একদিন এক পুলিশ অফিসার এক জঙ্গীকে তাড়া করতে করতে হঠাৎ সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে ঢুকে পড়ল।জঙ্গীটিও প্রাণভয়ে কখন যে বনের ভিতরে চলে এলো খেয়াল করে নি।গভীর অরণ্য,সন্ধ্যা নেমে আসছে।পুলিশটির হাতে পিস্তল। কয়েক রাউন্ড গুলি চালালেও বনের মাঝে গাছের আড়ালে তা ফসকে যায়।
পুলিশ অফিসার আর জঙ্গীটির এই দোড়ঁঝাপের মাঝে হঠাৎ কোত্থেকে এক রয়েল বেঙ্গল টাইগার এসে পড়ল।তাকে দেখে দুজনেরই চক্ষু চড়কগাছ!জঙ্গীটি ভয়ে ভাবতে লাগল," হায় হায় একি করলাম! হুজুরের কথা শুনে শেষ পর্যন্ত এই বাঘের পেটে ঢুকতে হবে? ঐ ব্যাটা তো আস্ত জানোয়ার, সে না নাস্তিক, না হিন্দু কিংবা মুক্তমনা লেখক।তাহলে এখন কি উপায়?এর পেটে ঢুকলে তো আখিরাতে বেহেশত টাও মিস হয়ে যাবে তারচেয়েও পুলিশের গুলিতে মরাই ভাল।".... এইভেবে সে সটাং করে বনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়ল।
অন্যদিকে জঙ্গীর ভাবনা মাথা থেকে সরে গিয়ে পুলিশটা কি করবে ভাবতে লাগল।বাঘটা কাছে আসতে আসতে সে রিভলবার টা একবার দেখে নিল।সেটা দেখেই তার শরীরটা যেন আরো অবশ হয়ে পড়লো- আর মাত্র একটা গুলিই আছে পিস্তলে,বাকি সব শেষ।এই একটা গুলি দিয়ে সে কি করবে? কাকে মারবে? বাঘ না জঙ্গী টাকে?
এই ভাবতে ভাবতে (বাংলাদেশের পুলিশ বলে কথা!) বাঘটা ওদের দুজনের মাঝখানে চলে এলো। বাঘটাও মনে করলো এই দুজন হচ্ছে NTPC,ওরিয়ন কোম্পানির লোক,যাদের কাজ হচ্ছে বন উজাড় করা,এরা খুবই বিপদজনক, ভয়ে সেও তাদের দেখে দাড়িঁয়ে পড়লো।
জঙ্গী তখন পুলিশের উদ্দেশ্যে চেচিঁয়ে বলতে লাগলো-"শুট মি! শুট মি! আমি বেহেশতে যাবো!"
আর পুলিশটা ভাবছে-" রাখ ব্যাটা তোর বেহেশত, আগে নিজের জীবনটা বাচাঁয়। বেচেঁ থাকলে ওরকম বেহেশতে অনেক যাওয়া যাবে।আর বাঘের পেটে ঢুকলে না বেহেশত না দোযখ,প্রমোশনটাও যাবে।"...
বাঘ,পুলিশ আর জঙ্গী তিনজনই তাকিয়ে রইলো গল্পের শেষটার দিকে। কি হবে শেষে?
এখানে গল্পটা দুইভাবে শেষ করা যায়ঃ
এক.জঙ্গীর অবস্থান থেকে, পুলিশ তাকে গুলি করলো,জঙ্গীটি এরপর বেহেস্তের টিকেট কেটে আই,এস কিংবা আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সদস্য হিসেবে দেশ-বিদেশের মিডিয়াতে চলে আসতে পারে।
দুই. পুলিশটির অবস্থান থেকে,বাঘটিকে মেরে সে নিজে নিরাপদে থাকলো আর জঙ্গীকে পালাতে দিলো।পরে সাংবাদিক সম্মেলনে বলবে- এই বাঘটাই ছিল জঙ্গীবাদের হোতা,এখন থেকে বাংলাদেশ- মার্কিন সামরিক মহড়ায় জঙ্গী আর ভারতের সহযোগিতায় সুন্দরবনে বাঘ দমন অভিযান চালানো হবে।
কিন্তু না, তাদের দুজনকেই অবাক, হতাশ আর লজ্জায় ফেলে বাঘটিই বলে উঠলোঃ " আমাকে মেরো না প্লিজ, আমাকে মেরো না।হে মানব সন্তানেরা,সৃষ্টির সেরা- আমি তো তোমাদের কোনো ক্ষতি করি নি।আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম আমার এই সবুজ অরণ্যে।তোমাদের ঐ মুনাফার পাহাড় একে একে কেড়ে নিচ্ছে সমস্ত অরণ্য-বন।বাপ দাদার এই ভিটে মাটি ছেড়ে আমি কোথায় যাবো? তোমাদের বিদ্যুৎ দরকার,আলো দরকার। কিন্তু জীবনের আলো নিঙড়িয়ে,সবুজ তাড়িয়ে এই কেমন আলো তোমরা জ্বালছ? এই বন তো শুধু আমার একার নয়,শুধু পশুদের নয়,এই বন তো তোমাদেরও।আমাকে মেরো না,শুধু আমার জন্য নয়,তোমাদের জন্য তোমাদের সন্তানদের জন্য আমার এই মিনতি।মনে রেখো- বিদ্যুতের অনেক বিকল্প আছে কিন্তু সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নেই।এটা আমার দেশ,আমি এইদেশকে এই বনকে ভালবাসি। তোমরা ভালবাসতে পারো না?"- বলতে বলতে বাঘের চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ল। (শেষ)
( গল্পটি রুপক তাই শেষটা এইভাবেই হলো)
শুক্রবার, ১৪ জুলাই, ২০১৭
বাঘ ও জঙ্গীঃএকটি রুপক গল্প !
Tags
Artikel Terkait
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
EmoticonEmoticon