বুধবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৭

"রানওয়ে" তারেক মাসুদের অনন্য কীর্তি।

সামাজিক নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা ও ঘটনাগুলো যে এত সহজ ও স্বাভাবিকভাবে ফুটিয়ে তোলা যায় তা রানওয়ে মুভিটা না দেখলে বোঝাই দুঃস্কর।তারেক মাসুদ নির্মিত রানওয়ে মুভিটা মুক্তি পায় ২০১০ সালে। মাদরাসা পড়ুয়া রুহুল ও তার পরিবারকে নিয়ে গড়ে ওঠে সিনেমাটির গল্প। সহজ ও ঠান্ডা মেজাজের রুহুল আলিয়া মাদরাসার দাখিল শ্রেনি থেকে ঝরে পরা ছাত্র। পিতা জায়গা জমি বিক্রি করে ভাগ্য ফেরাতে পাড়ি জমায় কুয়েত এ।
মা দাদা ও বোনকে নিয়ে রুহুল পাড়ি জমায় ঢাকা বিমানবন্দর এর রানওয়ে এলাকায়। ক্ষুদ্র ঋন নিয়ে গরু কিনে পালন করে মা ও স্থানীয় একটা গার্মেন্টস এ কাজ নেয় রুহুলের বোন।বেকার রুহুল চাকরির জন্য অনেক জায়গায় ঘুরতে থাকে।ঘটনাচক্রে মামার সাইবার ক্যাফেতে পরিচয় হয় কম্পিউটার পারদর্শী ইসলামিক জঙ্গি আরিফের সাথে।মাদরাসার ছাত্র হওয়ায় খুব দ্রুতই জড়িয়ে পরে জঙ্গি তৎতপড়তার সাথে।এরপর ঘরের টিভি দেখা,বোনের পর্দা ও মায়ের ঋনের টাকায় গরু কেনা নিয়ে তৈরী হয় দ্বন্দ। একপর্যায়ে সরাসরি জঙ্গি কর্মকান্ডে লিপ্ত হয় রুহুল।এভাবেই এগুতে থাকে সিনেমার গল্প। চলচ্চিত্রটি দেখে ক্ষণিকের জন্য তারেক মাসুদকে ইসলামবিদ্বেষী মনে হতে
পারে। তবে একটু ভালো করে খেয়াল করলে
দেখা যাবে, তিনি ধর্মের লেবাসে থাকা
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।
এখানে তিনি কাহিনী বলার ক্ষেত্রে
আগ্রাসী হননি। নম্রভাবে তিনি এসব বিষয়
তুলে ধরেছেন।
সিনেমার লোকেশন গুলো একেবারই গল্পের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন।মিশুক মুনীরের চিত্র গ্রহন ছিল দেখার মতো!অভিনয় শিল্পিদের প্রায় সকলেই নতুন মুখ।তারপরও স্বাবলীল অভিনয়ে মুগ্ধ করেছে সবাইকে।তারেক মাসুদ
বলতেন আমি মানুষের জন্য সিনেমা বানাই।
কথাটা যে কতটা সত্য তা "রানওয়ে" না
দেখলে বোঝানো যাবেনা।
সর্বশেষ ধর্মীয় উগ্র তত্বগুলো কাজে লাগিয়ে কিভাবে কিশোর ও তরুনদের দিয়ে নিজেদের ফায়দা হাসিল করে জঙ্গি ও মৌলবাদি দলগুলো তারই জলন্ত সাক্ষী যেন "রানওয়ে"সিনেমাটি।


EmoticonEmoticon