শনিবার, ২৬ মে, ২০১৮

জীবনানন্দ দাশ

অনেক কবিতার কালো অক্ষরের
বাঁকানো পথে হেটেছে হৃদয়,
কালো!
তবু সেই কালোয়
রবীন্দ্রনাথের মত দীপ্ত সূর্য ছিলো,
অনিকেত ইশারায় আমার ভোলানো মন
শরীরের গহ্বর থেকে উঠে এসে
যখন আকাশে তাকালো
মনে হল
রবীন্দ্রসঙ্গীত কি কেবল ধ্বনি?
নাকি ঈশ্বরের মৃত্যুর আগে
তার অলৌকিক হৃদপিন্ড চেরা
বিকীর্ণ কোন আলো!

অনেক অক্ষর!
তবু মনে হয় মহাসিন্ধুর উত্তাল ঢেউ
সাদা পৃষ্ঠায়,
সেইখানে প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়ে রাখা
নজরুলের সাক্ষর,
আমি তার ঝড় ভালোবাসলাম,
আমি তার মেডুসার সর্পচুলের অবাধ্য ফনায়
আমার হৃদয় বাঁধলাম।

ও কে?
অস্পষ্ট অবলোহিত আলোয়
একা একা কথা কয়,
মহাকাল কে ধীরে ধীরে
গুটিয়ে নিচ্ছে
আনমনে হাতের আস্তিনে
অজস্র নক্ষত্র বলয়িত তাকে ঘিরে
ঊষার সূর্য হতে তার হিম হাত
কোন মৃত্যুর সন্ধ্যাকে ছানে?
চোখ দুটি তার বুনোহাঁস
নীলিমায় নিঃশব্দে উড়ে যেতে জানে,
হৃদয় তার পৃথিবীর শেষ ম্যাটাডোর
অবোধ্য অবচেতনে ঘুরেফিরে
যেই সব লাল অবাধ্য ষাড় দেয় দৌড়
তাদের গলায় তার আঙুল
হয়ে আছে অদৃশ্য লেসোর ফাঁস।
জীবনানন্দ দাশ!
আমার অচেনা অনুভুতির শুষ্ক জিভে
তুমি কি ঠান্ডা বরফ
নাকি উত্তপ্ত লাভার নিঃশ্বাস?


EmoticonEmoticon