প্রথমে শোষণ করুন,
এরপর দখল,
ভয় লাগান,
নিজপক্ষের কিছু জানোয়ার ঢুকিয়ে দিন ওখানে,
ওরাই ভয় লাগাবে, মাঝেমাঝে ধর্ষণ করবে কেননা ওরা মাতৃতান্ত্রিক,
এবং আপনি জানেন, ভয় লাগানোর জন্য ধর্ষণের গুরুত্ব কতোটুকু,
নিজের পক্ষ থেকে একটি সরকার বসিয়ে দিন ওখানটায়,
নিজের ভাষা, ধর্ম আর সংস্কৃতি দিয়ে জড়িয়ে ধরুন ওদের ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতিকে,
প্রচার করুন, আপনার ভাষায় না আসলে ওরা অনাধুনিক হয়ে যাবে, জংলী হয়ে যাবে, পতিত হয়ে যাবে,
মাঝেমাঝে আগুন ধরিয়ে দিন রাতের আঁধারে,
অথবা গুজব রটিয়ে দিন কোন হত্যাকান্ডের,
এরপর দখল করুন, আরো দখল করুন,
পর্যটন স্পট বানিয়ে ফেলুন ওদের বসতবাড়িঘর,
বিদ্যুৎ উৎপাদন করুন ওদের বুকের উপর দিয়ে,
প্রচার করুন, ওদের মেয়েরা আপনাদের ছেলেদের ছাড়া রাতে ঘুমোতে পারে না,
প্রচার করুন, ওদের খেলার সাথে আপনাদের খেলা মিলে না,
প্রচার করুন, ওদের সাথে আপনাদের বনে না, কিছুতেই,
সশস্ত্র বাহিনীকে নিযুক্ত করুন যেহেতু ইদানিং কেউ কেউ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে,
প্রচার করুন, ওরা বিচ্ছিন্নতাবাদী,
প্রচার করুন, ওদের নেতা দেশদ্রোহী ছাড়া কিছুই নয়,
বিড়ি জ্বালাতে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দিন,
ঠেলতে থাকুন, ওদের আরো ঠেলতে থাকুন,
আরো গভীর পাহাড়ের দিকে সরাতে থাকুন ওদের,
মসজিদ বানান নতুন দখলীকৃত অঞ্চলগুলোতে,
ওদের তালিম দিন বাঙালিত্বের আর মুসলমানিত্বের,
মদ খান ওদের ঘরে গিয়ে আর শান্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসুন,
এরপর ওদের মন্দিরগুলোতে ঝাঁপিয়ে পড়ুন যেহেতু ওরা আপনার ঈশ্বরকে অপমান করেছে বলে গুজব রটিয়েছেন আপনারাই,
পারলে কিছু মীরজাফর তৈরী করুন,
সেসব মীরজাফরদের দিয়ে নানা ধরণের সংবাদ সম্মেলন করান বিভিন্ন স্থানে,
আর এদিকে চাপিয়ে দিতে থাকুন, দখল করতে থাকুন,
প্রচার করুন, ওরা এতোটাই নৃশংস যে আপনাদের কেউ বিনা অস্ত্রে ওদিকে গেলে, খেয়ে ফেলতে পারে ওরা,
ওদের প্রতি ভয় তৈরী করুন,
ওদের ভেতর ভয় তৈরী করুন,
ওদের আবৃত করুন ভয়ে,
এরপরও যদি ওরা না দমে যায় এবং বিচ্ছিন্নতার সুরে কথা বলে,
ওদের পেছনে লেলিয়ে দিন আপনার সুসজ্জিত সেনাবাহিনীর একাংশকে,
এভাবে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত, আপনার মতো দেশপ্রেমিকের কবলে থাকতে থাকতে ওরা যদি একদিন স্বাধীনতা ঘোষণা করে বসে,
ওদের অবাঙালি, অমুসলমান, দেশদ্রোহী, আদিবাসী জংলী, এসব নাম দিয়ে ওদের উপর একটা যুদ্ধ চাপিয়ে দিন,
আপনার সেনাদের পাঠান ওখানে,
সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্য ইনডেমনিটি আইন পাশ করুন পার্লামেন্টে,
ওদের বলে দিন, যতোদিন একজন প্রতিবাদ করার মতো বেঁচে থাকবে, ততোদিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।
শেষতক, আপনি দেখবেন,
একাত্তরে আপনি যাদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছিলেন, তাদের সাথে আপনার খুব একটা পার্থক্য নেই ।
EmoticonEmoticon