বগুরায় কিশোরী ছাত্রী ধর্ষণ এবং নির্যাতনের অন্যতম হোতা শ্রমিকলীগ নেতা তুফান সরকারের আরও কিছু পিছনের ঘটনা জানলাম। কিভাবে সমাজে তুফানদের উৎপত্তি হয়, তাঁদের রক্ষা করে কারা, কিভাবে এরা ঠিকে থাকে সবকিছু আরও বিস্তারিত জানলাম। যদিও আগের একটি লেখায় এ বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেছিলাম। কিন্তু তখনো তুফানের ধর্ষণের ঘটনা ছাড়া তেমন জানা যায়নি। কিন্তু এরপর একে একে বেরিয়ে এসেছে তুফানের উৎপত্তির লোমহর্ষক ঘটনা!
তুফান ছিল এলাকার বখাটে এক ছেলে। যার লেখাপড়ার দৌড় এইট নাইন হবে। এরপর কিশোর অবস্থায় জড়িত হয়ে পড়ে ইয়াবা ফেনসিডিল গাজা এসব গ্রহণে। তারপর এলাকার ছোটখাটো মাস্তান এবং চাঁদাবাজ। এরপর গড়ে তুলে নিজস্ব বাহিনী। চাঁদাবাজি আর মাদক ব্যবসা হয়ে উঠে তার অন্যতম বিষয়। এরপর গাড়ির মালিক, প্লাটের মালিক। মাত্র চব্বিশ বছরে তুফান রাতারাতি কোটিপতি। তার এই কাজে সহায়ক হয়ে যায় রাজনীতি। শ্রমিকলীগের বগুড়া শহরের সভাপতি হয়ে যায় রাতারাতি। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের ডানহাত হয় এই তুফান। ফলে কয়েকটি মামলা থাকলেও তাড়াতাড়ি জামিন পেয়ে অপকর্ম অব্যাহত রাখে। শ্রমিকলীগের নেতা হওয়ায় বগুড়া শহরের ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতো সে। তার নিজস্ব কেন্দ্র ছিল যেখানে চাঁদা না দিলে নির্যাতন করা হত। ( তথ্যসূত্রঃকালেরকন্ঠ অনলাইন)।
এখন কথা হল এই তুফান কী সারাদেশে একজন? না এমন হাজার হাজার তুফানদের জন্ম দিচ্ছে বর্তমান এই নোংরা ক্ষমতার রাজনীতি। এডিস মশার জন্ম হয় কোথা থেকে? যেখানে নোংরা স্যাঁতসেঁতে জল জমে থাকে, বন ঝোপ এগুলো এডিস মশার বংশ বিস্তারের জন্য সহায়ক পরিবেশ। আর আজকের ক্ষমতা আর লুটের রাজনীতি হল তুফানদের উৎপত্তি হওয়ার অন্যতম হাতিয়ার। এই রাজনীতি হল যারা ক্ষমতায় আছে বা ক্ষমতার বাইরে আছে অতীতে চর্চা করেছে। এরাই গড়ে তুলেছে সারাদেশে লক্ষ লক্ষ তুফান। এরা কেউ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ বা আওয়ামীলীগ। কারণ ক্ষমতা এদের রক্ষা করা আর উৎপত্তির কারণ। ফলে শুধুমাত্র তুফানের বিচার হলেই ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি, ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ হবে এমন নয়। আমি তুফানের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। তবে দেশের জনগণের প্রতি বলতে চাই এডিস মশার বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে যেমন চিকুনগুনিয়া বন্ধ হবে না তেমনি তুফানদের উত্থানের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এদের উত্থান বন্ধ হবে না। ফলে কঠিন কাজটা হল এই রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করা। তার বিপরীতে জনগণের রাজনীতি গড়ে তুলা। এই দুরূহ কাজটাই করতে হবে।
ঐ ছাত্রীটি ভাল কোন কলেজে ভর্তি হতে পারে নাই। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট এখানে স্পষ্ট। ফলে মেয়েটিকে দুইনব্বর পথের আশ্রয় নিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকারে পরিণত হতে হল। ফলে এখানে শিক্ষা ব্যবস্থার সিস্টেমের সাথে সংশ্লিষ্টদের দায় কম নয়। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি হয়ে তুফানের স্ত্রীর বোনের ভূমিকা ন্যাক্কারজনক। এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে মেয়েটি এবং তার পরিবার বগুড়ায় বসবাস নিরাপদ মনে করছে না। ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের নিরাপত্তা বিধান এবং বগুরার সচেতন মহল, সারাদেশের জনগণকে তাঁর পক্ষে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাই। পাশাপাশি দুর্বৃত্ত রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে জনগণের রাজনীতি নির্মাণের কাজটাই আমাদের করতে হবে।
EmoticonEmoticon