রবিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৮

De Tribus Impostoribus

ত্রয়োদশ শতাব্দীতে একটি গ্রন্থ সমগ্র ইউরোপ জুড়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। গ্রন্থটির নাম De Tribus impostoribus. বাংলা করলে গ্রন্থটির নামের অর্থ দাঁড়ায় 'তিন ভন্ড '। উক্ত গ্রন্থে বলা হয়েছে বিশ্ব তিনজন ভন্ডের দ্বারা প্রতারিত হয়েছে। ¹
তিনটি বিরাট জনসম্প্রদায় তিন ভন্ডের দ্বারা সম্মোহিত হয়ে বিপথে পরিচালিত হয়েছে। মুসা, যিশু ও মুহাম্মদ - এই তিনজনকে 'তিন ভন্ড ' বলে এই পুস্তকে উল্লেখ করা হয়। ²
তিন ভন্ডের প্রত্যেকে  মানবজাতির কতটুকু ক্ষতি করেছেন বিভিন্ন জন তা বিভিন্ন ভাবে ব্যখ্যা করার প্রয়াস পেয়েছেন।
"It would be difficult to say how much harm has been done ,in corrupting the morals of men as well as women, by each of them --.The truth is that each of the three imposters has been a gigantic obstacle to moral and intellectual progress-----. They have placed in the way of human development many nasty stumbling-blocks." ³
'তিন ভন্ড 'গ্রন্থটি রাখার অপরাধে কয়েকশত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। দুজন ব্যক্তিকে এই গ্রন্থটির রচয়িতা হিসাবে সন্দেহ করা হত। একজন আরব দার্শনিক ইবনে রুশদ, অন্যজন ধর্মত্যাগী ফ্রেডরিক দ্য গ্রেট। ⁴

বহুদিন গ্রন্থটি সমন্ধে শুধু মিথ প্রচলিত ছিল। কারণ গ্রন্থটির কোন কপি বা পান্ডুলিপি তখন পর্যন্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তাই কাল্পনিক গ্রন্থের উপর গবেষণা করতে গিয়ে স্প্রাম ডি কাম (Sprague de Camp ) এ গ্রন্থটিকেও কাল্পনিক বলে উল্লেখ করেন।
কিন্তু আনন্দের কথা গ্রন্থটি আবিষ্কৃত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সি.আই.এ. এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের কে.জি.বি. গত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসী বাহিনী কর্তৃক চুরি করে নেয়া মূল্যবান সম্পদ খুঁজে বেড়াচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে। বিশেষ করে তারা খোঁজ করছিল রাশিয়ার জার প্রথম পিটারের 'আম্বার চেম্বার '।নাৎসীদের কাছ থেকে সেসব সম্পদ আবার কারা চুরি করেছিল তা জানতে পারা যায়নি। সি. আই. এ.পিটারের চেম্বার অস্ট্রিয়ায় খুঁজে পেয়েছে। মহমতি পিটারের এক বিরাট লাইব্রেরি ছিল। সে লাইব্রেরীতে কমপক্ষে চল্লিশ ওয়াগন পুস্তক ছিল। লাইব্রেরীটি হঠাৎ রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়। সোভিয়েত রিপোর্ট অনুযায়ী কোন এক অদৃশ্য দেবতার দল যেন সেসব চুরি করে নিয়ে পালিয়েছে। কেউ দেখতে পায়নি!
কিন্তু সি.আই.এ. 'তিন ভন্ড 'গ্রন্থের সন্ধান পেয়ে যায় এবং তা কে.জি.বি.কে জানিয়ে দেয়। কে.জি.বি. ইতালি থেকে গ্রন্থটি উদ্ধার করে। মস্কোর Museum of Atheismএ এই দুর্লভ গ্রন্থটি সংরক্ষিত আছে। হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত জানা গেছে গ্রন্থটির রচয়িতা সম্রাট ফ্রেডরিক দ্য গ্রেট।

স্বরণ রাখা ভালো, ১২১০ ও ১২১৫ সালে ইবনে রুশদের আরবি ভাষ্য সমগ্র ইউরোপে নিষিদ্ধ ছিল; 'তিন ভন্ড ' গ্রন্থের রচয়িতা সন্দেহে।

1. The world had been deceived by three imposters - J.B.Bury. A history of freedom of thought, London: 1952.
2. The three imposters of the title are Moses,Jesus and Mohammed-Jacques Bergier,  La  Grande Conspirtion Russoamericane, Editor- Album Nickel, Paris: 1978.
3. On the philosopher of Destruction of Destruction- Shafiqur Rahman, The iconoclast (USA),December 1979,p.136.
4.The Historical Role of Islam, M.N.Roy , বাংলা অনুবাদ -ইসলামের ঐতিহাসিক অবদান, মুহম্মদ আবদুল হাই, তৃতীয় সংস্করণ ( স্টুডেন্ট ওয়েজ : ঢাকা) ১৯৬৯, পৃ: ৮৫।


EmoticonEmoticon