রবিবার, ৫ মে, ২০১৯

৫ই মে

যুদ্ধপরাধীদের বিচার নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বলেছিলেন, আমরা যুদ্ধপরাধীদের প্রতিকী বিচার করবো। সৈয়দ আশরাফের মুখে এ কথাটি শোনার জন্য অনেকেই প্রস্তুত ছিলেন না।

৫ই মে হেফাজতের তান্ডবের দিন রাতে তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ হেফাজতকে বাড়ী ফেরার জন্য আল্টিমেটাম দিয়ে কিছু কথা বলেছিলেন, সৈয়দ আশরাফের সে ভাষণটি ছিল কম কথার মধ্যে চমৎকার একটি ভাষণ।
সৈয়দ আশরাফের রাজনৈতিক জীবনে সে বক্তব্যটি, অন্য যে কোন বক্তব্যের চাইতে অধিকতর ঋজু ও সাবলীল ছিল।

৫ই মে হেফাজতকে এভাবে উচ্ছেদের বাইরে অন্যকোন বিকল্প ছিল কী? এখন দেখা যাচ্ছে এতিম ছেলেদের এভাবে মেরে কেটে বিদায় করা ঠিক হয়নি মর্মে অনেকেই বেশ কান্নাকাটি করছেন।

তা সেদিন পুরোটা দিন মতিঝিল ও পল্টনে যে রকমের তান্ডব হয়েছে, দুদিন পরে শুনতে পাব মহাজোটের কর্মীরাই এ সমস্ত কাজ করেছে।

মতিঝিলের ক্লাব পাড়ার পিছনের মসজিদে একদল মোটরবাইক ও সাইকেলে বোমার ব্যাগ নিয়ে রাখছে, আরেকদলকে দেখেছি সেগুলো নিয়ে পল্টনে সিপিবি অফিসের পিছন দিক থেকে পুলিশের উপর ছুঁড়তে।

হেফাজত প্রধান যুদ্ধপরাধী শফী ওরফে তেঁতুল ৫ই মের হেফাজতের তান্ডব নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন সমানে। নিহত ও নিখোঁজের তালিকা দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন তেঁতুল ও বাবু নাগরী গং। এর সাথে যোগ দিয়েছিলেন সাবেক জাসদকর্মী ও পরে জান্তা জিয়ার দলের সমর্থক বনে যাওয়া অধিকারের আদিলুর রহমান শুভ্র।

হেফাজত ও আদিলুর রহমান শুভ্ররা, হেফাজতের হাজার হাজার কর্মী নিখোঁজ হয়েছে মর্মে মাতম করলেও পরে দেখা গিয়েছে যে নিহত হেফাজতরা বাড়ী ফিরছে।

যুদ্ধুরাধীদের রক্ষায় হেফাজত মাঠে নেমেছিল বিএনপির বুদ্ধিজীবী মাহমুদুর রহমান ও ফরহাদ মজহারের কূট কৌশলে পাকিস্তানী প্রেসক্রিশনে।

একটি অনৈতিক ও  আদর্শহীন রাজনৈতিক এনার্কীতে নেমেছিল হেফাজত। যুক্তিহীন ও বল্গাহীন কথাবার্তা বলে হেফাজত ধর্মকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রক্ষমতার পটপরিবর্তন করতে চেয়েছিল জামাত - বিএনপির পক্ষে।

আদর্শহীন ও মিথাচারে পটু হেফাজত সামনের দিনগুলোতেও নানান রকম রাজনৈতিক প্রশ্নে মিথ্যাচার করে আমজনতাকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলার চেষ্টা করবে।

মুখে শেখ ফরিদ বগলে ইট এ হচ্ছে হেফাজত, আর হেফাজতের রাজনৈতিক তত্ত্বের যোগানদাতারা হচ্ছেন মাহমুদুর রহমান ও ফরহাদ মজহার গংরা, বড় দুঃখের বিষয় আজকের সমাজে এদের কদর যেন বেড়েই চলছে যার ফলে স্বাধীনতাকামি ও আমজনতার সামনে শুধু বিপদ আর বিপদ! এর থেকে মুক্তি পেতে হলে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাড়াতে হবে নয়তো মৃত্যু অনিবার্য।


EmoticonEmoticon