মঙ্গলবার, ২৯ মে, ২০১৮

ভাবনার এরোপ্লেন

যদি অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা কোনো বিশ্বাসকে বাধ্যতামূলক করে তোলে তবে একশ্রেণির মানুষ হবে অনুগত এবং অপর একশ্রেণির মানুষ হবে বিদ্রোহী।

অনুগতরা তাদের বিশ্বাসমালা ছড়িয়ে দিতে চাইবে সর্বত্র কেননা বিশ্বাস টিকিয়ে রাখতে আরও আরও বিশ্বাসীর উৎসাহ এবং সমর্থনই হয় তাদের চালিকাশক্তি । বিশ্বাসের ক্ষেত্রে প্রতিটা বিশ্বাসী একা একা খুবই দুর্বল এবং অসহায়। ক্ষুদ্র দলের বিশ্বাসীরা প্রথমে আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র ধরে, তারপর তাদের বিশ্বাস প্রশ্নাতীত করার জন্য নিজেরাই অনবরত যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এটা সত্যি কোনো ক্ষুদ্র বিশ্বাসী গোষ্ঠীই টিকে নি, কারণ বিশ্বাস অন্যের সমর্থন ছাড়া মৃত। এটা খালি চোখেই দেখা যায় যে ক্ষুদ্র বিশ্বাসগুলো পৃথিবী থেকে উঠে যাচ্ছে এবং গেছে।
বিশ্বাস টিকিয়ে রাখতে টাকা এবং তলোয়ারের কোনো বিকল্প নেই।
ক্রমশ এই বিশ্বাস তাদের স্বাধীনতা, মুক্তি, ভালবাসা, দায়িত্ববোধ ও গঠন মূলক চিন্তার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আর এই তথাকথিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার উদ্দেশ্যও এটাই। এটাই পুঁজিবাদ।
এই ব্যবস্থা এমন একটা বিশ্বাসের দাস তৈরি করবে, যারা মনে করবে, তাদের বিশ্বাসই আসলে তাদের জ্ঞান। এরা বিশ্বাসের বিরোধিতাকারীদের দেখে হাসবে, দেখাবে আত্মগরিমা। দেবে চাপাতিতে শান।
বেড়ে উঠবে লোভ, লালসা, অহংকার, আত্মমগ্নতা এবং বাধাবে যুদ্ধ।
বিশ্বাসগত বশ্যতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো আবেগিক ও বুদ্ধিগত পঙ্গুত্ব। আর এইসব মানসিক বিকলাঙ্গতাই পুঁজিবাদের প্রাণ।
মানসিক বিকলাঙ্গতা না হলে যুদ্ধ বাধানো যাবে?
মানসিক বিকলাঙ্গতা না হলে টাকাকে ঈশ্বর বানানো যাবে?
মানসিক বিকলাঙ্গতা না হলে মানুষকে ভোগসর্বস্বতায় ডুবিয়ে দেয়া যাবে?
মানসিক বিকলাঙ্গতা না হলে যৌনচিন্তায় ভরিয়ে দেয়া যাবে সব মানুষের পুরো মস্তিষ্ক?
বাধানো যাবে হিংসার জালে? করানো যাবে খুন? করানো যাবে ধর্ষণ?
ধর্ষণ ভোগেরই চূড়ান্ত রূপ। মাসসিক বিকলাঙ্গতা না থাকলে ধর্ষণ সম্ভব?

বিশ্বাসের আধিপত্য এখন আসলে পুঁজিরই আধিপত্য।
বিশ্বাসের দাস আসলে পুঁজিরই দাস।
বহুলস্বীকৃত, টাকা হচ্ছে দ্বিতীয় ঈশ্বর!
আর প্রথম ঈশ্বর? প্রথম ঈশ্বর পৃথিবীতে সংগঠিত অসংখ্য ধর্ষণ উপভোগ করেন আর মাস্টারবেশনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আর ঘুমান। আবার ধর্ষণ দেখেন, মাস্টারবেশন করেন, আবার ঘুমান।

আসলে পুঁজিই বিশ্বাসীদের আসল ঈশ্বর।


EmoticonEmoticon