রবিবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৮

ধর্ম আর পুঁজিবাদ

বাংলাদেশের একটা সুযোগ ছিল ১৯৭১ সালের বিজয়ের পর একটা অসাম্প্রদায়িক সেক্যুলার দেশ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবার। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্য বিলোপ করে একটি সমতার অর্থনীতি নির্মাণের। কিন্তু তখনকার নেতৃত্বের ব্যর্থতা আপোষকামী মানসিকতা এবং এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ চক্রের কারণে আর সেই পথে আগাতে পারেনি। তখন একটা সুযোগ ছিল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার। কারণ যুদ্ধ হয়েছিল ধর্মভিত্তিক পাকিস্তানের বিপরীতে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ একটা কনসেপ্ট থেকে। তখনকার নেতৃত্ব ধার্মিক ছিলেন তবে গোড়া ধার্মিক ছিলেন না। অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি তাদের দরদ ছিল, ভালবাসা ছিল। শুধু ভিন্ন ধর্মের কারণে তার প্রতি বিদ্বেষ পোষা তখনো অনেকেই চিন্তা করতো না। আর এখন? একদিকে নেতৃত্বের আপোষকামী চিন্তাধারা আর অন্যদিকে মুসলিম ভোটব্যাংক কাজে লাগানোর চেষ্টা। ফলে গোটা সমাজটাকে কয়েকযুগ পিছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব যদি দিতে হয় তবে আজকের ক্ষমতার রাজনীতি চর্চার নেতাদের দিতে হবে।

একদিকে পুঁজিবাদী লুটপাটের অর্থনীতি ক্রিয়াশীল আর অন্যদিকে ধর্মের প্রতিক্রিয়াশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিভাবে পুঁজিবাদের সাথে ধর্ম মানিয়ে নিল? সামন্তবাদী সমাজের, দাস সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ধর্মের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু পুঁজিবাদ ছিল ধর্ম থেকে নিজেকে উত্তরণের যুগ। কিন্তু ধর্ম আজ ভালভাবে মানিয়ে নিয়েছে পুঁজিবাদের সাথে। বাজার অর্থনীতি শোষণ লুটপাটের সাথে ধর্মের বিরোধ নাই। বিরোধ যে জায়গায় তা হল ধর্ম নেতাদের বক্তব্য এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে শাশ্বত ধরে সবকিছু মেনে নিতে হবে। এগুলো হলে যত দুর্নীতি হোক একদম মুখ খুলবে না। শেখ হাসিনা তাই করছেন। একদিকে ধর্ম নেতাদের সুবিধা পাইয়ে দিয়ে মুখে কুলুপ এটে দিচ্ছেন আর অন্যদিকে শিক্ষা ব্যবস্থায় মানুষের আধুনিক বিকাশের অন্তরায় ধর্মের প্রতিক্রিয়াশীল ধারণা প্রতিষ্ঠিত করার সব চেষ্টা করে চলছেন।

দেখুন দেশে এত দুর্নীতি হয়, বিদেশে টাকা পাচার হয়, ব্যাংক লুট হয়। এগুলো কারা করে? ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে এলিয়েন এসে এগুলো করে না, দাড়ি টুপিপরা মুসলমানরা এগুলো করছে। ফলে দেখা যাচ্ছে দুর্নীতির সাথে অবৈধ্য সম্পদ অর্জনের সাথে, অবৈধভাবে ক্ষমতা চর্চায় ধর্মের বিরোধ নাই। এগুলোর সাথে খুব ভালভাবে ধর্ম এবং ধার্মিকরা মানিয়ে নিয়েছে। কিন্তু চিন্তার দিক দিয়ে অন্ধ বিশ্বাস, স্থুল আর কুসংস্কার তার মস্তিষ্কে বাসা বেঁধেছে। এই বাসা বাঁধার অন্যতম কারণ এই শিক্ষা ব্যবস্থা। পাস ফেলের প্রতিযোগীতায় মানুষ হয়ে উঠার শিক্ষা এখানে নাই। দুনিয়া কিভাবে বিকশিত হল, আদিম সমাজ থেকে মানুষ আজ এই জায়গায় আসলো? ইতিহাস বিজ্ঞান ধর্মের বিকাশ এগুলো আজ জানতে হয় না। একটা সার্টিফিকেট থাকতে হবে আর বিসিএস এর জন্য মুখস্ত সাধারণ জ্ঞান। তাইলেই আপনি বড় শিক্ষিত। ফলে ধর্মান্ধতার বড় ক্ষেত্র হল এই শিক্ষাব্যবস্থা। এর থেকে মুক্ত হতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন দরকার।

আজকের দিনে কোন ইসলামপন্থী দল দুর্নীতি লুটপাট ধর্ষণ গুম বিচারহীনতার কথা বলে না। বলেনা জাতিগত নিপীড়ন নির্যাতনের বিরুদ্ধে। কারণ এগুলোর সাথে আজ ধর্মের বিরোধ নেই। আজকের ধর্ম পুঁজিবাদী ধর্ম। সে পুঁজিবাদের সবকিছু রক্ষা করে সমাজের উপর ছুরি চালায়। তাই এদেরকে প্রতিহত করতে হলে শক্তিশালী গণ আন্দোলনের বিকল্প নেই। পুঁজিবাদ আর ধর্ম একাকার ফলে একটি রেখে আরেকটি উচ্ছেদ সম্ভব নয় দুইটিকে একসাথে উচ্ছেদ করতে হবে।


EmoticonEmoticon