মঙ্গলবার, ১ আগস্ট, ২০১৭

চারিদেকে যখন অধপতন চলছে তখন কী আর দেশের কোন জায়গা এর থেকে বাদ পড়ে?

গোটা সমাজ যখন আক্রান্ত হয় তার চিত্র ফুটে উঠে সব জায়গায়। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বগুরার এক ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীর মেয়ে মাত্র এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে। একাদশ শ্রেণীতে কোন কলেজে ভর্তির চান্স পায়নি। তখন তৃতীয় এক সূত্রে পরিচয় হয় শ্রমিকলীগ নেতা তুফান সরকারের সাথে। সে বগুরা আজিজুল হক কলেজে ভর্তি করিয়ে দেবে বলে মেয়েটির কাছ থেকে চার হাজার টাকা নেয়। কিন্তু ভর্তি সে করিয়ে দিতে পারেনি। একদিন বাড়িতে লোকজন না থাকার অনুপস্থিতিতে তুফান মেয়েটিকে টাকা নিয়ে যেতে বলে। তখন মেয়েটিকে বাড়িতে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি করলে নির্যাতনের হুমকি দেয়। পরে যখন তুফানের স্ত্রী জানতে পারে তখন উলটা মেয়েটির উপর দোষ চাপায়। পরে গুন্ডাদের দিয়ে মেয়েটির মা এবং মেয়েকে ধরে নিয়ে যায় মহিলা ওয়ার্ড কমিশনার এবং তুফানের বউয়ের বোনের বাসায়। সেখানে মা মেয়েকে আবার নির্যাতন করে চুল ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। এমন বর্বরোচিত কাজ করে তুফানরা সমাজে বুক ফুলিয়ে চলে আর ঐ মেয়েটির মত কত শত মেয়ে নির্যাতনের স্বীকার হয়।

এই তুফানদেত উৎপত্তি কোথা থেকে হয়? প্রথমত পারিবারিক শিক্ষা এদেরকে প্রকৃত মানুষ করার উপযুক্ত ছিল না। তারপর সমাজের পরিবেশ এমন যে এখানে বেড়ে ওঠার সাথে সাথে একজন বড় ক্রিমিনাল হওয়ার আয়োজন থাকে। মদ ফেনসিডিল ইয়াবা গাজায় ভরে যায় সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। ফলে উন্নত চিন্তা, নারীর উপর মানবিক আচরণ কোন্টাই ভালভাবে পায় না সমাজ বা পরিবার থেকে। তারপর হাতেখড়ি হয় রাজনীতির সাথে। দলের নেতা হতে পারলে ক্যাডার হতে পারলে সবাই দাম দেয়, মেনে চলে। তাই এই তুফানদের ক্ষমতার রাজনীতি চর্চা করতে হয়। বড় বড় নেতাদের এই তুফানদের মত লোকদের পুষতে হয় নিজেদের ক্ষমতায় ঠিকে থাকার জন্য। ফলে এখানে যার রাজনীতির সাথে সখ্য আছে, ক্ষমতার সাথে যার যোগাযোগ আছে সেই বড়। এইভাবে গোটা সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। রাজনীতি ক্ষমতা আর ক্রাইম একসাথে চলে। ফলে রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ক্রাইম থেকে মুক্ত হওয়ার কোন অবকাশ নেই। ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। তাই সমাধান হল এই ব্যবস্থাকে আঘাত করা।

যদিও তুফান সরকার এবং তার সহযোগীরা গ্রেফতার হয়েছে। সেখানেও ন্যায়বিচার পাওয়া মুশকিল হয়ে যায় যখন রাজনীতি আর টাকার কাছে বিচার ব্যবস্থা বন্দী হয়ে যায়। কিন্তু যথই বিচার হোক এই ঘটনার ফলে যে কিশোরী মেয়েটির মানসিক জগতে যে আঘাত আসলো তার কোন প্রতিকার হবে? জীবনের এই ছোট সন্ধিক্ষণে এমন আঘাত কাঠিয়ে মানসিকভাবে মেয়েটি ফিরে আসতে পারবে? সারা জীবন একটি ক্ষত মনের মধ্যে বয়ে বেড়াবে না? এমন সমাজের জন্যই কী ত্রিশলাখ মানুষ আকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছিল? মাঝে মাঝে এইগুলা আমায় প্রশ্নবিদ্ধ করে, ক্ষুব্ধ করে।


EmoticonEmoticon