বুধবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৭

বাঙালীর বুদ্ধিবৃত্তিতে ধর্মীয় বিভক্তি

বাঙালী হিন্দুর মধ্যে যেমন মুসলিম-বিদ্বেষ আছে, বাঙালী মুসলিমের মধ্যেও হিন্দু-বিদ্বেষ আছে; এবং এর ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণ আছে। সম্প্রদায়-সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে এই দুই সম্প্রদায়ের অধিকাংশ বুদ্ধিজীবীর মধ্যে - সবার মধ্যে নয় - পরস্পর-বিরোধী দুটি স্পষ্ট ধারা লক্ষ করা যায়।

বার্মায় রোহিঙ্গা প্রশ্নে, ইসরায়েলে ফিলিস্তিন প্রশ্নে, ভারতে কাশ্মীর প্রশ্নে, পাকিস্তানে বালুচিস্তান প্রশ্নে এই বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক অবস্থানগত বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একজন বুদ্ধিজীবী যখন শুধু নিজের কথা বিবেচনা করেন, তখন তিনি ভাবেন এটি তার ব্যক্তিগত স্বাধীন মতামত। কিন্তু একজন বস্তুনিষ্ঠ পর্যবেক্ষক যখন দেখেন অধিকাংশ হিন্দু বুদ্ধিজীবী পাকিস্তানে বালুচদের স্বাধীনতার সংগ্রাম সমর্থন করেন অথচ কাশ্মীরীদের স্বাধীনতা সংগ্রেমের বিরোধিতা করেন, এবং অধিকাংশ মুসলিম বুদ্ধিজীবী কাশ্মীরীদের স্বাধীনতা সংগ্রাম সমর্থন করেন কিন্তু বালুচদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থন করেন না, তখন বিষয়টি আর শুধুই ব্যক্তির ব্যক্তিগত বলে মনে হয় না। বস্তুনিষ্ঠ পর্যবেক্ষকের কাছে একটি ধর্মীয় সাম্প্রাদয়িক ডাইমেনশন বা মাত্রা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

একজন বুদ্ধিজীবীর ওপর তার সম্প্রদাগত প্রভাব একটি স্বাভাবিক ফেনোমেনন। তবে, তিনি সচেতন প্রচেষ্টার দ্বারা সম্প্রদায়িক এমনকি জাতিগত গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন, যদি তিনি তাঁর আত্মপরিচয়ের সর্বোচ্চে মনুষ্যত্বকে স্থান দেন।

বাঙালী বুদ্ধিজীবীদের ক্ষেত্রে, আমার ধারণা মতে, মনুষ্যত্বে উত্তরণটি কদাচিৎ ঘটে। এদের অধিকাংশই এমনকি বাঙালী জাতীয় বোধেও উত্তীর্ণ হননি; এখনও পর্যন্ত ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গণ্ডির ভেতরে থেকেই বিশ্বকে দেখেন, যদিও তারা ভাব করেন যে, তারা খুব মানবিক!

৩০/০৮/২০১৭
লণ্ডন, ইংল্যাণ্ড


EmoticonEmoticon