মঙ্গলবার, ৮ আগস্ট, ২০১৭

স্বগত সংলাপ !

ক'দিন আগের কথা । তিনি হাঁটছেন , মাথা একটু নিচু করে পা টেনে টেনে হাঁটছেন । আকাশে মেঘ । গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে, জোরে নামার প্রস্তুতি সারা আকাশ জুড়ে ।
তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে, জোরে বৃষ্টি নামলে বিপদে পড়ে যাব - নিজেকে বললেন তিনি ।
ধানমন্ডী ৬ নম্বর রোডের মুখে দাড়িয়ে পল্টন যাবার বাস খুঁজছেন । কিন্তু বাসে এত ভীড় যে কোন ভাবেই উঠতে পারছেন না । একে আর্থ্রাইটিস তার উপর চিকনগুনিয়ার ছোয়ায় বেশ দুর্বল শরীর ।পায়ে হাতে ব্যথা , হাঁটার গতি গেছে কমে । বাস থামলেই গিয়ে উঠার চেষ্টা করছেন , কিন্তু বাসের হ্যান্ডেল শক্ত করে ধরে পাদানিতে পা রাখার আগেই বাস ছেড়ে দিচ্ছে । তার অবস্থা দেখে যাত্রীদের মধ্যে কেউ কেউ মুচকি হেসে বললেন, কি আঙ্কেল , উঠতে পারলেন না ?
তিনিও মুচকি হেসে মনে মনে বললেন, জীবনে কত কিছুই পারি নাই আর এতো সামান্য বাসে উঠতে না পারা !
বাসে উঠার ব্যর্থ চেষ্টা না করে নিজেকে বললেন, এই তো সামনেই সায়েন্স ল্যাবরেটরি । ওখানে গেলেই বাস পাওয়া যাবে । আস্তে আস্তে হেঁটেই যাই ।
হালকা বৃষ্টির মধ্যে তিনি হাঁটতে হাঁটতে চলছেন । অস্থির এবং দ্রুত পায়ে তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে অনেক মানুষ । তুমুল বৃষ্টি নামবে আশংকায় দ্রুত হাটছে সবাই ।
সায়েন্স ল্যাবের মোড়ে একের পর এক বাস আসছে কিন্তু থামছে না বেশিক্ষণ । সব বাস লোকে ঠাসাঠাসি । উঠতে পারলেন না তিনি । এমটিসিএল, রাজা সিটি, ৭ নম্বর , বাহন কত বাস কিন্তু ঠাঁই নাই ।
নাঃ, বৃষ্টি বোধ হয় জোরেই আসবে । দাড়িয়ে না থেকে কাটাবনের দিকে যাই , তারপর না হয় রিক্সা নেবো । নিজেকে সিদ্বান্তটা জানালেন । পথচারীদের ধাক্কা থেকে নিজেকে বাচিয়ে আস্তে আস্তে হাঁটতে লাগলেন । হাঁটছেন আর ভাবছেন আজকের মিটিং এর কথাগুলো । চিকিৎসা ব্যবস্থায় কি নৈরাজ্য চলছে ! যে ওষুধ দুই টাকায় দেয়া সম্ভব তা দশ টাকা, ইনসুলিনের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বাড়ছে , চোখের লেন্স যা দুইশ টাকায় দেয়া সম্ভব তা ১৫/২০ এমনকি ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে , হার্টের জন্য কার্ডিয়াক রিং সাত থেকে দশ হাজার টাকার বেশি লাগার কথা নয় তা ৪০/৫০ হাজার টাকারও বেশি দাম নেয়া হচ্ছে । ওষুধ এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে সাধারন মানুষ বড় অসহায় ! এমনকি বেসরকারী হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দেখলে অভিযোগ জানাতেও ভয় পায়, যদি ডাক্তাররা ভাল ভাবে না দেখে !  কাপড় কিনতে গেলে দরদাম করে , পছন্দ করে কেনা যায় । ওষুধের ক্ষেত্রে তো তা চলে না । বেশি দামী মানে মান ভাল এ ধারনা দ্বারা ক্রেতা প্রভাবিত । আমরা কি Global exploitation এর local victim ? Maximum cost কি quality ensure করতে পারে ? কে দেখবে জনগনের স্বার্থ ? Health sector এ কি কোন regulatory commission আছে ?
..........
ভাবতে ভাবতে হাঁটতে হাঁটতে কাঁটাবন এলেন । পা আর চলতে চাইছে না । এক রিক্সাচালককে জিজ্ঞেস করলেন, বাবা, প্রেসক্লাব যাবে ?
- যাব , রিক্সাচালকের উত্তর ।
কত নেবে ?
একশ টাকা দিয়েন , রিক্সা চালক গামছা দিয়ে মুখ মাথা মুছতে মুছতে বললো ।
ভাড়ার কথা শুনে তিনি ভাবলেন , এই তো সামনে শাহবাগ । ওখানে গিয়ে বাসে উঠলে পাঁচ টাকা লাগবে । হাঁটি , আস্তে আস্তে !
কাটাবনের পরে যাত্রী ছাউনির কাছে আসতে মনে হল বৃষ্টি বোধ হয় জোরে নামবে এবার । ভাবতে না ভাবতেই ঝমঝম করে নামলো বৃষ্টি । কোন মতে আজিজ মার্কেটে ঢুকে পরলেন । এক মিনিটেই পুরো ভিজে গেলেন । চোখে কিছুই দেখছেন না, চশমাটা ঝাপসা হয়ে গেছে । পকেট থেকে রুমাল বের করে চশমা মুছতে মুছতে স্বগতোক্তি করলেন তিনি - কি মুশকিল ! বৃষ্টি শুধু ভেজায় না ঝাপসা ও করে দেয় দেখছি ।


EmoticonEmoticon