বুধবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৭

'আই এ্যাম নট বাংলাদেশী' বলেছে শেখ মুজিবের নাতনী

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা পূর্ব প্রজন্মের বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা এই ব্রিটিশ সমাজে যতোই উপরে উঠুক না কেনো, তাদের কাউকে আমি আমার গত ২৭ বছরের ব্রিটেইনের জীবনে বাংলাদেশীত্ব অস্বীকার করতে শুনিনি।

আজ শুনলাম বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকীকে সাংবাদিকের ক্যামেরার সামনে বলতে, "I am not Bangladeshi"। অথচ এই লণ্ডনের বাংলাদেশীরা  তাকে শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনী হিসেবে 'নিজের মানুষ' মনে করে কতো কষ্টটাই না করেছে এমপি বানাতে! হায়!

ব্রিটেইনে 'বাংলাদেশী' একটি এথনিক ক্যাটেগোরী হিসেবে স্বীকৃত। যে-কোনো চাকুরীর দরখাস্তে যেখানে ইক্যুয়াল অপর্চুনিটি মনিটরিংয়ের জন্যে সঠিক এথনিসিটিতে টিক দিতে হয়, সেখানে ''Bangladeshi' ক্যাটেগোরী থাকে। অর্থাৎ, এতে যারা টিক দেয়, তারা  হচ্ছে 'বাংলদেশী ব্রিটিশ'।

বস্তুতঃ স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগের কারণেই ব্রিটেইনে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূতদের দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃত। অর্থাৎ, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকেরা বাংলাদেশী নাগরিকত্ব রক্ষা করতে পারেন। আমাদের ছেলেমেয়েরা ঠিক তাই।

আমি জানি না, টিউলিপ সিদ্দিকী এমপির ব্রিটিশ-বাংলাদেশী দ্বৈত-নাগরিকত্ব ধারণ করেন, নাকি শুধু ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ধারণ করেন। তিনি যেহেতু অস্বীকার করেছেন যে, তিনি বাংলাদেশী নন, আমরা ধরে নিতে পারি, তিনি সত্যই বলেছেন।

বিষয়টি টিউলিপ সিদ্দিকীর জন্য গর্বের বিষয় হলেও, অনেকের জন্যে দুঃখের হবে। আমার ধারণা, অনেকে কাঁদবেও। কিন্তু কী আর করার আছে!

যাহোক, টিউলিপ সিদ্দকীর প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমি বরং এক অর্থে স্বস্তি বোধ করছি ব্রিটেইনের বাংলাদেশীদের একটি উচিত শিক্ষা হয়েছে দেখে।অবশ্য, আমি আমি নিশ্চিত নই, ঠিক কতোটা শিক্ষা হয়েছে ওদের।

৩০/১১/২০১৭
লণ্ডন, ইংল্যাণ্ড


EmoticonEmoticon