সোমবার, ৩১ জুলাই, ২০১৭

ফারজানা ও লুক্সের সহায়তায় শিবিরের ব্লগার নূর নবী দুলালের জার্মানীতে এসাইলাম প্রার্থী (পর্ব ১)

ভারতে, নেপালে, শ্রীলংকায় এখনও যেসব ব্লগার কথিত পালিয়ে আছে তাদের মাঝে একাধিক ব্যক্তি জামাত-হেফাজতের সংবাদদাতা। আমি একে একে এদের নাম প্রকাশ করবো। তার মাঝে একজন কিছুদিন আগে নূর নবী দুলাল নামে একজন জার্মানীর ওমর ফারুক লুক্স ও ফারজানা কবির খানের সহায়তায় জার্মানীতে চলে আসতে সক্ষম হয়েছেন। সেখানে তাকে আশ্রয় দিয়েছে হামবুর্গ ফাউন্ডেশন।
নূর নবী দুলাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবস্থায় শিবিরের সাথী ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। এসব পোস্ট করে জানিয়েছেন যারা নূর নবী দুলালকে চেনেন তারা একের পর এক পোস্টে ও কমেন্টে জানিয়েছেন। নূর নবী দুলাল হল দখল, শিবিরের দাওয়াতি অভিযানে যোগ দেয়া, চট্টগ্রাম কলেজে শিবিরের নিয়ন্ত্রণাধীন হোস্টেলে রাত্রিযাপন, বায়তুল মালের চাঁদা সংগ্রহ, নিয়মিত মিটিংসহ সব ধরনের নীতি নির্ধারণী সভায় তার অবাধ যাতায়াত ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। নূর নবী দুলাল চট্টগ্রামে নাট্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এবং সেসময় শিবিরের অনুষ্ঠানে তিনি মঞ্চনাটক নির্দেশনা দিয়েছেন বলে ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে আসছে। এসব ঘটনা তিনি দেশ ত্যাগ করার পর তার পরিচিতজনরা বিস্মিত হয়ে প্রকাশ করছেন, নূর নবী দুলালকে নিজেকে একজন প্রগতিশীল ব্লগার হিসেবে দেখিয়ে জার্মানীতে চলে যেতে সক্ষম হওয়ায় ও তার পরিবারকে পরবর্তীতে নিয়ে যেতে সমর্থ হওয়ায় তারা বিস্মিত হয়েছেন। এর আগে অবশ্য ব্লগার অভিজিৎ রায়ের অন্যতম হত্যা পরিকল্পনাকারী রানা অস্ট্রেলিয়ায় চলে গিয়েছিল বলে খবর বেরিয়েছিল। এবং বিভিন্ন পত্রিকা মারফত জানা যায় বাংলাদেশে পুলিশের তালিকায় থাকা জঙ্গীরাও ভারতের সীমান্ত শহরগুলোতে পাড়ি জমিয়েছে।
‘নাগরিক ব্লগ’ এর দিনগুলোতে নূর নবী দুলালের পোস্টগুলোর কথা মনে তার পুরনো বন্ধুরা ও পরিচিতজনরা মনে করে বলেছেন, সে একজন জামাত-বিএনপির সমর্থক হিসেবে পাঁড় আওয়ামী বিরোধী হিসেবে নানা পোস্ট লেখায় ও কমেন্টে ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে সে এ আওয়ামী রাজনীতির বিরোধিতাকে মুক্তমত হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে সফল হয় এবং সে মডারেটরশিপ পায়। কিন্তু তার পরিকল্পনা বুঝতে পেরে ও শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে তার গোপন সমঝোতার কথা জানতে পেরে তার মডারেটরশিপ বাতিল করে ‘নাগরিক ব্লগ’ কর্তৃপক্ষ।
২০০৭-০৮ সালের দিকে সে শ্রমিক হিসেবে ওমানে কর্মরত ছিল। সেখানে অসাদুপায়ের জন্য তাকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়। ফিরে এসে একসময়ে সিএন্ডএফ ব্যবসা শুরু করে। সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দিন সরকারের সময় সিএন্ডএফ ব্যবসার আড়ালে অবৈধ অর্থ লেনদেন ও চোরাচালানির অভিযোগে নূর নবী দুলাল গ্রেফতার হয় বলে জানা যায়। তার বোন সরকারী ম্যাজিট্রেট হওয়ায় সেবার কয়েক লাখ টাকার আপোষরফায় নূর নবী দুলাল বেরিয়ে আসে জেলখানা থেকে। জেলখানা থেকে বেরিয়ে সে আবারও পূর্বের ন্যায় মানুষের সঙ্গে টাউটারি পেশায় জড়িয়ে পড়ে।
২০১৩ সালের ৮৪ ব্লগারের তালিকায় অন্যান্যদের সঙ্গে নূর নবী দুলালের নাম প্রকাশিত হয়। অথচ নূর নবী দুলালের নাম কোনক্রমে সরকারকে প্রদত্ত হেফাজতে ইসলামের তালিকায় থাকার কথা ছিল না। কেননা সে চট্টগ্রামের শিবিরের সাথী হিসেবে সেখানকার জামাত ইসলাম ও হেফাজতে ইসলামের আন্ডারগ্রাউন্ডের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রক্ষা করে চলতো। তবুও তার নাম প্রকাশিত হয় সে তালিকায়। এর পেছনে কারণ কি? একের পর এক ব্লগাররা খুন হতে শুরু করে। অনেক ব্লগারের গোপন তথ্য প্রকাশিত হয়ে যায় কিভাবে যেন!
নূর নবী দুলাল তখন নিজস্ব ঘরানার টাউট ব্লগারদের জন্য একটি প্লাটফর্ম তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে, কেননা তাদের দেশত্যাগের সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা আগে থেকে ছিল এবং সাংবাদিক শামীমা মিতু (সুইডেনে কথিত নির্বাসনে থাকা ব্লগার) সহ আরো কয়েকজনকে নিয়ে ‘ইস্টিশন’ ব্লগ তৈরি করে এবং সেখানে তারা একের পর এক উসকানিমূলক লেখা লিখে অন্যদের নজর কাড়ার চেষ্টা করে। সেখানে একে একে অন্যান্য আওয়ামী লীগ বিরোধী জামাত সমর্থক হিন্দু নামধারী রাজাকারের সন্তান পৃথু সান্নাল, চাঁদাবজি করা সাংবাদিক শামীমা মিতু সহ আরো অনেকে লিখে নিজেদেরকে ব্লগার হিসেবে পরিচিত করে তোলার চেষ্টা করে। এবং তারা সক্ষম হয়।
এক সময় শামীমা মিতু জার্মানীতে থাকা ওমর ফারুক লুক্স ও ফারজানা কবির খানের সহায়তায় বাংলাদেশ ত্যাগ করে। মিতু সুইডেন যায় মাত্র দু’সপ্তাহের জন্য একটি বিদেশী সংগঠনের সাহায্য নিয়ে। তারপর সে সেখানে বাংলাদেশে ফিরলে তাকে তার নারীবাদী লেখার জন্য হত্যা করা হতে পারে এমন মিথ্যা কথা বলে সে দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে। তারা তার আবেদন গ্রহণ করে তাকে পাঠিয়ে দেয় প্রথমে রিফিউজি ক্যাম্পে। সম্প্রতি তার রাজনৈতিক আশ্রয় অনুমতি লাভ করেছে। তার বিষয়ে আগামী কোন সিরিজে বিস্তারিত লিখবো।
আস্তে আস্তে অন্যান্য ব্লগারদের সঙ্গে একের পর এক জামাতী ব্লগাররা নিজেদের প্রগতিশীল ও মুক্তমনা সাজিয়ে বিভিন্ন দেশে ঢুকে পড়ে। এবং বর্তমানে নেপালে, শ্রীলংকা ও ভারতে একাধিক শিবিরের গোয়েন্দা ব্লগার ঢুকে আছে।
এ বিষয়ে ফেসবুকের বিভিন্ন মন্তব্যে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকার বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে জানা যায়। যেমন তার প্রাক্তন সহকর্মী শওকত খান জানান, নূর নবী দুলাল আগ্রাবাদের টিএন্ডটি কলোনী এলাকায় সপরিবারের থাকতেন। এমনকি আগ্রাবাদের লাকীপ্লাজায় অনেক ব্যক্তিও নূর নবী দুলালের প্রতারণা সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন। সে সেখানে ‘বেঁটে দুলাল’ নামে পরিচিত। ছোটপোল-বড়পোল এলাকার অনেকেও তাকে চেনে। এ বিষয়ে আগ্রাবাদ এলাকার আনোয়ার শহীদ নামের বয়স্ক এক ব্যক্তিত জানান,‘‘ ……সে থিয়েটার করা শুরু করে ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে, আগ্রাবাদের সমবয়সী এবং জুনিয়রদের নিয়ে। তখন গার্জিয়ানরাও উৎসাহ দিতো সংগঠন করতে। নন্দুলাল ইন্টারের পর কাঁধে শান্তিনিকেতনি ব্যাগ নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় বিবিএর বন্ধু ওয়াজেদ আর চারুকলার বন্ধু মোবাশ্বের এর সাথে। বন্ধু দুজনই শিবির করতো। তো সে সবাইকে বলতো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলোসফিতে ভর্তি হইছে, কিন্তু এলাকার অন্যরা তার মিথ্যা প্রকাশ করে দেয়। সে যেতো খেপ মারতে, শিবিরের হয়ে ভাড়া খাটতে। এরপরই তার নাট্যদলের সদস্যরা আস্তে আস্তে দূরে সরে যেতে থাকে।….. ‘’ তাছাড়া নূর নবী দুলাল স্থানীয় ‘শাপলা স্পোর্টিং ক্লাব’ প্রভৃতি খেলাধূলার নামে এলাকায় বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা তুলতো।
কিছুদিন আগে যখন সে একটি বিদেশী সংগঠনের আশ্রয়ে ছিল, সে সেখানে বসে পাশ্চাত্যের কোন দেশে পাড়ি জমানোর জন্য ওমর ফারুক লুক্স ও ফারজানা কবির খানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা তাকে জার্মানীর হামবুর্গ ফাউন্ডেশনে আবেদন করায়। এর আগে এ সংস্থার মাধ্যমে আসিফ মহিউদ্দিন ও হুমায়ুন আজাদের পুত্র অনন্য আজাদ জার্মানী গিয়েছেন। পরে অবশ্য তার গার্লফ্রেন্ড পটুয়াখালীর শাম্মী আহমেদকে নিয়ে গিয়েছিলেন বিদেশী আরেকটি সংগঠনের মাধ্যমে। কিন্তু শাম্মী আহমেদ অনন্যকে ত্যাগ করে জার্মানীর নাগরিক হওয়ার শর্টকার্ট উপায় হিসেবে জার্মানীর এক নাগরিকের সঙ্গে লিভ টুগেদার করছেন।
নূর নবী দুলাল নেপালে থাকা অবস্থায় তার ইউরোপ যাত্রা তরান্বিত করার জন্য বাংলাদেশের জাতীয় পতাকায় আইএস এর আরবী লেখা দিয়ে এডিট করে মুক্তমনা লেখার আড়ালে তার ব্লগে প্রকাশ করে। এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ন্যাংটো করে পেটানোর আহ্বানও জানায়। এবং নিজেদের বিভিন্ন আইডি দিয়ে তা ভাইরাল ও বিতর্কিত করে তোলে। একজন নারীকে পেটানোর আক্রোশ স্পষ্টত একজন নারীর প্রতি। নারীর কাপড় খুলে পেটানোয় যে আনন্দ তার হয় সে হয়তো তা পূর্বে লাভ করেছে ও অন্যদেরও সে আনন্দ লাভের বিকৃত আহ্বান জানাচ্ছে।
শিবিরের ব্লগার নূর নবী দুলালকে জার্মানীতে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করে দেওয়ানোর পেছনে যারা আছে এদের বিরুদ্ধে সকল ব্লগার, একটিভিস্ট ও মুক্তমনাদের সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আগামী পোস্টে নতুন আরেকজনের বিস্তারিত প্রকাশ করবো, সে বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশে বাংলাদেশ সমস্যা এমন মিথ্যা কথা বলে আছে, সেও একজন জামাত সমর্থক।
চলবে........



EmoticonEmoticon