বন্যা নিয়ে নতুন করে কী লিখবো? আমাদের দেশে বন্যা মানুষের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। দুনিয়া বদলে যায়, মানুষের জীবন বদল হয়, মানুষ আধুনিক হয়, প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠে। কিন্তু আমরা? ডিজিটাল যুগের এনালগ বন্যায় ভেসে যাই। বন্যা প্রায় চার মাস আগে থেকেই শুরু হয়ে গেছে। যখন বাঁধ ভেঙ্গে হাওরের ফসল তলিয়ে যায় তখন থেকেই বন্যায় শুরু। দুর্ভিক্ষ তো তখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে। হাওরে ফসল হারিয়ে নিদারুণ কষ্টে! মানুষগুলো জীবন অতিবাহিত করেছিল আর এখন? সারা দেশের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ এলাকা প্লাবিত। বানে ভাসছে মানুষ জীবজন্তু গৃহপালিত প্রাণী। এইটাকে আজকের দিনে প্রাকৃতিক সমস্যা ভাবলে ভুল হবে। প্রকৃতি তার নিয়মেই চলে। মানুষ প্রকৃতির এই বিপদগুলো থেকে বাঁচার জন্য হাজার হাজার বছর ধরে চেষ্টা করে আসছে। ফলে সে নানা ধরণের প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষকে এই প্রযুক্তি সুবিধায় আনতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং পরিকল্পনা লাগে। যা এখানে কোন দিনই হয়নি। তার কারণ হল ব্যক্তি মালিকানা নির্ভর সমাজ ব্যবস্থা। কারণ যদি যদি সম্পদের মালিকানা ব্যক্তির হয় তবে সে তার ভাগ অন্যকে দিবে না, এমনকি অন্যেরটা কিভাবে ছলে বলে নেওয়া যায় সেই কৌশলে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষকে তাঁর বসবাসের উপযোগী বাসস্থান নির্মাণ করা, তাঁর নিরাপত্তার আয়োজন করা যায় না। ফলে ফি বছর বন্যা, জ্বলোচ্ছ্বাস, খড়া, পাহাড় ধ্বসের মুখোমুখি আমাদের দাঁড়াতে হয়। কিন্তু সেখানে যারা ক্ষমতায় আছে তাঁদের পরিকল্পনা কী? জনগণের কাছ থেকে ভ্যাট ট্যাক্স আদায় করে ক্ষমতায় বসে মোহাসেবরা যে আয়েশি জীবন পার করছেন, আর যাদের কাছ থেকে ফান্ড সংগ্রহ করে সরকারী কোষাগার হয় তাঁদের পেছনে খরছ করতে তাঁদের এত অনিহা কেন? এত বড় বড় বিপর্যয় হাজির হয় আমরা দেখি সরকারী চেষ্টা খুবই সামান্য। এর মধ্য থেকে আবার মাঝপথে ভাগ ভাটোরা হয়ে যায়। কিন্তু বার বার এদেরকেই কিন্তু আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ করে দেই।
এখন যারা ব্যক্তি উদ্দ্যোগে ফান্ড সংগ্রহ করে মানবতা দেখাতে চান তাঁদের সাথে আমার দ্বিমত আছে। শুধুমাত্র ব্যক্তি উদ্দ্যোগ এই বিশাল দুর্যোগের জন্য খুবই সামান্য। আমি মনে করি বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত। কিন্তু প্রধান কাজ হবে সরকারকে এগিয়ে আসতে বাধ্য করা। সরকারী ফান্ড মানে জনগণের ফান্ড। জনগণের পূর্ণ হক আছে এই টাকার উপর। ফলে রাষ্ট্রীয় উদ্দ্যোগ ছাড়া এইসব দুর্যোগ মোকাবেলা সম্ভব নয়। এজন্য মনে করি সিজনাল মানবতীবাদী না হয়ে রাজনৈতিক কর্মী হোন। রাজনীতিকে ঘৃণা না করে রাজনৈতিক পরিবর্তনে এগিয়ে আসুন। প্রাকৃতিক বিপদ থেকে বাঁচার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের জন্য সংগ্রাম দরকার। প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্রের নদীর উপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উপর সংগ্রাম গড়ে তোলা জরুরী। এই ফারাক্কা বাঁধ আমাদের মরণ ফাদ। কারণ ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসমে পানি নাই আর বর্ষায় পানির ঢলে আমাদের ভাসিয়ে নেয়। ফলে রাজনৈতিক কর্মসূচী গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের উদ্দ্যোগ জরুরী। তারপর পরিস্থিতি বিবেচনা করে যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাই।
EmoticonEmoticon