সোমবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৭

রোহীঙ্গারা নিপীড়িত শ্রেণীর মানুষ ।

ইউরোপে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের বেশ বড় একটা অংশ বাংলাদেশী। বাংলাদেশে বর্তমানে কোন যুদ্ধ নেই। তবে দারিদ্রতা বেকারত্ব হতাশা এইসব কারণে তরুণ, মধ্যবয়েসি অনেকেই বাইরোডে ইউরোপে আসার চেষ্টা করেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। বর্তমানে লিবিয়া হয়ে আসার এই হারটা অধিক। এমনকি তথ্য মতে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক বা সিরিয়া অপেক্ষা বাংলাদেশী আশ্রয় প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। ছোট ছোট রাবারের নৌকায় যখন ভূমধ্য সাগরের বুকে ইতালীয় সীমান্তে নৌকা এসে ভীড়ে তখন মানবিক কারণেই ইতালিয়ান নেভি এইসব বিপদগ্রস্ত লোকদের উদ্ধার করে বিভিন্ন ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত নানা ধরণের সেবা প্রদান করে আশ্রয় দেওয়া হয়। ইতালি বা ইউরোপের নিরাপত্তা কর্মী কোন ধরণের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন চালায় না। অনেক সময় চাপে পড়ে বিরক্ত হলেও উদ্ধার কর্ম অব্যাহত আছে।

৭১ সালে যুদ্ধের সময় ভারতের বর্ডার মানবিক কারণে খুলে দিয়েছিল বাংলাদেশী শরণার্থীদের জন্য। প্রায় কোটির উপরে মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল ভারতে। সেখানকার জনসাধারণ বিশেষ করে বাঙ্গালীরা আশ্রয় দিয়েছিল বিপদগ্রস্ত বাঙ্গালীদের।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ধর্মীয় দিক দিয়ে মুসলমান হলেও তাঁদের জাতিগত পরিচয় রোহিঙ্গা। প্রাচীন আরাকান রাজ্যে দীর্ঘদিন থেকেই এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বাস। আগে যখন সীমান্ত ব্যবস্থা কড়াকড়ি ছিল না তখন এক এলাকার মানুষ অন্য এলাকায় গিয়ে বাস করেছে। ফলে বাঙ্গালীদের সাথে তাঁদের জাতিগত সম্পর্ক কাছের। কিন্তু এটা মোটেই সঠিক নয় যে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশকারী বাঙ্গালী। বাংলার সাথে তাঁদের ভাষাগত মিল পাওয়া যায়; অনেকটা চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভাষায় রোহিঙ্গারা কথা বলে। কিন্তু এর বিকাশ হয়েছে শত শত বছর আগে থেকে। ফলে কোনভাবেই বলা যাবে না রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী বাঙ্গালী। তবে রোহিঙ্গাদের বাঙ্গালীদের খালাতো ভাই বলা যায় কারণ একসময় বাংলা থেকেই তাঁদের যাথায়াত বা বসবাস শুরু হয় যখন এটি ছিল স্বাধীন আরাকান রাজ্য। তখন থেকেই বাংলার সাথে এর সম্পর্ক। ফলে সেখানে যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিকাশ হয়েছে তা বাঙ্গালি জাতির প্রথম দিকের অংশ। কিন্তু জাতীয়তাবাদী বাঙ্গালীরা জাত ভাইদের এখন আশ্রয় দিতে চায় না কেন? মুসলমান, গরীব নিপীড়িত বলে? রোহীঙ্গারা নিপীড়িত শ্রেণীর মানুষ। তাঁদের জীবনযাত্রার মধ্যে আদিম অনেক বিষয় থাকতে পারে। তাই বলে এদের ঘৃণা করতে হবে? দূর দূর করে তাড়িয়ে দিতে হবে? এত নিরুপায় হয়ে এই মানুষগুলো আশ্রয় চায়, জীবন বাঁচাতে চায় আর আমরা এদেরকে আশ্রয় না দিয়ে নদীতে ভেসে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছি। হ্যাঁ বাংলাদেশের অনেক অনেক সংকট আছে, বন্যা সমস্যা আছে, খাদ্য ঘাটতি আছে। কিন্তু স্রেফ মৃত্যের মুখে থাকা একজন মানুষকে দূরে তাড়িয়ে দিতে পারি না। মিয়ানমারে যারা লড়াই করছে তারা রাজনৈতিক অধিকারের জন্য লড়াই করছে। তাঁদের পথ ও মতের ভুল থাকতে পারে। কিন্তু মোটেই এরা জঙ্গি নয়। রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে এরা দাঁড়াচ্ছে। ফলে আগ্রাসনবাদী রাষ্ট্রের পুলিশ আর্মির বিরোদ্ধে এরা লড়াই করে তা মোটেই জঙ্গীবাদ নয়। এরা মোটেই কোন নিরীহ মানুষ মারছে না। ফলে সাধারণ রোহিঙ্গা নিরীহ। এদের আশ্রয়, খাদ্য প্রদান করা জরুরী সেইসাথে মিয়ানমার সরকারকে আন্তুর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য দুনিয়া জুড়ে জনমত গড়ে তোলা দরকার।


EmoticonEmoticon