মোঃ আব্দুল করিম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মোঃ আব্দুল করিম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৯

সমস্যা এদের মস্তিষ্কে...

বিশুদ্ধ সৌন্দর্যের প্রতীক।
সুন্দর মন আর সুষ্ঠ মস্তিষ্ক ছাড়া এই সৌন্দর্য  উপভোগ করা যায় না।
ওরাই এতে অশালীন দেখতে পায় যারা সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ দান কালে যৌনতা আবিস্কার করে । আমি ধরে নিলাম এটা লেংটু এর ফলে লজ্জা শরম মানুষের কমে যাচ্ছে, তাহলে কি ধর্ষকেরা এটা দেখেই ধর্ষণ করা শিখেছে? ঘরে ঘরে যে ছেলে মেয়েরা প্রতিমহূর্ত যখন তখন পর্ণ ভিডিও দেখতেছে, এই ভাস্কর্য এর জন্যে দায়ি? এই ভাস্কর্য দেখে যাদের চোখমুখ লজ্জায় লাল হয়ে যা তাদের কি লজ্জার প্রকাশ পায় তখন যখন: ১। বাবা কর্তৃক মেয়ে ধর্ষণ
২।হুজুর, শিক্ষক, ভাই,দুলাই ভাই,চাচাতো ভাই,মামাতো ভাই,বড়া বেটা,পথচারী ইত্যাদি কর্তৃক নারী,শিশু,যুবতী, বৃদ্ধা,প্রতিবন্ধীরা ধর্ষণের স্বীকার?
৩।যে বইয়ে লেখা থাকে অন্যধর্মের নারীদের ধর্ষণ বৈধ অথচ সেইসব বইকে সংরক্ষণ করতে দেখে?
৪।যখন সংখ্যালগু নারীরা পালাক্রমে ধর্ষণের স্বীকার হয়? এবং পালাক্রমে ধর্ষণের খবর দেখে?
৫।ছোট থেকে বড় সকলে যখন সকল বয়সি নারীদের ইভটিজিং করে, ভন্ডরা নারীদের তেতুল বলে, আমিনী হুজুররা যখন ইভটিজিং করার উস্কানি দেয় তখন?
পোশাক যদি শালীনতার এত বড় অংশই হবে তাহলে ঈশ্বর কেন মানুষকে পোশাক ছাড়া পাঠায়? এত লজ্জাধারি মানুষ এদেশে থাকতে প্রায় ১৭কোটি জনগণ হলো কেমনে খুব জানতে মন চায়। এত শালীন মানুষের এই সমাজ তারপরেও কেন খবরে দেখি ডাস্টবিনে পাওয়াগেল নবজাতকের লাশ,গর্ভপাত করাতে গিয়ে তরুনীর মৃত্যু, অবিবাহিতা হলো সন্তানের জননী,পাগলীটা হলো এবার মা,৪র্থ শ্রেণীর মেয়ে মা হলো সন্তানের নাম অত্যাচার! দেশে গুম, খুন, ধর্ষণ, ধর্মের ব্যবসা,দূর্নীতি, ঘোষ,বিচারহীনতা দেখে চুপ থাক আর দাতখেলিয়ে শেয়ালের মত চিৎকার করে ওঠ ভাস্কর্য ভাঙ্গ শালা হারামজাদারা!

বুধবার, ৮ আগস্ট, ২০১৮

কে ইনি শহীদুল আলম ?

শহিদুল পদকজয়ী ফটোএজেন্সি দৃক প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত ‘পাঠশালা’ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রখ্যাত ফটোগ্রাফি স্কুল। এই স্কুলে পড়তে বিদেশ থেকে শিক্ষার্থী ও অতিথি শিক্ষকরা আসেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক ইন্সটিটিউট ও সাউথ এশিয়ান ইন্সটিটিউট অব ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠা করেছেন। দৃক ও পাঠশালা - দুই প্রতিষ্ঠানই তিনি গড়েছেন নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে।

তার সবচেয়ে সফল সৃষ্টি হলো ছবি মেলা। এই আন্তর্জাতিক চিত্রপ্রদর্শনীতে বিশ্বের সব জায়গা থেকে কাজ জমা পড়ে। অংশ নিতে ঢাকায় আসেন বিশ্বের সেরা সব ফটোগ্রাফাররা। ২০০০ সালে শুরু হওয়া এই চিত্রপ্রদর্শনীর প্রথম থিম ছিল ‘যেই যুদ্ধ আমরা ভুলে গেছি।’ এটি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণহত্যা নিয়ে সবচেয়ে সফল চিত্রপ্রদর্শনীর একটি।

১৯৮৩ সালে তিনি হার্ভে হ্যারিস ট্রফি জেতেন। ১৯৯৩ সালে তথ্যচিত্রের জন্য জিতে নেন মাদার জোন্স পদক। ‘৯৮-এ তিনি আন্দ্রে ফ্রাঙ্ক ফাউন্ডেশন ও হাওয়ার্ড চ্যাপনিক অ্যাওয়ার্ডস লাভ করেন। ২০১৪ সালে শিল্পকলা পদক ও ২০১৭ সালে চীনের ডালি ইন্টারন্যাশনাল চিত্রপ্রদর্শনীতে আজীবন সম্মাননা লাভ করেন। এই বছর তিনি পান লুসি ফাউন্ডেশন হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাওয়ার্ড।

চিত্রগ্রাহক হওয়ার পাশাপাশি তিনি লেখক, কিউরেটর ও অ্যাক্টিভিস্ট। ২০০৭ সালে তিনি কাশ্মীরের ভূমিকম্প নিয়ে ‘নেচার’স ফিউরি’ ও দক্ষিণ এশিয়ায় এইচআইভি/এইডস নিয়ে ‘পোর্ট্রেইট অব কমিটমেন্ট’ শীর্ষক দুটি বই লিখেন। তার লেখা বই ‘মাই জার্নি অ্যাজ অ্যা উইটনেস’ সম্পর্কে লাইফ ম্যাগাজিনের সাবেক পিকচার এডিটর জন মরিস লিখেছেন, কোনো চিত্রগ্রাহকের লেখা সর্বকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বই এটি।

লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্গানিক কেমিস্ট্রি নিয়ে পিএইচডি আছে তার। যুক্তরাজ্যের সান্ডারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইউসিএলএ) তিনি ভিজিটিং প্রফেসর। এছাড়া হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি লেকচারার ছিলেন।

মূল লিখা তত্ত্ব  : মাহফুজ আনাম , ডেইলি ষ্টার

রবিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৭

রুশ বিপ্লব ও কমরেড লেনিন

বিগত ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর রুশ দেশে বলশেভিক পার্টি ও তার নেতা কমরেড লেনিনের নেতৃত্বে মহান অক্টোবর বিপ্লব সম্পন্ন হয়। বলশেভিক পার্টিকে ১৯০৫ সালের বিপ্লবী উত্থান, ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়ে ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে মহান সর্বহারা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে হয়। অক্টোবর বিপ্লব ছিল শ্রমিক শ্রেণির এক সফল পদক্ষেপ, পৃথিবীর ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। ১৮৭১ সালে ঐতিহাসিক প্যারি কমিউন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রমিক শ্রেণি রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের প্রয়াস চালালেও নানা কারণে তা ব্যর্থ হয়। রুশ দেশের শ্রমিক শ্রেণি প্যারি কমিউনের অজেয় শিক্ষা সামনে নিয়েই ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বরঅক্টোবর বিপ্লবের মধ্য দিয়ে পুরাতন স্বৈরতান্ত্রিক জারতান্ত্রিক রাষ্ট্র যন্ত্রকে চূর্ণ করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে পৃথিবীর বুকে প্রথম শ্রমিক শ্রেণির রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করে। অক্টোবর বিপ্লবের মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রে পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার বিপরীতে সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটে। অক্টোবর বিপ্লবের পর রুশ দেশের শ্রমিক শ্রেণি মানুষের ওপর মানুষের চাপিয়ে দেওয়া শোষণের চির অবসান ঘোষণা করে শ্রেণিহীন সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণের পথে যাত্রা শুরু করে। ইতিপূর্বেকার বিপ্লবগুলি শুধুমাত্র এক শোষকের পরিবর্তে অন্য শোষকের নিকট ক্ষমতার হস্তান্তর ঘটেছে। এই ক্ষেত্রে অক্টোবর বিপ্লব ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। অক্টোবর বিপ্লব নিছক এক শোষকের পরিবর্তে অন্য শোষকের নিকট ক্ষমতার হস্তান্তর ছিল না। অক্টোবর বিপ্লব জারতন্ত্রকে উচ্ছেদ করে, কুলাকদের জমি বাজেয়াপ্ত করে ও তাদের ক্ষমতাকে ধ্বংস করে; গির্জা ও মঠের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রের সম্পত্তিতে পরিণত করে; পুরোহিততন্ত্র ও ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করে। অক্টোবর বিপ্লব পুঁজিতন্ত্রকে চূর্ণ করে, বুর্জোয়া শ্রেণির নিকট থেকে উৎপাদনের সকল উপকরণগুলি ছিনিয়ে নেয়; কলকারখানা, জমি, রেলপথ, ব্যাংক প্রভৃতিকে সমগ্র জনগণের সাধারণ সম্পত্তিতে পরিণত করে। অক্টোবর বিপ্লব বুর্জোয়া শ্রেণি ও জোতদার জমিদারদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাদের ক্ষমতাকে চূর্ণ করে রুশ দেশে সোভিয়েত যুগের সূচনা করে।

জীবন বাচাতে নামতেই হবে যোদ্ধে ।

সমীক্ষা বলছে , হাঙ্গার ইন্ডেক্স এ ১১৯টি দেশের মধ্যে ভারত ১০০তম । ২০১৪ সালে খুদা সূচকে গোটা বিশ্বে ভারত ৫৫তম স্থানে ছিল । ২০১৬ তে ৯৭ এ নেমে আসে । ব্রিক্স-ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারতের স্থান সর্বনিম্ন । সমীক্ষাটি চালিয়েছে " ইন্টার ন্যাশন্যাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট " । তাহলে প্রশ্ন ওঠে ভারত প্রচন্ড ক্ষুদা সংকটে ভুগছে । আমরা ইতিপূর্বে জানি আফ্রিকান দেশগুলোতে খাদ্য সংকট এত মারাত্মক আকারে আছে যে বেশীর ভাগ মানুষকেই খাদ্য বানাতে হয় মাটির সঙ্গে বিভিন্ন বনজ উপকরণ মিশিয়ে । ভারতবর্ষে ষাঠের দশকে সবুজ বিপ্লব আনা হয়েছিল কৃষি ব্যবস্থায় । জাতিসঙ্ঘের খাদ্য কৃষি সংস্থা (এফ এ ও ) খাদ্য নিরাপত্তার একটি তালিকা তৈরী করেছিল ১৯৯৬ সালে রোমে একটি আন্তর্জাতিক সন্মেলনের মাধ্যমে । বর্তমানে  আমাদের দেশে তথা ভারতীয় উপমহাদেশে চালের দামে উর্ধগতি আগামী দিনের আতংক বয়ে নিয়ে আসছে । খাদ্য নিয়ে বিভিন্ন দেশে দাঙ্গা শুরু হয়ে গিয়েছে । ক্যামেরুন,মিশর ,মেক্সিকো ,মরক্কো , সেনেগাল , উজবেকিস্তান , ইয়েমেন ,সোমালিয়া এইসব দেশ ভুক্তভুগি । বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যে কয়েকটি বৃহৎ পুঁজি যে ভাবে পৃথিবীর কৃষি ব্যবস্থাকে শুষে নিয়েছে তাতে চাষিদের চাষ নির্ভর বেঁচে থাকার সংকট   ঘনিয়ে উঠেছে । তাই বর্তমানে কৃষি ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের নামে নতুন পুঁজিবাদী সংস্কার আসতে চলেছে ।
চুক্তিচাষ প্রথার নামে কৃষি ব্যবস্থাকে পুরোপুরি কব্জায় আনতে চায় পুঁজিবাদীরা ।এমতাবস্থায় সমগ্র বিশ্বে ঘনিয়ে ওঠা খাদ্যসংকটের সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পুঁজিবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনকে তীব্রতর অবস্থায় নিয়ে যেতে হবে , অন্যথায় অদূর ভবিষ্যতে ভারত উপমহাদেশ তো বটেই পৃথিবীর  অন্তত ১০০টি দেশ সোমালিয়ায় পরিণত হতে চলেছে  ........

মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশ !

১। আমি রোহিঙ্গা দমন ও তাদের অধিকার হননের পক্ষে নই|তাই বরাবরই রোহিঙ্গা দমনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাই|ভাবতে থাকি,মিয়ানমারের রোহিঙ্গা আর এদেশের আদিবাসীদের ভাগ্য আসলে একই|দোষ একটাই এসব দেশে এসকল জনগোষ্ঠি সংখ্যালঘু|ব্রিটিশদের প্রতি প্রচন্ড ঘৃণা হয় এভাবে ভু-খন্ড ভাগ করে দিতে গিয়ে প্যাঁচ লাগিয়ে দিল কেন|ব্রিটিশ শাসন অবসানের পর এযাবৎকাল ১৯৫৮,১৯৭৮,১৯৯২,২০১৬ এবং বর্তমান ২০১৭ সালে মোট ৫ দফায় রোহিঙ্গারা আরাকান থেকে নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে হয়েছে|সর্বশেষ আন্তর্জাতিক মহলের চাপে ও বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যকার কুটনৈতিক দেন-দরবারে মিয়ানমার সকল উদ্বাস্তুদের ফিরিয়ে নেয়|ঠিক একইভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্মরাও এদেশের শাসকগোষ্ঠির অত্যাচারে ১৯৬৪ সালে(পাকিস্তান পিরিয়ডে)কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে ৪০ হাজার,১৯৮০-৮১ সালে ২০ হাজার,১৯৯৪ সালে ৮ হাজার,১৯৮৬ সালে ৬৫ হাজারেরও বেশি ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরামে আশ্রয় নেয়|তবে রোহিঙ্গা ও জুম্মদের বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য হলো রোহিঙ্গারা বার্মিস নারীদের ধর্ষণ করে মেরে ফেললেও জুম্মদের বেলায় এমন নজির নেই|রোহিঙ্গাদের মধ্যেপ্রাচ্যের ইসলামিক রাষ্ট্রগুলো জঙ্গিবাদ উস্কে দিলেও জুম্মরা তা পায় না|
সরকার এবং জনগণ তাদের প্রতি মানবতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা যে প্রশংসনীয় তাতে কোন সন্দেহ নাই কিন্তু তার সাথে হিন্দুদের উপর মাঝে মাঝে যে অবর্ণনীয় অত্যাচার নেমে আসে ঘর বাড়ী জ্বালিয়ে দিয়ে , মন্দিরের মুর্তী ভেংগে তছনছ করে , তার বিরুদ্ধেও যেন সরকার এবং জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধের ব্যাবস্থা নিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সে দিকেও নজর দিয়ে বাংলা এবং বাঙালীর ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রাখা উচিত ।

২। যদি রোহিঙ্গারা  খ্রিস্টান, ইহুদী বা হিন্দু অথবা বৌদ্ধ ছাড়া অন্য কোন  ইসলামী রাষ্ট্র (আইএস) বা অন্য মুসলিম কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা ইসলামী রাষ্ট্র দ্বারা অত্যাচারিত হইত তাহলে কি কোন মুসলিম দেশ তাদের জন্য কান্নাকাটি করবে? এবং আগেও কি এইসব নিপীড়ন প্রতিবাদ করার জন্য রাস্তায় নেমেছিল কখনো?

মুসলিম দেশগুলি কেবল রোহিঙ্গাদের জন্য কান্নাকাটি করে,  তারা  কারণ (কাফেরদের) দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে শুধু এইজন্য।যেহেতু তারা সমস্ত অমুসলিমকে কাফের হিসাবে বর্ণনা করে।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের উপর দমন অভিযান থেকে আরও বেশি আগ্রাসন তুর্কি সরকারের কঠোর সামরিক বাহিনী এবং কুর্দিদের জাতিগত বিশুদ্ধতা এবং সুন্নী আরব রাষ্ট্রের ইয়েমেনিতে বোমা হামলা এবং আইএসআইএস জাতিগত হত্যা গুলি এবং ইয়াসীদিদের দ্বারা  খ্রিস্টানদের হত্যা এবং সিরিয়া ও ইরাকে শিয়াদের জাতিগত হত্যা গুলি।

রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমারের অভিযানের জন্য মুসলিম প্রতিক্রিয়া কেবলমাত্র কারণ একটি। তাহল রোহিঙ্গা মুসলমান সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অ-মুসলমান (মিয়ানমার বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ), তাদের মতে  (কাফেররা) তাদের সহবিশ্বাসীদের (রোহিঙ্গা মুসলমানদের) বিরুদ্ধে হত্যার মিশনে নেমেছে।

কিন্তু ইসলামিক দেশগুলো রোহিঙ্গাদের মুসলমানদের চিকিত্সা জন্য অমুসলিম দেশ গুলির প্রতিক্রিয়া ও আতঙ্কিত করে তুলতে চেষ্টা করছে তা ঠিক আছে।করতেই পারে মানবতা থেকে। কিন্তু তুরস্কের মতো সিরিয়ায় ও কুর্দি অঞ্চলে কুর্দিদের কঠোর হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এবং ইয়েমেনের চলমান নীরব নৃশংসতার মধ্যে সুন্নি সৌদি আরবের জোটের মুসলিম বিশ্ব জুড়ে নীরবতার সাথে এটি একবার তুলনা করে  দেখুন?তাহলে মুসলিমদের মানবতা কোথায় গেলে?

অধিকাংশ মুসলমান মনে করেন যে মুসলমানদের দ্বারা মুসলমান নির্যাতন জায়েজ এবং মুসলমান দ্বারা  অমুসলিমদের উপর নির্যাতন ও জায়েজ হয়, কিন্তু অমুসলিমদের দ্বারা মুসলিমদের নিপীড়ন অযৌক্তিক।তা কোন ভাবেই জায়েজ না।তাহলে এখন আপনারা কোন যুক্তিতে আশা করে থাকেন যে অমুসলিমরা (কাফের) আপনাদের সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসুক?

এখানে আমার প্রশ্ন যেখানে ইসলামিক দেশগুলো তাদের সহ-ধর্মীয় (মুসলিম) দ্বারা মুসলিম হত্যা এবং মুদলিম দ্বারা অ-মুসলমান সংখ্যালঘুদের সিরিয়া, ইরাক, উত্তর নাইজেরিয়াতে হত্যা এবং  অত্যাচারিত হচ্ছে তখন মুসলিমদেশ গুলি প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেছে না কেন?তাহলে তারাই কেন আবার এখন রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার নিয়ে কান্নাকাটি  করে?

মুসলমানদের কাছে আমার প্রশ্ন হল: কেন এ ধরনের দ্বৈত মান ও ভণ্ডামি? কেন আপনারা  অন্যদের সাথে একই মানবিক আচরণ করছেন না? যেহেতু আপনা তাদের সাথে এইরকম আচারণ করছেন না তাহলে এখন  আপনার এবং আপনার সহকর্মী মুসলমানরা পৃথিবীর অন্য কোথাও নিয়ে গিয়ে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা করাছেন না কেন?কাফেরদেরকে কেন এগিয়ে আসতে বলেন?

আমি মায়ানমার, সিএর, নাইজেরিয়া, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, মার্কিন বা বিশ্বের কোথাও যে কোনও জাতি, ধর্ম বা জাতিসত্তার নির্বিশেষে নির্দোষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন বা সহিংসতার বিরুদ্ধে আমি যেই প্রতিবাদ করি তা নিরসন করে যাচ্ছি এবং আমি মনে করি তা সবার  করা উচিত। এই সব যেখানেই ঘটেছে নিন্দা করা উচিত।আমি এখানে বলি না যে রোহিঙ্গাদের জন্য কাফেররা এগিয়ে না আসুক।আমি চাই এখন বিশ্বের সব মানুষ তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়।

আমি শুধু এখানে মুসলিমদের হিপোক্রেসি এবং দ্বৈত মানদণ্ডটি বা ভন্ডামি গুলি তুলে ধরছি, যখন তারা  মুসলিমদের মধ্যে অ-মুসলমানদের সংখ্যা কতটুকু বিবেচনা করে প্রতিবাদ করে এবং তাদের এই রকম  নীরবতা কতটা বিপজ্জনক নিয়ে আসে শুধু বলতে চেয়েছি।

৩। যখন লক্ষ লক্ষ 'মুসলিম' সিরিয়ান শরণার্থী তুরস্কে আশ্রয় নিতে চেয়েছিল তখন তুরস্ক তার সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছিল।
সেই তুরস্ক এখন রোহিঙ্গাদের জন্য লোক দেখানো কান্নাকাটি করছে।
কারন একটাই, সিরিয়ান শরণার্থীদের আইএস জঙ্গি হবার যোগ্যতা নাই যা রোহিঙ্গাদের আছে।

বাংলাদেশ একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খুলুক এবং আইএসে রিক্রুটমেন্ট প্রোসেস আটকে দিক.... তুরস্কের এই রোহিঙ্গাপ্রীতি চোখ পাল্টি নিতে দুই সেকেন্ডও  না।

৪। রোহিঙ্গাদের কবজা করার জন্যে মীর কাশেম এর বেশ কয়েকটি এনজিও বহু আগে থেকেই কাজ করে আসতেছিল । মীর কাশেমের বিচার শুরু হওয়ার পর রোহিঙ্গাদের কজি করার কার্যকম সাময়িক বাধাগ্রস্থ হয় । রোহিঙ্গাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার লক্ষ্যে ইতি মধ্যে জামায়াতে ইসলামি সহ বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনই খামটি মেরে বসে আছে, এর কারণ একটাই রোহিঙ্গাদের খুব সহজেই জিহাদি বানানো সম্ভব ।

ইত্তেহাদুল জামিয়াতুল রোহিঙ্গা  নামে  একটি সংগঠন, জামাত শিবির নেতাদের সাথে রয়েছে তাদের গভীর  সম্পর্ক !! এরই মধ্যে মেশিনম্যান সাঈদি পুত্রের কর্মে তা প্রমাণিত । এমন অবস্থায় সরকারের উচিৎ রোহিঙ্গাদের কঠোর নজরদারীতে রাখা ।
এছাড়াও এই সংগঠন গুলোকেও রাখা উচিৎ নজরদারীতে ।

বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

রোহিঙ্গা প্রবেশে ছাগুদের ছবি...

রোহিঙ্গারা পশ্চিম মায়ানমারের রাখাইন স্টেটের উত্তরাংশে বসবাসকারী একটি জনগোষ্ঠী। ধর্মের বিশ্বাসে এরা অধিকাংশই মুসলমান। রাখাইন স্টেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হল রোহিঙ্গা। মায়ানমারের সরকারী হিসেব মতে, প্রায় আট লক্ষ রোহিঙ্গা আরাকানে বসবাস করে। রোহিঙ্গারা বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠীগুলোর একটি।
মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মায়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। মায়ানমার সরকার ১৩৫ টি জাতিগোষ্ঠীকে সংখ্যালঘু জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, রোহিঙ্গারা এই তালিকার অর্ন্তভুক্ত নয়। মায়ানমার সরকারের মতে, রোহিঙ্গারা হল বাংলাদেশী, যারা বর্তমানে অবৈধভাবে মায়ানমারে বসবাস করছে। যদিও ইতিহাস ভিন্ন কথা বলে। ইতিহাস বলে, রোহিঙ্গারা মায়ামারে কয়েক শতাব্দী ধরে বসবাস করে আসছে।
সপ্তম-অষ্টম শতাব্দীতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উদ্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যীয় মুসলমান ও স্থানীয় আরাকানীদের সংমিশ্রণে রোহিঙ্গা জাতির উদ্ভব। পরবর্তীতে চাঁটগাইয়া, রাখাইন, আরাকানী, বার্মিজ, বাঙালী, ভারতীয়, মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষদের মিশ্রণে উদ্ভুত এই সংকর জাতি এয়োদশ-চর্তুদশ শতাব্দীতে পূর্ণাঙ্গ জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পঞ্চদশ শতাব্দী হতে অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত আরাকানে রোহিঙ্গাদের নিজেদের রাজ্য ছিল।
মায়ানমার সরকারের দাবি, রোহিঙ্গারা হল ভারতীয়, বাঙালী ও চাঁটগাইয়া সেটলার, যাদেরকে ব্রিটিশরা আরাকানে এনেছে। যদিও ঐতিহাসিকভাবে এটি প্রতিষ্ঠত যে, ব্রিটিশরা বার্মায় শাসক হিসেবে আসার কয়েক শতাব্দী আগে হতেই রোহিঙ্গারা আরাকানে পরিষ্কার জাতি হিসেবে বিকশিত হয়েছিল।
মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার না করায় সকল প্রকার নাগরিক ও মৌলিক সুবিধা হতে বঞ্চিত রোহিঙ্গারা। মায়ানমারে ভ্রমণ, শিক্ষা, চিকিৎসার জন্য পরিচয় পত্র থাকাটা খু্ব জরুরি বিষয়। কিন্তু মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের পরিচয় পত্র ইস্যু করে না, ফলে, এমনিতেই পিছিয়ে পড়া রোহিঙ্গারা আরো পিছিয়ে পড়ছে।
মায়ানমার থেকে যখনি রোহিঙ্গারা সীমান্ত পার হয়...

রোহিঙ্গাদের সমস্যা শুরু হলেই বাংলাদেশের ইন্টারনেটে বা অনলাইনে ছড়িয়ে পরে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নির্যাতনের ভুয়া ছবি।
এসব ছবি কারা ছড়ায় তা দিনের আলোর মতোই পরিস্কার।কিন্তু দেখা যায় অনেক সচেতন মানুষও এসব ভুয়া ছবির ফাঁদে পা দেয়।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন হচ্ছে এটা সত্য। কিন্তু নির্যাতনের যেসব ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পরেছে তা অধিকাংশই ভুয়া।মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের এলাকায় কোন সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারছে না, এমনকি জাতিসংঘের কোন সংস্থাও না।জাতিসংঘ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কিছু ছবি তুলছে কিন্তু তাও খুবই অল্প।
তাছাড়া আপনি কি মনে করেন মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের হত্যা, নির্যাতন করে তার ছবি তারা অনলাইনে ছাড়বে? যেখানে রোহিঙ্গারা ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে সেখানে তারা ছবি তুলবে এমন ভাবনাও পাগলের ভাবা।রোহিঙ্গা নির্যাতনের ছবি কেউ পাক আর না পাক বাংলাদেশের ছাগুরা সবার আগে পাবে। তারমানে যখন রোহিঙ্গারা নির্যাতিত হয় তখন ছাগুরা দাড়িয়ে দাড়িয়ে ছবি তোলে ?

রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

কিছু ইসলামীক জঙ্গি সংগঠন ও তার পরিচিতি : -

● আল কায়েদা:-
প্রতিষ্ঠাতা - ওসামা বিন লাদেন। জন্ম - সৌদি আরব। বিস্তার লাভ করে আফগানিস্তান, মিশর, তিউনিসিয়া, ইয়েমেন ও পাকিস্তানে।

● তালেবান :-
প্রতিষ্ঠাতা - মোল্লা ওমর (আফগানিস্তান।)অাশির দশকে আফগান-সোভিয়েত যুদ্ধের পরপরই তাদের অাবির্ভাব হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানেও ছড়িয়ে পড়ে।

● আইএস:-
জন্ম - ইরাক এবং সিরিয়ায়। প্রতিষ্ঠাতা - আবুবকর আল বাগদাদী। তারা মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মতই বর্বর ও ধর্ষক। তবে সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের অনুসারী আছে। মাঝে মধ্যে ইউরোপীয় দেশ সমূহে তারা জঙ্গি এক্সপোর্ট করে।

● বোকো হারাম:-
জন্ম - নাইজেরিয়া। নাইজেরিয়ায় খুন, ধর্ষণ, জোর করে ধর্মান্তর সহ এমন কোন অপরাধ নেই যা তারা করছেনা।

● অাবু সায়াফ:-
জন্ম - মিন্দানাও, ফিলিপাইন। ইসলামের নামে যুদ্ধ করে সহিংসতা ও সন্ত্রাস করে ফিলিপাইনের উন্নয়নে বাধা দিচ্ছে। আল কায়েদা ও আইএসের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

● জয়শ-ই মোহাম্মদ:-
জন্ম -পাকিস্তান। প্রতিষ্ঠাতা - মাওলানা মাসুদ অাজহার। পাকিস্তানের ভেতরে বসে ভারতে জঙ্গি পাচার করা তাঁর অন্যতম পেশা। পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর অাস্থাভাজন। ভারত মাসুদ অাজহারকে গ্রেপ্তার করেছিল। ১৯৯৯ সালে তাঁকে মুক্ততা করার উদ্দেশ্যে তালেবানরা ভারতীয় বিমান ছিনতাই করে কান্দাহারে নিয়ে যায়। এরপর মাসুদ অাজহারকে ভারতের হেফাজত থেকে ছুটিয়ে নেয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এই জঙ্গিকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী অাখ্যা দেয়ার জন্য প্রস্তুাব করা হয়, কিন্তু সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের বৃহত্তম গডফাদার চীনের অাপত্তির কারণে মাসুদ অাজহারকে সন্ত্রাসী অাখ্যা দেয়া সম্ভব হয়নি!

● সিপাহ-এ সাহাবা:-
জন্ম-(পাকিস্তান। শিয়া মুসলিমদের টার্গেট করে হামলা চালানো এই গ্রুপের কাজ।

● হিজবুল মুজাহিদীন:-
জন্ম- কাশ্মীর, ভারত। পাকিস্তান ও চীনের মদদে কাশ্মীরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা এদের কাজ।

● জামায়াত উদ দাওয়াহ:-
জন্ম - পাকিস্তান। সেবামূলক কাজের অাড়ালে জঙ্গি রিক্রুট করা এ দলের কাজ। মধ্যপ্রাচ্য সহ বিভিন্ন দেশ থেকে এরা বড়ধরণের ফান্ড পায়।

● লস্কর ই তৈবা:-
জন্ম:-পাকিস্তান। পাক সেনাবাহিনীর ঘনিষ্ঠ এ গ্রুপ কাশ্মীর ও মুম্বাইয়ে বেশকিছু হামলা পরিচালনা করেছে। সেনাবাহিনীতে জঙ্গি অাদর্শও তারা রপ্তানি করে।

● জেমাহ ইসলামিয়াহ:-
জন্ম- ইন্দোনেশিয়া। বালিতে বোমা হামলার পর এই গ্রুপটি অালোচনায় অাসে। ইসলাম প্রচারের অাড়ালে তারা জঙ্গিবাদের বিস্তার করেছে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায়।

●আদ-দার-ই-কুতনী:-
এই সংগঠন এর প্রতিষ্ঠাতা সরোয়ার ও তামিম এবং এর আমির-এ-হিযরতের দ্বায়িত্ব পালন করছেন বড় হুজুর কথিত ইমাম মেহেদী, যা মহাখালী কেন্দ্রিয় উগ্র মতাদর্শে বিশ্বাসী। এই সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে মধু ও আতর বিক্রির মধ্যে দিয়ে সদস্য সংগ্রহ করছে ।

●মুসলিম ব্রাদারহুড:-
আরবের ইসলামী চিন্তাবীদ হাসান আল বান্না প্রতিষ্ঠা করেন ১৯২৮ সালে ইখওয়ানুল মুসলিমিন অর্থাৎ মুসলিম ব্রাদার হুড নামে এই দল । এর সমমনা দল হলো জামায়াতে ইসলামী এবং এর শাখাদল হামাস। এই দল নামে বেনামে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলংকা, মিশর, তুরস্ক, ইরান, লেবানন(হিসবুল্লাহ), সুদান, আলজেরিয়া, বাহরাইন, সিরিয়া, ইয়েমেন সহ প্রায় অধিকাংশ মুসলিম দেশেই আছে। এই দলই মুসলিম বিশ্বে, মুসলিম উগ্রতার বীজ ক্রমাগত বপন করে চলছে ।

● অাল শাবাব:-
জন্ম- সোমালিয়া। ওসামা বিন লাদেনের ভাবশিষ্যরা এই সংগঠন তৈরি করে সোমালিয়া, কেনিয়া, ইথিওপিয়া সহ অাফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জঙ্গি রপ্তানি করে। তাদের অর্থের উৎস সাগরের জাহাজ ছিনতাই ও ডাকাতি করা।

● ইন্ডিয়ান মুজাহিদীন:-
জন্ম- ভারত। মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের মাধ্যমে পাকিস্তানের মদদে এরা চলতো, এখন কিছুটা ব্যকফুটে।

● হিজবুল্লাহ:-
জন্ম- লেবানন। ইরানের অর্থসাহায্য ও অস্ত্রসাহায্যেরউপর নির্ভরশীল এ দলটি মধ্যপ্রাচ্যে বেশ প্রভাবশালী। লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি হত্যাকান্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতা প্রামাণিত।

● হিজবুত তাহরির:-
অান্তর্জাতিক এ জঙ্গি সংগঠনের উৎস কোনদেশে তা জানিনা। এরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবি ও ধনীর সন্তানদেরকে টার্গেট করে তাদেরকে প্রথমে ধার্মিক বানায়, এরপর জঙ্গিবাদের দীক্ষা দেয়। অনলাইনে প্রচার ও ইন্টারনেট চালাতে তারা বেশপটু।

● হিজবুত তাওহীদ:-
জন্ম- (বাংলাদেশ। বায়েজীদ খান পন্নীর এ দলটি অতিরিক্ত গোঁড়া। তাদের স্পেশালিটি হচ্ছে - ইমামকে এমাম বলা, ইসলামকে এসলাম বলা। তারা দাজ্জাল ও ইয়াজুজ-মাজুজ বলতে বোঝে ইয়াহুদী-খ্রিস্টান সভ্যতা। তাদেরনিকট তাদের ইমাম বাদে পৃথিবীর সব অালেমরা মুর্খ ও ইসলামবিরোধী। এরা নামাজ-রোজার ধার ধারেনা, শুধু নবীজির (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী প্রচার করে বেড়ায়!তারা নিজ পীর ও দল বাদে সবাইকে 'ইসলামের দুশমন ও মূর্খ' মনে করে!

● রাজারবাগী পীর:-
জন্ম- রাজারবাগ, ঢাকা, বাংলাদেশ। এই পীর ভয়াবহ ফতোয়াবাজ। সারাদিন 'হারাম, হারাম!' করে চেঁচানো সে ও তাঁর মুরিদদের কাজ। তাঁর দৃষ্টিতে হারামের তালিকা - রক্তদান করা, ছবিতোলা, টিভিতে ইসলামিক প্রোগ্রাম করা, কোরঅান তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা, লংমার্চ-মিছিল-হরতাল করা, নির্বাচন করা ও ভোট দেয়া, পত্রিকায় ছবি ছাপানো। এই পীরের অনুসারিরা বলাকা ভবনের 'বক ভাস্কর্য' ভাঙ্গায় অভিযুক্ত। অতিভক্তি প্রদর্শন এ পীরের অারেক বৈশিষ্ট্য।তাদের লেখা ও কথায় সবসময় 'উনি' ও 'উনার' শব্দ থাকে, যেমন ধরুন - "পবিত্র কোরঅান কারীম উনার তাফসীর শরীফ", অথবা "হযরত অালি (রা.) উনি বলেছেন।" রাজারবাগীর অনুসারীরা নিজ পীর ও দলের বাইরের সকলকে 'কাফের' মনে করে!

● জেএমবি:-
জন্ম- বাংলাদেশ। বিএনপি ও জামায়াতের রাজশাহীর নেতাদের অাস্কারায়
নুরুল নাজাম দাদার ওয়াল থেকে।

● হেফাজতে ইসলাম:-
জন্ম- বাংলাদেশ। এ সংগঠনটি সরাসরি সন্ত্রাসের সাথে জড়িত না হলেও সন্ত্রাসে মদত ও উস্কানির জন্য দায়ী। দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের কালোটাকার উপর নির্ভর করেই এ দল চলে। বাংলাদেশের আওয়ামীলীগের কিছু জামাতপন্থী নেতা, মাহমুদুর রহমান ও দিগন্ত গ্রুপের পরিকল্পনায় এ দলটি তৈরি করেন অাল্লামা অাহমদ শফি। ইসলাম হেফাজতের নামে অপব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে মোটা অন্কের টাকা হাতানোর ধান্ধা করে হেফাজত।

● হরকাতুল জেহাদ:-
মুফতি হান্নানের তৈরি। অাফগানফেরত জেহাদিদের নিয়ে গঠিত এ দলটি মাদরাসাগুলিতে একসময় খুব জনপ্রিয় ছিল, পরে তাদের কোমর ভেঙ্গে দেয় অাইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মুফতি হান্নান এখন পরকালে!

● অানসারুল্লাহ বাংলা টিম:-
জন্ম- বাংলাদেশ। মুফতি জসিমউদ্দীন রহমানির হাতেগড়া সংগঠন। সৌদি ওয়াহাবি মতাদর্শে প্রভাবিত জসিমউদ্দীনের এই সংগঠন বেশকিছু ব্লগার হত্যার দায়ে অভিযুক্ত। রহমানি এখন কারাগারে।

● জুনদোল্লাহ:-
জন্ম- ইরান। সৌদি অর্থে পরিচালিত এ সংগঠনটি মূলত ওয়াহাবি ধারার জঙ্গি সংগঠন। ইরানে কয়েকবার অাত্মঘাতী হামলা করলেও এখন তারা নিষ্ক্রিয়।

● অানসার অাল ইসলাম:-
জন্ম- বাংলাদেশ। পুলিশি অভিযানে বাংলাদেশের সব জঙ্গি সংগঠনের মত এরাও ঝিমিয়ে পড়েছে। মাঝেমধ্যে মাথাচাড়া দিতে চাইলেই পুলিশি অ্যাকশনে পুনরায় ঝিমিয়ে পড়ে।