি কোণঠাসা ছিল। শুধুমাত্র ছিল ছাত্র সংসদ নির্বাচন। ফলে এই ছাত্ররাই উনশত্তরের গণ অভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সূত্রপাত করেছিল। এরশাদ একই ভুল করেছিল ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু রেখে। ফলে ছাত্র সংগঠনগুলো শক্তিশালী গণ আন্দোলন গড়ে তুলতে পেরেছিল। এখনকার শাসকরা বুঝে গেছে ছাত্র সংসদ চালু রাখলে আমাদের স্বৈরতন্ত্রের পতন হবে। ফলে কিছু সুবিধাবাদী ছাত্রদের ভাগ ভাটোরার ভাগ দিয়ে ক্যাম্পাসগুলোতে সন্ত্রাসী জিইয়ে রেখেছে, ছাত্রদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতন্ত্র চর্চার পথ বন্ধ করে রেখেছে।
যে কোন আন্দোলনের ফল ব্যথা যায় না। নব্বইয়ের স্বৈরাচার পতনের মধ্য দিয়ে জনগণের যে আশা জেগেছিল তা ধুলিস্যাত হয়ে গেলেও নতুন স্বৈরাচার চিনতে সহজ হয়েছে। ফলে এখন লড়াই শুধু জনগণের শক্তি নির্মাণের, নতুন পথ চলার।
EmoticonEmoticon