কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৯

শ্রীলংকা সেমিনার  ....

কলম্বোতে অনুষ্ঠিত সেমিনারের  বিষয় ছিল  Proposed ILO Convention on Ending Violence and Harassment in the World of Work.
এবছর জুন মাসে জেনেভায় ILO’ র ILC অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে । আইএলও' শতবর্ষ উপলক্ষে নারীর শোভন কাজ ও সুরক্ষা বিষয়ে সেখানে এই কনভেশন গ্রহন করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে । আইএলও'র যেকোন কনভেনশন করতে হলে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয় । প্রথম প্রস্তাবনা , হোয়াইট রিপোর্ট, ইয়েলো রিপোর্ট, ব্রাউন রিপোর্ট, ব্লু রিপোর্ট এবং এগুলোর উপর মতামত নেয়ার পর আইএলসি’তে তা উথ্থাপন করা হয় । নেপালে ব্রাউন রিপোর্টের উপর আলোচনা হয়েছিল জানুয়ারি মাসে । এতে ট্রেড ইউনিয়ন সমুহের কিছু প্রস্তাব এবং  সংশোধনী গ্রহন করা হয় । এখন শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত হলো ব্লু রিপোর্টের উপর আলোচনা । এখানে গৃহীত পরামর্শগুলো দক্ষিন পুর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সরকারের কাছে পাঠানো হবে যাতে তারা আই এলসিতে তা উথ্থাপন করতে পারে।

সারা দুনিয়ায় কর্মক্ষেত্রে নারীর অবস্থান একটু দেখে নেয়া যাক - 
1. এত উন্নয়নের ডামাডোলের মধ্যেও বৈষম্য এবং দারিদ্র কমছে না। সারা পৃথিবীতে ১৩০ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে । যাদের ৭০% হচ্ছে নারী।
2. বৈষম্য দূরীকরনের কাজ এই গতিতে চললে ৪৫০ বছর লাগবে নারী পুরুষের সমতা অর্জন করতে । ( তেতুল তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে কত বছর লাগবে তা বলা যাচ্ছে না )
3. জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের মাত্র ৫% শতাংশ উচ্চ পদে নারীরা আছে।
4. ১৫ বছরের কম বয়সী ৮৭৬ মিলিয়ন শিশু আছে যারা নিরক্ষর । এদের ৬৬% কন্যা শিশু ।
5. বিশ্বব্যাপী নারীরা পুরুষের তুলনায় একই কাজে ৩০-৪০ শতাংশ কম মজুরি পায় ।
6. বৃটেনে পুর্ণকালিন কাজে নারীরা ঘন্টাপ্রতি ১৮% কম মজুরি পায় ।
7. ২০০৫ সালে সারা পৃথিবীতে ৪২,৮৩২ জন এমপি’র মধ্যে নারী ছিলেন ১৫.৭%। মন্ত্রীদের ৬% ছিলেন নারী।
8. প্রতিবছর ৫ লাখ নারী সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
9. ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীদের মৃত্যুর হার পুরুষের তুলনায় ৭৫% বেশি।
10. বিশ্বের ৪০ টির বেশি দেশে নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আইন আছে ।      

এসব তো আছেই তার উপর নারীর উপর সহিংসতা ও হয়রানি চলছে বিশ্বব্যাপী। তাই Violence and Harassment এই দুটোকে একসাথে বিবেচনা করার দাবী উঠেছে ।
শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এই দাবী উঠলেই বিভিন্ন দেশের সরকার এবং মালিক পক্ষ কিছু আপত্তি তুলেছে। প্রশ্ন তুলেছে, মালিক কে ? কর্মক্ষেত্র কাকে বলবো ? যৌন সহিংসতা কি এবং যৌন হয়রানি কি ? কে দায়ী হবে , কারা দায়ীত্ব নেবে ? তাদের বক্তব্য Violence এবং Harassment কে আলাদা করে দেখতে হবে এবং একই কনভেনশনে উল্লেখ করা যাবে না। এবিষয়ে কনভেশন না করে একটা recommendation দিলেই চলবে ।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বর্তমান পরিস্থিতির একটা চিত্র তুলে ধরলাম। গত ৫ মাসে ৪৫০ জনের বেশি নারী ধর্ষিত এবং নির্যাতিত হয়েছে । Violence এর ঘটনা দেখা যায়, শোনা যায় কিন্তু হয়রানির ঘটনা অপ্রকাশ্য থাকে । কর্মক্ষেত্রে এবং যাওয়া আসার পথে নারী নিপীড়িত হলে তার বিচার এবং সুরক্ষার দায়ীত্ব মালিকপক্ষ এবং সরকারকে নিতে হবে । দেশে এবং দেশের বাইরে বিপুল সংখ্যক নারী এখন কর্মক্ষেত্রে আছে। তারা যদি হয়রানির সম্মুখিন হয় , সবসময় আশংকার মধ্যে থাকে তাহলে তাদের কর্মক্ষমতাও দক্ষতা বাড়বে কি ভাবে? তাদেরকে সুরক্ষা এবং মর্যাদা দেয়া ছাড়া গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে না। যারা শ্রমিক খাটিয়ে মুনাফা করে তারা মালিক ফলে কন্ট্রাকটর একজন মালিক হিসেবে বিবেচিত হবে।

আমরা বললাম, আইএলও কনভেশনই সরকার মালিক মানতে চায় না ফলে শুধু একটা রেকমেন্ডেশন হলে তাকে তো পাত্তাই দেবে না । তাই কনভেনশনের পক্ষে জোড়ালো দাবি করেছি যাতে সরকারের উপর এ বিষয়ে আইন তৈরির জন্য নৈতিক চাপ থাকে ।

একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, বাংলাদেশ থেকে শুধু ক্ষমতাসীন দলের শ্রমিক নেতাই আইএলও কনভেনশনে অংশগ্রহণ করে থাকেন । তাই সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে কোন মতামত দেয়ার ক্ষমতা তাদের থাকে না।
এই সেমিনারে শ্রমিক স্বার্থে প্রস্তাব তুলে ধরার জন্য জনমত সংগঠিত করার উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হয় ।
( এ ব্যাপারে বিস্তারিত লেখা এবং শ্রীলংকায় কি দেখলাম তা নিয়ে লেখার ইচ্ছা আছে)

সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি ৮০০০ টাকা নির্ধারণ , একি উপহাস না অপমান ?
একি মজুরি বৃদ্ধির নামে প্রতারণা ও  প্রকৃত মজুরি থেকে বঞ্চিত করা নয় ?

মালিকরা দিতে রাজী নন, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে নাকি শেষ পর্যন্ত গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি ৮০০০ টাকা নির্ধারণ করা হলো । বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত গার্মেন্টস । গত বছর প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার বা ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি হয়েছে । যা আমাদের মোট রপ্তানির ৮২ শতাংশেরও বেশি। গার্মেন্টসের মেশিন আমদানি করা হয় বিদেশ থেকে, কাপড়, সুতা আনা হয় বিদেশ থেকে। ডিজাইন অনুযায়ী কাটে, সেলাই করে পোশাক বানিয়ে প্যাকেট করে বিদেশে পাঠায় বাংলাদেশের শ্রমিক । ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা সহ বিভিন্ন দেশে এই পোশাক পরে সেদেশের মানুষেরা । গার্মেন্টস মালিক গুনে মুনাফা, বিদেশী বায়ার গুনে প্রফিট মার্জিন। গুনে আর গুনে , গুনতেই থাকে , শেষ হয় না। তাদের ব্যবসা বাড়ে, কারখানা এক থেকে বহু হয় , তারা হয়ে উঠেন বিজনেস ম্যাগনেট । বিদেশের ক্রেতারা কেনে আর বলে, ওয়াও ! বাংলাদেশী গুডস, ভেরি বিউটিফুল, ভেরি চিপ ।
আর বাংলাদেশের শ্রমিক ! ক্লান্ত বিষন্ন শ্রমিক । তারা গুনে মজুরি । বাসা ভাড়া, খাওয়ার খরচ, চিকিৎসা , হাত খরচ , দোকানের বাকি, কত খরচ? মজুরি তো নির্ধারণ করা হলো ৮০০০ টাকা । কিভাবে মিটবে এসব খরচ ? গ্রামের বাবা মা’র জন্য কি কিছু করতে পারবে এ টাকায় ? এই হিসাব কি কেউ মিলিয়ে দিতে পারবে ?
শ্রমিক বিক্রি করে শ্রমশক্তি । এর জন্য দরকার পুষ্টিকর খাবার, বিশ্রাম, সুস্থ্য জীবন । ভবিষ্যতের শ্রমশক্তি হিসেবে তার সন্তানের দরকার শিক্ষা, খাদ্য পুষ্টি, চিকিৎসা । বাসা ভাড়া, জিনিসপত্রের দাম যে ভাবে বাড়ছে তাতে কিভাবে জোগাড় হবে এসব ?
মালিকের লাভ হয় না তবে ব্যবসা বাড়ে ।
শ্রমিকের মজুরি বাড়েনা তবে খরচ বাড়ে ।
দুর্বল শ্রমিক উৎপাদন বাড়াবে কিভাবে ?
একটা বিষয় কিছুতেই মাথায় আসেনা । কম্বোডিয়ার মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের চাইতে অনেক কম তাহলে তারা গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি কিভাবে ১৮৭ ডলার দেয় । এত উন্নয়নের পরও বাংলাদেশের শ্রমিকদের মজুরি ১০০ ডলার করা যাচ্ছে না । রাষ্ট্রায়াত্ব শিল্পের শ্রমিক এবং সরকারী অফিসের পিওনের বেতনের অর্ধেক কেন গার্মেন্টস শ্রমিকের মজুরি হবে ? এরা না দেশের প্রধান রপ্তানি আয়ের প্রধান কারিগর ! ২০১৩ সালে ৫৩০০ টাকা যখন মজুরি নির্ধারণ করা হয় তখন মুল মজুরি ছিল ৩০০০ টাকা। বার্ষিক ন্যুনতম ৫ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি হলে ৫ বছরে সে মজুরি এখন দাড়িয়েছে ৩৮২৮ টাকা । সরকার এবার মুল মজুরি নির্ধারণ করেছে ৪১০০ টাকা । তাহলে মজুরি বাড়লো মাত্র ২৭২ টাকা । দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধির সাথে তুলনা করলে এই বৃদ্ধি কত হাস্যকর ।
গার্মেন্টস পণ্যে শ্রমিকের মুল্য সংযোজন কত ? মালিকদের মুনাফার হার কত ? মালিকরা রাষ্ট্রের কাছে কি কি সুবিধা এবং সহায়তা পায় ? খাদ্য পুষ্টি বিবেচনা করে বাজার দর অনুযায়ী জীবন নির্বাহ করতে একটি পরিবারে ন্যুনতম কত টাকা প্রয়োজন ? শুধু খাওয়া আর ঘুমানো কি মানুষের প্রয়োজন , তাহলে কি পশুজীবনের সাথে মানুষের জীবনের পার্থক্য থাকবে না ? দেশের অর্থনীতিতে শ্রমিকের অবদান এবং ভুমিকা কি ? এসব কি মজুরি নির্ধারণের আলোচনায় আসবে না ?
রাষ্ট্রায়াত্ব শিল্পের শ্রমিকদের মজুরির সাথে তুলনা করলেও তো গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি ১৮ হাজার টাকা হওয়া উচিত ।
এই লেখা পড়ে অনেকে ক্ষেপে যাবেন, গালি দিয়ে বলবেন,” নিজে কারখানা করে তারপর শ্রমিকদের মজুরি দিয়েন “। মালিকরা কাজ না দিলে গার্মেন্টস শ্রমিকরা কি করতো ? মজুরি বাড়ালে গার্মেন্টস অন্যদেশের চলে যাবে । অবাস্তব কথা বলা আপনাদের অভ্যাস ইত্যাদি ইত্যাদি । কেউ হয়তো আমাদের যোগ্যতা নিয়ে কটাক্ষ করবেন , সামর্থ্য নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করবেন ।
তা করুন । কিন্তু গার্মেন্টস শ্রমিকরা কাজ করে বলেই তো মালিকদের এত সমৃদ্ধি , এত রপ্তানি আয় । সেই শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি চাইলে ক্ষেপে উঠেন কেন ভাই ?
ভারতে সমস্ত শ্রমিক সংগঠন মিলে ১৮ হাজার রুপি মজুরির দাবিতে আন্দোলন করছে, গার্মেন্টসের রপ্তানিতে বিশ্বের সর্ব বৃহৎ দেশ চীনের শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশের শ্রমিকদের চাইতে ৪ গুন বেশি। কিন্তু গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশের চাইতে ৬ গুন বেশি । তুরস্কের মজুরি বাংলাদেশের ৪ গুনের মত । কম্বোডিয়া ভিয়েতনামে আমাদের দ্বিগুনেরও বেশি। গার্মেন্টস নিয়ে এদের দেশে যাবে বাংলাদেশের মালিকরা ? মরিশাস, জর্ডানে মজুরি বেশি বলে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক সেখানে যাচ্ছে । আর আফ্রিকা , সেখানে দক্ষ শ্রমিক কোথায় ? ফলে গার্মেন্টস যাবে না, কম মজুরি দিয়ে বাংলাদেশেই থাকবে । মালিক এবং সরকারের প্রিয় দেশ আমেরিকাতে শ্রমিকরা লড়ছে প্রতি ঘন্টায় ১৫ ডলার মজুরির জন্য আর বাংলাদেশে প্রতিদিনের মজুরি নির্ধারণ  করা হলো ৩ ডলার !
আমরা চাই , বাংলাদেশের শ্রমিকরা গার্মেন্টসে যে দক্ষতা অর্জন করেছে তার স্বীকৃতি শুধু রপ্তানি বৃদ্ধিতে নয়, বাঁচার মত মজুরি ১৮ হাজার টাকা নির্ধারনেও তার স্বীকৃতি দেয়া উচিত ।

শনিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৮

বেঁচে যাওয়ার অভিজ্ঞতা । এরা তো সাধারন ছিনতাইকারী নয় , তাহলে কারা ?

অভিজ্ঞতার ভান্ডারে নতুন সংযোজন হলো গতরাতে । বাংলাদেশে উত্তর কোরিয়ার নব নিযুক্ত রাস্ট্রদুতের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ কোরিয়া মৈত্রী সমিতি । অনুষ্ঠান শেষে কম্যুনিষ্ট পার্টির সাধারন সম্পাদক কমরেড শাহ আলম সহ পল্টনে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলাম। শাহ আলম ভাইকে বললাম , চলেন , শাহবাগ থেকে বাসে করে পল্টন পল্টন যাই । উনি বললেন , না, চলেন রিক্সায় যাই । ইন্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট এলাকায় সব সময় ছিনতাই হয় বলে সাধারণত রাতে এই এলাকা দিয়ে রিক্সায় যাতায়াত করি না । কিন্তু ভাবলাম , মোটে রাত সাড়ে আটটা বাজে , কি আর হবে ! রিক্সা নিয়ে শিশু পার্ক পেরিয়ে এলাম, ইন্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের গেট পার হলাম । মোটামুটি স্বস্তি তৈরী হলো । ঐ তো সামনে মৎস্য ভবন । তাহলে , নিরাপদে চলেই এলাম । এসব ভাবছি আবার দু’জনে কথাও বলছি । রিক্সাটা যখন রমনা রেঁস্তোরার গেটের সামনে, তখন এক ৩৫/৩৬ বছর বয়সী ভাল স্বাস্থ্যের যুবক টলতে টলতে এসে রিক্সার সামনে এসে দাড়াল । সে রিক্সার হ্যান্ডেল ধরে রিক্সা থামিয়ে রিক্সা চালককে গালিগালাজ শুরু করে দিল। আমরা বললাম আপনার গায়ে কি লেগেছে ? লাগেনি তো । তাহলে ছেড়ে দেন রিক্সা চালককে । রিক্সা তো ছেড়ে দিলই না বরং সে রিক্সার চাকার সামনে পা টা বাঁকা করে দিল যাতে রিক্সা আর এগুতে না পারে । যুবকের মুখ থেকে মদের গন্ধ বেরুচ্ছিল আর সে উত্তেজিত হবার ভান করে আর বলছিল , আপনারা যাত্রী, আপনারা চুপ থাকেন। ইতি মধ্যে সামনের রিক্সা থেকে দু’জন নেমে এলো। তাদের একজন আবার মুখে মাক্স পরা । পিছনে তাকিয়ে দেখি আরও দু’জন দাড়িয়ে আছে। পাঁচজনে রিক্সাটা ঘিরে ধরছে । আমি মনে মনে ভাবছি,  এবার আর উপায় নেই। একটু সময় নেবার আশায় আমি বললাম , জানেন ইনি কে ? ইনি কম্যুনিষ্ট পার্টির সেক্রেটারী । ওরা বললো, তো কি হয়েছে । কথা বলছে আর ক্রমাগত কাছে এগিয়ে আসছিল ওরা । একজন বললো, আমাদের কাছে খবর আছে যে, “আপনাদের কাছে ২ লাখ টাকা আছে । এখন বলেন, টাকা বড় না জীবন বড় ?”  আমি আশে পাশে তাকাচ্ছি , সাহায্যের আশায়। কেউ থামছে না । কথা বলে সময় নেয়ার চেষ্টা করছি এই আশায়, যদি পরিচিত কাউকে পাই । ওরা বলছে , থানায় গিয়ে লাভ হবে না কোন। আমাদেরকে একটু একটু করে রমনা রেঁস্তোরার গলিতে ঢোকানোর ইচ্ছে আছে ওদের , এটা বুঝতে পারছি আর চেষ্টা করছি গায়ের একেবারে কাছে যেন আসতে না পারে।
ওদের আচরণ এবং কথা বার্তায় বুঝা যাচ্ছিল যে, ওরা সাধারন ছিনতাইকারী নয় । কারন মোবাইল বা মানিব্যাগের দিকে নজর নেই । সম্ভবত আটকে রেখে টাকা আদায় করা অথবা অন্য কিছু করা ছিল ওদের উদ্দেশ্য।
পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছিল অনেক রিক্সা, গাড়ি । কিন্তু কেউ দাড়াচ্ছিল না ।
দু’এক জন পরিচিত চেহারার মানুষ দেখে একটু জোরে জোরে কথা বলতে থাকলাম । আর ওরা ক্রমাগত গায়ের কাছ ঘেষে ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করছিল বার বার।
এমন সময় কি হলো বুঝতে পারলাম না । ওরা বললো, আচ্ছা যান ! আমরা আপনাদের সাথে তো কোন খারাপ ব্যবহার করিনি । মনে মনে বললাম, যা করেছো তাতেই যথেষ্ট । এবার বাঁচতে পারলে হয় ।
রিক্সাকে বললাম , বাবা, চলো ! হাঁপ ছেড়ে বাচলাম । কিন্তু চিন্তা তো পিছু ছাড়ছে না ।

সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

টি এস সি'তে সময় বেধে দেওয়া বিষয়ে ২৪ জন সাবেক ছাত্র নেতার বিবৃতি-

'মুক্ত চিন্তা'র সূতিকাগার খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কে
"বদ্ধ চিন্তা"র কেন্দ্রে পরিনত করার অপচেস্টা
বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের সাবেক নেতৃবৃন্দের আজ ২২ অক্টোবর'১৭ এক বিবৃতি,সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)  পরিচালক কর্তৃক এক বিজ্ঞপ্তিতে সকল সামাজিক, সাংস্কৃতিক  সংগঠনকে রাত ৮টা পর্যন্ত কার্যক্রম চালানোর সময় বেঁধে দেয়ার খবরে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, মুক্ত চিন্তার সূতিকাগার খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে "বদ্ধ চিন্তার" কেন্দ্রে পরিনত করার অপচেষ্টা কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য হবে না। 
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ এ ধরনের সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, "এতে সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ আর অন্ধকারের অপশক্তি উৎসাহিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও টিএসসি এদেশের ভাষা আন্দোলন,মুক্তিযুদ্ধ, সকল গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক আন্দোলন, সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সূতিকাগার ও সকল গনতান্ত্রিক সংগ্রামের অন্যতম  জায়গা। প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক বীজ বপনের অন্যতম ক্ষেত্র। এই সিদ্ধান্তের ফলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নস্যাত করার চক্রান্ত বাস্তবায়ন করা আরো সহজ হবে। দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের পদ্ধতি অনুসরন করতে চাইবে। "
বিবৃতিতে আরো বলা হয়,"আমরা মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে চাই। যে বিশ্ববিদ্যালয় হবে শিক্ষা, মুক্ত চিন্তা ও সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম জায়গা। এর জন্য পড়াশুনার পাশাপাশি সামাজিক সাংস্কৃতিকসহ নানামূখী কর্মকান্ডে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে সম্পৃক্ত করতে প্রশাসনকে উদ্যোগী হতে হবে। অথচ প্রশাসন উল্টা পথে হাটতে চাইছে। "
বিবৃতিতে টিএসসিতে সময় বেধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবী জানান হয়।

বিবৃতিদাতা বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক হলেন :
১.ডা: মুশতাক হোসেন
২. রুহিন হোসেন প্রিন্স
৩.বজলুর রশিদ ফিবোজ
৪.রাগিব আহসান মুন্না
৫. রাজেকুজ্জামান রতন
৬. আসলাম খান
৭.হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল
৮.শরীফুজ্জামান শরীফ
৯.হাসান তারিক চৌধুরী সোহেল
১০.খালেকুজ্জামান লিপন
১১.লুনা নূর
১২. বাকি বিল্লাহ
১৩.খান আসাদুজ্জামান মাসুম
১৪.মানবেন্দ্র দেব
১৫.ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল
১৬.রফিকুল ইসলাম সুজন
১৭.বাপ্যদিত্য বসু
১৮.আবুল কালাম আজাদ
১৯.হুসাইন আহমেদ তফসির
২০.হাসান তারেক
২১.লাকি আক্তার
২২. নিখিল দাস
২৩. শামসুল আলম সজ্জন
২৪. জনার্দ্দন দত্ত নান্টু ।

বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

রোহিঙ্গা শিশু না মানব সন্তান ?




জন্ম নিয়েই বুঝে গেলে তুমি
দুনিয়া ভীষণ ঠাঁই ,
যেদেশে জন্ম নিয়েছিলে তুমি
সেখানে জায়গা নাই ।
ক্লান্ত, ভীত, কাদা মাখামাখি
তোমার কচি মুখ ,
তোমার লাশ কোলে নিয়ে মা
কেঁদে ভাসাচ্ছে বুক ।
গরুর বাচ্চা গরু’ ই তো হয়
বাঘের বাচ্চা বাঘ ,
হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম বলে
মানুষেরই যত ভাগ ।
জাত - ধর্মের হানাহানি আনে
ভীষণ অমানিশা ,
মানব শিশু জন্ম নিয়েও
পায় না সে ভালবাসা ।

শুক্রবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

মানুষ কারা এবং কোথায় ?

মায়ানমার থেকে যাদেরকে তাড়িয়ে দেয়া হলো, তারা কারা?
তারা রোহিঙ্গা ।
সিরিয়াতে , ইরাকে, লিবিয়ায় গুলি বোমার আঘাতে যারা মরে, তারা কারা ?
তারা মুসলমান ।
প্যালেস্টাইনে , গাজায় যারা মরছে , তারা কারা ?
তারা ফিলিস্তিনি ।
পাকিস্তানে যাদের মিথ্যা অভিযোগে মারা হয়, তারা কারা ?
তারা খৃস্টান ।
ভারতে গরু বাঁচাতে যাদের হত্যা করা হয়, তারা কারা ?
তারা মুসলমান ।
বাংলাদেশে যাদের গলা কেটে, কুপিয়ে হত্যা করা হয় , তারা কারা ?
তারা ব্লগার ।
নাসির নগর সহ বিভিন্ন স্থানে যাদের নির্যাতন করা হলো , তারা কারা ?
তারা হিন্দু ।
রামুতে যাদের ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল, তারা কারা ?
তারা বৌদ্ধ ।
গাইবান্ধায় যাদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয়া, হত্যা করা হলো, তারা কারা ?
তারা সাঁওতাল ।
বাংলাদেশের এত জনগন, তাদের পরিচয় কি ?
তারা কোন না কোন মার্কার ভোটার ।
তাইতো বলি , দেশে বিদেশে এত নির্যাতন চলছে অসহায় মানুষের উপর , প্রতিবাদ করার মানুষ এত কম কেন ?

মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

পুরনো প্রবাদ ,নতুন ব্যাখ্যা , উত্তরহীন প্রশ্ন ...

ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ হাটিয়া চলিল
ছয় মাসের পথ মর্দ ছয় দন্ডে গেল ।
ট্রেনে চড়িয়া মর্দ দাড়াইয়া থাকিল
সাড়ে চার ঘন্টায় সে জামালপুরে গেল ।

ট্রেনে এত ভীড় ! কিন্তু জামালপুর তো যেতেই হবে । Ticket কাটতে গিয়ে কাউন্টারে শুনলাম নাই । অনুরোধ করলাম অন্ততঃ একটা standing ticket দেন । দয়া করে দিলেন । ট্রেনে উঠতে গিয়ে মনে হলো ঢাকা শহরের সবাই বোধ হয় আজ জামালপুরে আসছে । আ্যটেনডেন্ট বললেন, উইট্যা পড়ুইন, ভীড় হউক আর যাই হউক, যাওন লাগবো না ?
সাহস করে উঠলাম তো বটে, কিন্তু পা রাখবো কোথায় ? যারা সিটে বসেছেন তারা ভীড় দেখে মহা বিরক্ত । কেউ কেউ বললেন , "কি সব ঝক্কর মক্কর লোক উইট্যা পড়ে । দ্যাখতাছে সীট নাই   তাও উটন লাগবো "।
ময়মনসিংহ থেকে খোকন ভাই ফোনে জিজ্ঞেস করলেন, ট্রেনে উঠেছেন ? বগি কোনটা, সীট নাম্বার কত ?
মনে পড়লো সেই ছেলের কথা । পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে বাসায় এসেছে । বাবা জিজ্ঞেস করেছে, পাশ করেছিস ? ছেলের উত্তর, ইশ ! ফেলই জোটে না তার আবার পাশ ?
বাবা অবাক, কি বলছিস ?
ছেলে বললো, হ্যা, এক ক্লাস নিচে নামিয়ে দিয়েছে ।
ট্রেনে উঠতেই অবস্থা খারাপ তার আবার সিট !
যা হোক , সব কিছু নাকি ইতিবাচক ভাবে দেখতে হয় ।
বাসে আসলে ভাড়া বেশি লাগতো, সময় বেশি লাগতো । ভাড়া এবং সময় তো বাচলো !
কিন্তু প্রশ্ন তো একটা থেকেই গেল ।
এত যাত্রী ট্রেনে যাতায়াত করে । সিট না পেলেও ভাড়া দিয়ে যায় তারপরও রেলওয়ের এত লোকসান কেন ?