ভারতের ইতিহাস ঘাঁটলে মোপলা বিদ্রোহ নামের কুখ্যাত হিন্দু নিধন যজ্ঞের হয়ত দুই লাইনের বেশি পাওয়া যাবেনা। যা পাওয়া যায় সেটাকেও নির্লজ্জ ভাবে বিকৃত করে ইতিহাসে উপস্থাপন করা হয়েছে। ৬২৯ সালে কিছু মুসলিম বনিকরা দক্ষিন ভারতের মালাবারে ঘাঁটি গাড়ে, সময়ের স্রোতে এরাই ৫-১০ টা বাচ্চা পয়দা করে করে ধীরে ধীরে এক বিশাল আকার নেয়। ১৯২১ সালের আগে প্রায় ১০০ বার এই মোপলা মুসলিমরা সেখানকার নিরীহ হিন্দু দের উপর আক্রমন করে। কিন্তু তার মধ্যে ১৯২১ সালে যে মোপলা বিদ্রোহ হয়, সেটা ছিল তাদের ১০০ বার আক্রমনের শ্রেষ্ঠ আক্রমন। মোপলা বিদ্রোহের আগে তারা কারণে অকারণে হিন্দুদের উপর অত্যাচার করেছিল। মোপলা বিদ্রোহ ইতিহাসের এক কলংকিত অধ্যায় যেটা সংঘটিত হয়েছিল মুসলিমদের দ্বারা।
মোপলা বিদ্রোহের প্রসঙ্গে আম্বেদকর বলেছিলেন-মোপলারা প্রতিবেশী হিন্দুদের উপর এ এক অসহনীয় হত্যালীলা চালায়, বাদ যায়নি হিন্দু শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত। মায়ের কোল থেকে শিশুকে ছুঁড়ে ফেলে ধর্ষন করেছে অসংখ হিন্দু নারীদের। অন্তসত্ত্বা হিন্দু নারীর পেট চিরে গর্ভের শিশুকে পর্যন্ত আগুনে ফেলে দেয় এতটাই তারা ছিল হিন্দু বিদ্বেষী। তাদের ধারনা ছিল এভাবে হিন্দু অর্থাৎ অমুসলিম কাফেরদের হত্যা করলেই নাকি পাওয়া যাবে জান্নাত এবং সেখানকার হুরি। শয়ে শয়ে হিন্দু মন্দির ভেঙ্গে সেই মন্দিরের ভেতরে গোমাতার পেট চিরে তার নাড়ি ভুড়ি মন্দিরের মূর্তির গলার পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনি ছিল সেই নৃশংস ধ্বংসযজ্ঞ।
তাহলে আর বলার অপেক্ষা রাখেনা যে নিরীহ হিন্দুদের কি পরিমানে ইসলামে জোরপূর্বক ধর্মান্তর করা হয়েছিল। মোপলাদের এই নৃশংস হিন্দু নিধন যজ্ঞে ধর্মান্তর যে একটা ছোট্ট ইসু তা একটা পাগলেও বুঝবে।
সেই সময় ভারতে বসবাসকারি জে জে বেনিঙ্গা তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে এই বক্তব্য রাখেন- মোপলারা বিগত ১০০ বছর ধরে নিরীহ হিন্দুদের উপর বার বার আক্রমন করেছে কারণে অকারণে। তাদের ধর্মান্ধের পারদ এতটাই উগ্র ছিল যে তাদের এটা বিশ্বাস দেওয়া হয়েছিল কাফের দের মারলে পাওয়া যাবে মৃত্যুর পরে জান্নাত।
বেনিঙ্গা আর বলেন যে, কুপগুলো ভরে যায় নিরীহ হিন্দুর খত বিক্ষত মৃতদেহে, পুরুষদের বেধে রেখে তাদের সামনে ধর্ষন করা হয় অজস্র নারীকে, একশর উপরে মন্দির ভেঙ্গে সেখানে গরুকে হত্যা করা হয়, তাদের বারি ঘর সম্মত্তি লুট করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, অজস্র হিন্দু দের করা হয় জোরপূর্বক মুসলিম।
এই ব্যাপারে রবিনসনের মতে মপলাদের হাতে প্রায় দশ হাজার নিরীহ হিন্দুর হত্যা হয়েছিল।
এই নৃশংস মপলা বিদ্রোহের প্রসঙ্গে খিলাফত আন্দোলনের সমর্থক করমচাঁদ গান্ধি তার "ইয়ং ইন্ডিয়া" ম্যাগাজিনে লেখেন- আমি যখন কলকাতায় ছিলাম তখন এই ঘটনার খবর পাই এবং আমার কাছে খবর এসেছে যে সেখানে মাত্র তিনটি ধর্মান্তরের ঘটনা ঘটে। আমার মনে হয় এই ঘটনা হিন্দু-মুসলিম একতার মধ্যে কোনও ফারাক সৃষ্টি করবেনা। শুধু তাই নয়, এই করমচাঁদ গান্ধি মপলাদের কাপুরুষের মত একটা বর্বর নৃশংস হত্যালীলা কে সামনে রেখে মোপলাদের দেশের সবচেয়ে সাহসীদের মধ্যে গন্য করেন এবং মোপলাদের খোদাভীরু অ্যাখ্যা দেন।
এইধরনের একটা হিন্দু নিধন যজ্ঞকে গান্ধি যেভাবে খাট করে দেখিয়েছেন যে এবার সত্যি বলতেই হয় গান্ধি মহাত্মার অধিকারি। কারণ মহাত্মা না হলে কোনো মানুষ এই হত্যালীলা কে ছোটো ঘটনা অ্যাখ্যা দেয় কি করে? এই নাকি ভারতবর্ষের জাতির জনক এবং মহাত্মা যার কাছে দশ হাজার হিন্দু নিধন ছোটো ঘটনা, অন্তসত্ত্বা নারীর পেট চিরে ছিন্ন ভিন্ন করা ছোটো ঘটনা, মন্দিরে গোমাতার নাড়ি ভুড়ি ভগবানের মূর্তির গলায় পরিয়ে দেওয়া ছোটো ঘটনা! মেকি ধর্ম নিরপেক্ষতার জন্য আবদুল কালাম আজাদ ও নেহেরুর নিরদেশে ও বামপন্থী ঐতিহাসিকগন নিজস্ব তাগিদে ইতিহাসের পাতায় মোপলাদের এই নিষ্ঠুরতাকে তুলে ধরেন নাই। আশাকরি আগামী দিনে এই বিকৃত ইতিহাসকে ফেলে প্রকৃত ইতিহাস রচিত হবে যাতে করে আগামী প্রজন্ম ভারতের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারে ।
তথ্য সংগ্রহ - 1)" জিহাদ " জবরদস্তি ধর্মান্তর, লেখক এম এ খান- DOWNLOAD LINK- FOLLOW FIRST COMENT
2) Robinson F ( 2000 ) islam and muslim history in South Asia
3)Ambedkar, vol. 8, p 163
4)Benninga JJ ( 1923 ) the Moplah Rebelian 1921
5)Gandhi K ( 1921 ) young india
6) Khosla p 38
EmoticonEmoticon