শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭

মুসলমানদের মধ্যে কি জাতিভেদ প্রথা নেই ?

অনেকে বলে থাকেন, মুসলমানদের মধ্যে কোন জাতিভেদ প্রথা নেই! সকলে এক কাতারে দাড়িয়ে নামাজ আদায় করতে পারে। কথাটার মধ্যে একটু হলেও সত্যতা আছে। মিথ্যেটা হল, মুসলমানদের মধ্যেও জাতিভেদ প্রথা আছে। আগেকার দিনে মুসলমানেরা জাত বংশ বিচার না করে বিয়ে দিতেন না বা করাতেন না। এখন যদিও বিষয়টা আগের মতো নেই, তথাপি ক্ষেত্রবিশেষে কেউ কেউ জাত পাত নিয়ে বাড়াবাড়ি করে। কিছুদিন পূর্বে এক ভদ্রলোক আমায় জিজ্ঞেস করলেন, আমার জাত কি? বলেছিলাম আমি মানুষ! কোন জাত পাত মানিনা। ভদ্রলোক উত্তর দিলেন, জাত থাকলে তো বলবি! নিচু জাতের লোকেরা কি উচ্চস্বরে জাতের নাম বলতে চায়? আমি জানতে চাইলাম, আপনার জাত কি? ভদ্রলোক উত্তর দিলেন, চৌধুরী! হা হা হা করে হেসে উঠলাম। ভদ্রলোক হাসির কারন জানতে চাইলে বললাম, আপনি একটা নিচু জাতের লোক হয়ে আমাকে নিচু জাত বলছেন? আমি সৈয়দ বংশের ছেলে। আর আমার বংশের পা ধোঁয়ার যোগ্যতা ও আপনার বংশের নেই। কারন চৌধুরী কোন বংশই নয়। বৃটিশ আমলে যারা বৃটিশদের গোলামী খেঁটেছে তাদেরকেই তারা একেকটা উপাধিতে ভূষিত করেছে। কাউকে তালুক/শিক/সুবা প্রভৃতি টাইপের জমি পত্তনি দিয়ে উপাধি দিয়েছে তালুকদার/শিকদার/সুবাদার/জমাদার/মহালদার/মজুমদার ইত্যাদি! ঠিক তেমনি চৌধুরীও একটা রাজনৈতিক উপাধি। চৌধুরী উপাধি তো হিন্দুরাও ব্যবহার করে। তাতে কি হল? আর কখনো জাত পাত নিয়ে বিতর্ক করবেন না। মনে রাখবেন, বাঘের উপরেও টাগ থাকে। আমি জাত পাত মানিনা। তাই ফলাও করে প্রচার ও করিনা। নইলে উচ্চস্বরে বলার মতো জাত আমার ও আছে। উপরোক্ত কথাগুলো বলার কারন, সৌদি কর্তৃক উপমহাদেশীয় মুসলমানদের নাক সিঁটকানো দেখে। আরবদের মতে, মুসলমান দুই প্রকার এক. আরবি দুই. আজমি। তাদের মতে আরবরা খাঁটি মুসলমান, আর বাকিরা সব ধর্মান্তরিত! একটা কথা আমার জানতে ইচ্ছে, আরবরাও কি ধর্মান্তরিত মুসলমান নয়? তাদের পিতৃপুরুষরা কি মূর্তি পূজা করেনি? মোহাম্মদ নিজেই যেখানে তার বাঁপ দাদার পোত্তলিক ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম নামক ধর্মের পত্তন করে এবং তা ধর্ম প্রচার করে করে পোত্তলিকদের ধর্মান্তরিত করেছে! সেখানে কে খাঁটি আর কে ধর্মান্তরিত সেই প্রশ্ন তারা তুলে কোন অধিকারে?


EmoticonEmoticon