মঙ্গলবার, ১ আগস্ট, ২০১৭

ধর্ম পালনে বাঁধা...

একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মানুষের যেমন ধর্ম পালন করার ব্যক্তিগত  অধিকার আছে তেমনি ধর্ম পালন না করার ব্যক্তিগত অধিকার আছে। ধর্ম পালনে বাঁধা দেওয়া যেমন অগণতান্ত্রিক কাজ, আবার কেউ ধর্ম পালন করতে না চাইলে সেটা তার অধিকার। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ব্যক্তির সেই অধিকার নিশ্চিত করবে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে শুধুমাত্র ধার্মিক থাকবে, মুসলমান থাকবে এটা যেমন মনে করা ঠিক নয় তেমনি অধার্মিক নাস্তিক থাকলে তাকে আক্রমণ করা, নির্যাতন করা ফ্যাসিবাদী নীতি।

কোন রাষ্ট্র যখন ব্যক্তির ধর্ম পালনের অধিকার হরণ করে সেই রাষ্ট্র ফ্যাসিবাদী। চীনে একসময় সমাজতন্ত্র নির্মাণের চেষ্টা হয়েছিল। যদিও সমাজতন্ত্রের অনেক বিষয়ের সাথে চীনের সমাজতন্ত্র সাংঘর্ষিক। কারণ রাষ্ট্র যেখানে শক্তিশালী হয়ে উঠে সেখানে সমাজতন্ত্র নির্মাণ হয় না। রাষ্ট্রের পরজীবী শ্রেণী আমলা, মিলিটারি, পুলিশ, বিচারক এগুলো রক্ষা করে সমাজতন্ত্র নির্মাণ করা যায় না। সমাজতন্ত্রের অন্যতম শর্ত রাষ্ট্রের বিলুপ্তির দিকে আগানো। একারণে একটি মাত্র দেশে সমাজতন্ত্র গড়ে উঠে না যখন অন্যান্য দেশের সাথে তাকে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়। সেই অর্থে সামাজিক বিকাশের অর্থে সমাজতন্ত্র বলতে যা বুঝায় তা কখনো গড়ে উঠেনি। চীন ছিল অর্থনৈতিক পশ্চাদপদ দেশ। ফলে রাষ্ট্রীয় উদ্দ্যোগে তাকে পুঁজিবাদী অর্থনীতির দিকে আগাতে হয়েছে, সেই অনুসারে অবকাঠামো গড়ে তুলতে হয়েছে। আবার পুঁজিবাদী বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতা করতে বাজার ব্যবস্থা খোলে দিয়েছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই সস্তায় শ্রমশক্তির চীন বিশ্ব বাজারে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। পুঁজির বাজারে ব্যাপক উদ্বৃত্তমূল্য আত্মসাৎ করে সেখানে বড় বড় পুঁজিপতি গড়ে উঠেছে, রাষ্ট্র তাঁদের পৃষ্টপোষকতা করেছে। ফলে চীন আজ পুঁজিবাদী বিশ্বের অন্যতম শক্তি।

কিন্তু চীনের শাসন ব্যবস্থা একদলীয় ফ্যাসিবাদী। এটা কখনই প্রলেতারিয়েত একনায়কতন্ত্র নয়। সেখানে দলীয় আমলাতন্ত্র গড়ে উঠেছে। পার্টি সাধারণ সম্পাদক দেশের প্রেসিডেন্ট। ফলে একক ক্ষমতা ব্যক্তির হাতে ক্ষতিকর। এর মধ্য দিয়ে ব্যক্তি একনায়কতন্ত্র গড়ে উঠে।

চীন আজ ধর্মীয় সংখ্যালঘু মুসলমানদের রোজা রাখতে নিষেধাজ্ঞা ঝারি করছে। এই কাজ অবশ্যই নিন্দনীয়। এইভাবে ধর্ম পালনের নিষেধাজ্ঞা ঝারি করে চীনা রাষ্ট্রের চরিত্র উন্মোচন করেছে। আমি এর নিন্দা জানাই।


EmoticonEmoticon