রবিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৮

শেখ হাসিনার 'হাফ-সৌদি' সার্টিফিকেট প্রসঙ্গে

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান 'হাফ-সৌদি' বলে মৌখিক সার্টিফিকেট দেওয়াতে তিনি আহ্লাদিত ও আনন্দিত।

বাঙালী মুসলমানদের মধ্যে আরব বংশোদ্ভূত হওয়াকে একসময় গর্বের বিষয় মনে করা হতো ঠিক, কিন্তু ১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন জাতি হিসেবে বাঙালীর আত্মপ্রতিষ্ঠার পর তার বাঙালী হিসেবেই গর্বিত হওয়ার কথা।

শেখ হাসিনার পূর্ব-পুরুষ এক সময় আরব থেকে বঙ্গদেশে এসেছিলেন বলে একটা কাহিনী এমনিতেই প্রচলিত আছে। ফলে, শেখ হাসিনার হাফ-সৌদি সার্টিফিকেট পাওয়া তাঁর পূর্ব-পুরুষের স্মৃতির সাথে সম্পূরক হতে পারে। কিন্তু আমরা ভুলতে পারি না বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে এই সৌদি আরবের কী অবস্থান ছিলো।

যে-সৌদি আরব বাংলাদেশের স্বাধীনতা যদ্ধে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হয়নি। এই সৌদি আরবই শেখ মুজিবুর রহমান জীবিত থাকা অবস্থায় দেশটির স্বীকৃতি দেয়নি; স্বীকৃতি দিয়েছে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাষ্টে তাঁর হত্যাকাণ্ডের পর প্রসন্নতার ইঙ্গিত রূপে ১৬ই অগাষ্টে। তাই, এহেন সৌদি আরবের 'হাফ-সৌদি' স্বীকৃতি পেয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার আত্মতৃপ্তি শেখ মুজিবুর রহমান ও বাঙালী জাতির জন্যে সত্যিই অমর্য্যাদাকর।

বাঙালী জাতির মর্য্যাদার প্রশ্নে আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার জন্যে যতোই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলুন না কেনো, তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেন না এবং বাঙালী জাতির মর্য্যাদা বুঝেন না।

আমি মনে করি, এহেন শেখ হাসিনার নৈতিক অধিকার নেই বাঙালী জাতি ও  বাংলাদেশকে বিশ্ব-সভায় প্রতিনিধিত্ব করার। আর, বাস্তবে তিনি যেভাবে গত নির্বাচনে 'বিজয়ী' হয়েছেন, তাতে বলা যাবে না যে তিনি বাংলাদেশের জনগণের নির্বাচিত সরকার-প্রধান।


EmoticonEmoticon