সংখ্যায় যতটুকু ছোট হোক এদেশের বাম ছাত্র সংগঠন গুলোর একটা আদর্শ আছে। এইসব সংগঠনে যারা যুক্ত হয় তাঁদের বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত ঘরের সন্তান। আদর্শ চর্চা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সন্ত্রাস চাঁদাবাজি চাপাতি এসবের সাথে বাম ছাত্র সংগঠনের সম্পর্ক নেই। এরা সংখ্যায় কম কারণ এসব সংগঠন করতে হলে ব্যক্তিগত এবং অর্থনৈতিক কোন সুবিধা বা ভবিষ্যৎ এস্টাব্লিশমেন্ট এখান থেকে হয় না। ফলে এসব সংগঠনে মধু আহরণের সুযোগ নাই। তবে নৈতিক চরিত্রবান মানুষ তৈরি করার কারখানা হল বাম ছাত্র সংগঠনগুলো। হ্যাঁ আরেকটি বিষয় আছে, এসব সংগঠনে যারা যুক্ত থাকে তাঁদের প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়, জ্ঞান জগতের নানা বিষয়ের সাথে তাঁদের পরিচয় ঘটে ছাত্রাবস্থায়। ফলে আর যাই হোক একজন পরিপূর্ণ মানুষ হতে, একজন অসাম্প্রদায়িক মানুষ হতে হলে বাম ছাত্র সংগঠনের বিকল্প নেই। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন বিভিন্ন সময় শিক্ষার গণতান্ত্রিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে থাকে। যেখানে ছাত্রলীগ ছাত্রদল বা শিবির ক্ষমতা দখল মারামারি নিয়ে ব্যস্থ থাকে সেখানে বাম সংগঠনগুলো শিক্ষার দাবি নিয়ে, শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ সহ সকল ধরণের যৌন নিপীড়ন, চাঁদাবাজি টেণ্ডারবাজি সিট দখলের বিরোদ্ধে বাণিজ্যিক কোর্সের বিরোদ্ধে নানা সময় কর্মসূচী গ্রহণ করে। অন্তত সন্ত্রাসী শব্দটি বাম সংগঠনগুলোর সাথে যায় না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্ররা ৭ কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবি নিয়ে প্রথমে আন্দোলন শুরু করেছিল। যদিও ঢাবিয়ান একটি উগ্র সেন্টিমেন্ট থেকে আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সংকট কিন্তু ভিতর থেকে ছিল। প্রথমত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে প্রশাসনিক লোকবল তা দিয়ে সাত কলেজের লক্ষাধিক ছাত্রদের দেখভাল করা মুশকিল। অপরদিকে নিজেদের ৩৫০০০ শিক্ষার্থীর আলাদা চাপ। কিন্তু কোন অবকাঠামোর গড়ে না তোলার চেষ্টা করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাত কলেজকে ঢাবি অধিভুক্তি ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত। অতি উৎসাহী লোকজন এটা করতে গিয়ে জটিলতার সৃষ্টি করেছেন। যার মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন ৭ কলেজের শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে অন্যদিকে ঢাবি ছাত্রদের ও জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এখন যদি সাধারণ ছাত্ররা গণতান্ত্রিকভাবে ৭ কলেজের অধিভুক্তি বাতিল চায়, চাইতে পারে। তবে হ্যাঁ ‘আমি ঢাবিয়ান আমি সুপেরিয়র’ এই মানসিকতা ক্ষতিকর।
নির্লজ্জ ভিসি যদি ছাত্রদের আন্দোলনে অবরোদ্ধ থাকেন তাহলে তিনি নিজে তাঁর ছাত্রদের সাথে কথা বলতে পারতেন। অথবা শেষ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে পুলিশের আশ্রয় নিতে পারতেন। তিনি ছাত্রলীগ গুণ্ডাদের দিয়ে রড বাহিনীর মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বাম সংগঠনের কর্মীদের উপর হামলা করে ছাত্রদের গুরুতর আহত! করলো ছাত্রলীগ। ছাত্রীদের উপর শারীরিক যৌন নির্যাতন চালালো। এরপর এসব ঘটনা ধামাচাপা দিতে ইনিয়ে বিনিয়ে বলতে চাইছেন ছাত্ররা কেন ভিসিকে আবরোদ্ধ করে রাখলো? গেটের থালা ভাঙলো। স্বাভাবিকভাবেই বিক্ষুদ্ধ ছাত্ররা ১৫ জানুয়ারির ছাত্রীদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ছাত্রলীগ গুণ্ডাদের বহিষ্কার দাবিসহ তিনদফা দাবিতে ৪৮ ঘন্টা সময় বেঁধে দিয়েছিল। ফলে সেই সময় পার হওয়ার পর উল্টো যখন প্রোক্টর ৫০ জনের নামে মামলা দিয়ে বসেন তখন নিশ্চই ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ ছিল। যার রেশ প্রকাশ পেয়েছে তালা ভাঙ্গার মধ্য দিয়ে। এটাও আন্দোলনের একটা দিক নতুন বিষয় নয় অতীতে এমন ঘটনা বহু ঘটেছে।
এখন এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি আমরা সারাদেশে বাম ছাত্র সংগঠনের উপর ছাত্রলীগ হামলা করছে, মিছিলে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালাচ্ছে। একদিকে সাধারণ ছাত্রদের শিক্ষার দাবি নিয়ে বাম ও সাধারণ ছাত্ররা অন্যদিকে ছাত্রলীগের আধিপত্য। একজন বাংলাদেশের সচেতন মানুষ হিসেবে আপনাকে আজ বেছে নিতে হবে কী চান? সন্ত্রাস দখরদার মুক্ত গণতান্ত্রিক শিক্ষাঙ্গন না ছাত্রলীগের দখলের শিক্ষাঙ্গন? আপনাকে আজ শরীক হতে হবে ন্যায়ের পক্ষে। এইসব ঘটনা একদিন ইতিহাস হয়ে যাবে। আওয়ামীলীগ রেজিমের অগণতান্ত্রিক শাসনের এই ঘটনাগুলো লিখে রাখলাম আগামীর জন্য। ক্ষমতা থেকে একদিন বিতারিত হবেন, হয়তো দেখা যাবে এই ছাত্রলীগ কে ছাত্রদল কুকুরের মত পিঠাচ্ছে কিন্তু তখন ছাত্রলীগ কারো সহানুভূতি পাবে না কারণ ছাত্রলীগ যা করেছে এটাই তাদের প্রাপ্য হবে। সেদিন বেশি দূরে নয় ছাত্রলীগ ক্ষমতার মোহে আন্ধ হয়ে যেও না। কুসময় ডাকছে তোমাদের। সময়ের জন্য অপেক্ষা কর।
EmoticonEmoticon