সেদিন এটিএন বাংলার একটা নিউজ দেখছিলাম। সেখানে ভিকারুননেসার কয়েকটি মেয়ে সাক্ষাৎকারে বলছিল যে, তাদের শিক্ষকরা নাকি তাদের কোনো চাপ দেন না। বরং মাঝে মাঝে ভুল করে তারাই তাদের অভিভাবকদের কাছে শিক্ষকদের নামে উল্টাপাল্টা মন্তব্য করেন । যে শিক্ষার্থীরা এই মন্তব্য করছিল তারা সংখ্যায় খুব একটা বেশি ছিল না। মাত্র ৪-৫ জন ছিলো। কিন্তু মিডিয়া বেশ ফলাও করে প্রচার করলো যে, আসলে ভিকারুননেসার শিক্ষকদের আমরা যতটা অসভ্য মনে করি তারা ওতটা অসভ্য নন।
তারা এমন এক সময়ই এই মন্তব্যটি করলো যখন পুরো ভিকারুননেসা আন্দোলনে উত্থাল। তাদের এই মন্তব্যটি নিয়ে আমাদের একটু ভালোভাবে ভাবা উচিত। এটা প্রথমত তাদের মন্তব্য নয়। কোনো বড় আন্দোলন হলেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তাদের কিছু মানুষকে এরকম করে মাঠে ছেড়ে দেন। ইদানিং বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই রেওয়াজটা অনেক বেড়েছে। এটি আমাদের শিক্ষক সম্প্রদায়ের মেরুদন্ডহীনতা ছাড়া আর কিছুই প্রকাশ করে না। সত্যিকার অর্থে হাতে গোণা কিছু শিক্ষক ছাড়া আমাদের শিক্ষক সম্প্রদায়টিকেই যদি মেরুদন্ডহীন বলি তাহলে হয়তো ভুল কিছু বলা হবে না।
আমি অসংখ্য জায়গায় দেখেছি একেকটা আন্দোলন কি রকম বিশ্রীভাবে এই শিক্ষকরা প্রভাবিত এবং দমন দুটোই করেন। একটি আন্দোলনের নৈতিকতা এবং অনৈতিকতাকে যাচাই করা বাদ দিয়ে তারা দ্রুত এই আন্দোলনে শয়তানি করার জন্য নেমে পড়েন।
ভিকারুনননেসায় অরিত্রী সুইসাইড করলো। এখন এখানে তদন্ত কমিটি হবে। এক বছর কিংবা দশ বছর পরে রিপোর্ট প্রকাশিত হতে পারে, নাও পারে। কিন্তু এখন যে কাজগুলো হবে সেগুলো ভয়ংকর। অরিত্রীর খুনীদের রক্ষার জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বমহল নানা ভাবে উঠে পড়ে লাগবে।শিক্ষকরা ক্লাসে চাপ দিবেন আন্দোলন বন্ধ করার জন্য। অরিত্রীর বাবা মাকে নানা ভাবে হেনস্থা করা হবে। আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী দেখে বাসায় বাসায় পুলিশ পাঠানো হবে। শিক্ষকরা আন্দোলনকারীদের ধরে ধরে মৃদু মন্দ থ্রেড দিবেন। এই চলবে আর কি!
কোঠা সংস্কার আন্দোলন হলো। আন্দোলনকারীদের বাড়ি বাড়ি গোয়েন্দা পুলিশের লোক পাঠিয়ে নানান প্রকার হেনস্থা করা হলো।বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের উপর শারীরিক নির্যাতন হলো। কোথাও কোথাও খোদ প্রভোস্টের সামনে তাদের হল থেকে বের করে দেয়া হলো।
নিরাপাদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন হলো। ছোট ছোট স্কুল গামী ছেলে মেয়েদের আন্দোলনে সর্বত্র তখন তোলপাড় অবস্থা ছিল। সেই আন্দোলনেও সঠিকতা বেঠিকতা যাচাই না করে শিক্ষার্থীদের উপরই নেমে এসেছিল নির্যাতনের খড়গ। কিন্তু সেই হত্যাকান্ডেরও কোনো দৃশ্যমান সুরাহা এখনো হয় নি।
প্রত্যেকটি আন্দোলনেই ভিক্টিম হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আর এসব আন্দোলনে সন্ত্রাসীরা আমাদের শিক্ষক, প্রশাসন এবং সরকার মহল থেকে যেরকম প্রশ্রয় পেয়েছে তা ইতিহাসে বিরল। ট্রিটমেন্টটা তাই এখানেই দেন। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় সমস্যা মনে হয়।
EmoticonEmoticon