সুন্দরবন নিয়ে ইউনেস্কোর অবস্থান, সরকারের প্রোপাগান্ডা এবং সাধারণ মানুষকে ধোকা দেওয়ার চেষ্টা এগুলো নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল। লেখতে হলে চাই মানসিক স্থিরতা, ধর্য্য। সব সময় এই কাজ হয়ে উঠে না। ইউনেস্কো হল বিভিন্ন দেশের সরকারী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি সংস্থা। যারা পুঁজিবাদী দুনিয়ার পরিবেশ, বিশ্ব ঐতিহ্য, ট্যুরিজম এইগুলা দেখভাল করে। তবে নিয়ন্ত্রণটা বড় বড় পুঁজিবাদী দেশের হাতে। যেমন জাতিসংঘ নিয়ন্ত্রণ করে কারা? প্রথমত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তারপর বাকি চার নির্বাহী সদস্য এরপর অন্যরা। ফলে শক্তিশালী পুঁজিবাদী দেশ মানে বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ তাঁদের হাতে। তেমনি ইউনেস্কো ও বড় বড় শক্তির অধীন। ধরেন আমেরিকা যদি পরিবেশ বিপর্যয় করে তবে ইউনেস্কোর কিছু করার নাই। কিছুদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট স্টাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বিশ্বের কার্বন নিঃস্বরণে আমেরিকার অবস্থান ২য়, প্রথম চীন। কিন্তু আমেরিকা তার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। ফলে পরিবেশ রক্ষায় পুঁজিবাদীদের প্রতিশ্রুতি আসলে বাহানা।
সেই পুঁজিবাদী দেশগুলোর অংশগ্রহণে যে সংস্থা তা হল ইউনেস্কো। ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ২০১৬ সালে সুন্দরবনসহ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থান পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন দিয়েছিল। যেখানে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে তা বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছিল। তা না হলে বিশ্ব ঐতিহ্য থেকে সুন্দরবনকে বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। তারপর কি হল? সরকারের পক্ষ থেকে প্রোপাগান্ডা শুরু হল তারা এই করবে সেই করবে, সুন্দরবনের ক্ষতি হবে না উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এখন যখন ইউনেস্কোর বাৎসরিক মিটিং চলছে পুল্যান্ডের ক্রাকোতে। সেখানে বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী উপদেষ্টা তৌফিক ই এলাহির নেতৃতে একটি টিম অংশগ্রহণ করছে সেখানে। বুঝা যাচ্ছে সেখানে বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতিনিধি অংশ নেয়। সুন্দরবন নিয়ে ইউনেস্কোর অবস্থান ঠিক ছিল। শুধুমাত্র তুরস্ক প্রস্তাব করছে সুন্দরবনকে এখনো বিপদজনক হিসেবে না দেখে সরকারকে আরও সময় দেওয়া হোক এবং ২০১৮ পর্যন্ত বিশ্ব ঐতিহ্য বহাল রাখা হোক। আরও কিছু দেশ এই প্রস্তাবে সমর্থন দেয়। ফিনল্যান্ডের অপত্তি থাকলেও অন্যদের সাথে তারাও একমত জানায়। এখন দেখা যাচ্ছে সুন্দরবন বিষয়ে ইউনেস্কোর অবস্থান থেকে তারা সরে যায়নি। শুধুমাত্র তুরস্কের প্রস্তাবে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সুন্দরবনকে বিপদজনক তালিকায় রাখা হয়নি এবং বিশ্ব ঐতিহ্য বাতিল করেনি। বাংলাদেশ সরকারকে এই বিষয়ে প্রদক্ষেপ গ্রহণসহ চূড়ান্ত রিপোর্ট দিতে বলেছে।
এই বক্তব্যকে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনেস্কোর অনুমোদন দিয়েছে বলে মিথ্যা প্রচার করলো। লাভ কি হল? সরকার জনগণের কাছে মিথ্যুক হিসেবে আবার পরিচিত হল। যদিও রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা মানে সাধারণ প্রান্তিক জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। বাংলাদেশেও ক্ষমতাসীনরা এদেশের সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে না। ফলে সাধারণের ক্ষতি কী হল না হল এটা দেখার বিষয় নয় মুনাফা বড়। বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর আপত্তি সত্ত্বেও যখন এই প্রকল্প থেকে সরকার সরে যাচ্ছে না তার কারণ দুইটি। এক আগ্রাসনবাদী ভারতের কাছে বর্তমান সরকার নতজানু। দুই সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী এমপিদের কমিশন গ্রহণ। ফলে এত কিছুর পর ও সরে আসছে না। এর প্রতিদান কি একদিন দিতে হবে না?

EmoticonEmoticon