ব্রিটেইনের প্রধানমন্ত্রীকে সাংবাদিক বলতে পারেন যে, লোকেদের অভিযোগ হচ্ছে "আপনি একটি কুত্তা।" বাংলাদেশের কোনো মাতৃপুত্র সাংবাদিক আছেন যিনি সে-দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এমন কথা বলতে পারেন?
আসলে এটি মাতৃপুত্রের বিষয় নয়, এটি হচ্ছে একটি সমাজে ব্যক্তির কথা বলার স্বাধীনতা তথা গণতান্ত্রিক অধিকার-বোধের প্রশ্ন। প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা, এক রাজনীতিক-ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেনকে এক নারী-সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন তিনি যুক্তফ্রণ্ট বা ঐক্যফ্রণ্টে জামায়েতে ইসলামীর প্রতিনিধিত্ব করেন কিনা, এবং তাতেই তিনি রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে সেই নারীকে চরিত্রহীন বলে গাল দিলেন।
ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন ব্রিটেইন থেকে পড়ে ব্যারিষ্টার হয়েছেন বটে, কিন্তু ব্রিটিশ শিষ্টতা শেখেননি। ব্রিটিশ শিষ্টতা কী, তা বুঝাতে পাঠকদের বুঝাতে একটি সত্য ঘটনা বলছি।
২০০২ সালের ১৬ই মে তারিখে প্রখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের সাক্ষাতকার নিতে গিয়ে এক পর্যায়ে তাঁকে বলেন তাঁর বিরুদ্ধে জনগণের অভিযোগটা কী। নীচে আমি জেরেমি প্যাক্সম্যান ও টনি ব্লেয়ারের প্রাসঙ্গিক প্রশ্নোত্তরের হুবহু তুলে দিচ্ছি বঙ্গানুবাদ-সহ।
JP: You know what the accusation is, they say you're a poodle.
অর্থাৎ, "আপনি জানেন অভিযোগটা কী, তারা বলে আপনি একটি কুত্তা [চামচা অর্থে]।"
TB: Yeah, of course. That's what people do. What they want to do is to pull us apart, to say to people you have to choose between somehow your relationship with Europe, your relationship with America. I totally, fundamentally, dispute that. We are stronger if we're a partner of America in Europe, and we are stronger, with Europe, if we are a partner of America.
অর্থাৎ, "হ্যাঁ, অবশ্যই। এটিই মানুষ করে। তারা যা চায়, তা হচ্ছে আমাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি ঘটাতে, মানুষকে বলতে যে আপনাকে কোনো-না-কোনোভাবে বেছে নিতে হবে ইউরোপের সাথে আপনার সম্পর্ক [ও] আমেরিকার সাথে আপনার সম্পর্কের মধ্যে [একটি]। আমি সম্পূর্ণরূপে, মৌলিকভাবে এর আপত্তি করি। আমরা অধিকতর শক্তিশালী হই যদি আমরা ইউরোপে আমেরিকার একজন পার্টনার হই, আমরা ইউরোপের সাথে অধিকতর শক্তিশালী হই, যদি আমরা আমেরিকার অংশীদার হই।"
পাঠক, এবার বুঝুন ব্রিটেইন থেকে ব্যারিষ্টার হয়ে যাওয়া আর ব্রিটিশ শিষ্টতা শেখা এক কিনা।
EmoticonEmoticon