১। আমি রোহিঙ্গা দমন ও তাদের অধিকার হননের পক্ষে নই|তাই বরাবরই রোহিঙ্গা দমনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাই|ভাবতে থাকি,মিয়ানমারের রোহিঙ্গা আর এদেশের আদিবাসীদের ভাগ্য আসলে একই|দোষ একটাই এসব দেশে এসকল জনগোষ্ঠি সংখ্যালঘু|ব্রিটিশদের প্রতি প্রচন্ড ঘৃণা হয় এভাবে ভু-খন্ড ভাগ করে দিতে গিয়ে প্যাঁচ লাগিয়ে দিল কেন|ব্রিটিশ শাসন অবসানের পর এযাবৎকাল ১৯৫৮,১৯৭৮,১৯৯২,২০১৬ এবং বর্তমান ২০১৭ সালে মোট ৫ দফায় রোহিঙ্গারা আরাকান থেকে নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে হয়েছে|সর্বশেষ আন্তর্জাতিক মহলের চাপে ও বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যকার কুটনৈতিক দেন-দরবারে মিয়ানমার সকল উদ্বাস্তুদের ফিরিয়ে নেয়|ঠিক একইভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্মরাও এদেশের শাসকগোষ্ঠির অত্যাচারে ১৯৬৪ সালে(পাকিস্তান পিরিয়ডে)কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে ৪০ হাজার,১৯৮০-৮১ সালে ২০ হাজার,১৯৯৪ সালে ৮ হাজার,১৯৮৬ সালে ৬৫ হাজারেরও বেশি ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরামে আশ্রয় নেয়|তবে রোহিঙ্গা ও জুম্মদের বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য হলো রোহিঙ্গারা বার্মিস নারীদের ধর্ষণ করে মেরে ফেললেও জুম্মদের বেলায় এমন নজির নেই|রোহিঙ্গাদের মধ্যেপ্রাচ্যের ইসলামিক রাষ্ট্রগুলো জঙ্গিবাদ উস্কে দিলেও জুম্মরা তা পায় না|
সরকার এবং জনগণ তাদের প্রতি মানবতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা যে প্রশংসনীয় তাতে কোন সন্দেহ নাই কিন্তু তার সাথে হিন্দুদের উপর মাঝে মাঝে যে অবর্ণনীয় অত্যাচার নেমে আসে ঘর বাড়ী জ্বালিয়ে দিয়ে , মন্দিরের মুর্তী ভেংগে তছনছ করে , তার বিরুদ্ধেও যেন সরকার এবং জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধের ব্যাবস্থা নিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সে দিকেও নজর দিয়ে বাংলা এবং বাঙালীর ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রাখা উচিত ।
২। যদি রোহিঙ্গারা খ্রিস্টান, ইহুদী বা হিন্দু অথবা বৌদ্ধ ছাড়া অন্য কোন ইসলামী রাষ্ট্র (আইএস) বা অন্য মুসলিম কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা ইসলামী রাষ্ট্র দ্বারা অত্যাচারিত হইত তাহলে কি কোন মুসলিম দেশ তাদের জন্য কান্নাকাটি করবে? এবং আগেও কি এইসব নিপীড়ন প্রতিবাদ করার জন্য রাস্তায় নেমেছিল কখনো?
মুসলিম দেশগুলি কেবল রোহিঙ্গাদের জন্য কান্নাকাটি করে, তারা কারণ (কাফেরদের) দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে শুধু এইজন্য।যেহেতু তারা সমস্ত অমুসলিমকে কাফের হিসাবে বর্ণনা করে।
মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের উপর দমন অভিযান থেকে আরও বেশি আগ্রাসন তুর্কি সরকারের কঠোর সামরিক বাহিনী এবং কুর্দিদের জাতিগত বিশুদ্ধতা এবং সুন্নী আরব রাষ্ট্রের ইয়েমেনিতে বোমা হামলা এবং আইএসআইএস জাতিগত হত্যা গুলি এবং ইয়াসীদিদের দ্বারা খ্রিস্টানদের হত্যা এবং সিরিয়া ও ইরাকে শিয়াদের জাতিগত হত্যা গুলি।
রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমারের অভিযানের জন্য মুসলিম প্রতিক্রিয়া কেবলমাত্র কারণ একটি। তাহল রোহিঙ্গা মুসলমান সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অ-মুসলমান (মিয়ানমার বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ), তাদের মতে (কাফেররা) তাদের সহবিশ্বাসীদের (রোহিঙ্গা মুসলমানদের) বিরুদ্ধে হত্যার মিশনে নেমেছে।
কিন্তু ইসলামিক দেশগুলো রোহিঙ্গাদের মুসলমানদের চিকিত্সা জন্য অমুসলিম দেশ গুলির প্রতিক্রিয়া ও আতঙ্কিত করে তুলতে চেষ্টা করছে তা ঠিক আছে।করতেই পারে মানবতা থেকে। কিন্তু তুরস্কের মতো সিরিয়ায় ও কুর্দি অঞ্চলে কুর্দিদের কঠোর হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এবং ইয়েমেনের চলমান নীরব নৃশংসতার মধ্যে সুন্নি সৌদি আরবের জোটের মুসলিম বিশ্ব জুড়ে নীরবতার সাথে এটি একবার তুলনা করে দেখুন?তাহলে মুসলিমদের মানবতা কোথায় গেলে?
অধিকাংশ মুসলমান মনে করেন যে মুসলমানদের দ্বারা মুসলমান নির্যাতন জায়েজ এবং মুসলমান দ্বারা অমুসলিমদের উপর নির্যাতন ও জায়েজ হয়, কিন্তু অমুসলিমদের দ্বারা মুসলিমদের নিপীড়ন অযৌক্তিক।তা কোন ভাবেই জায়েজ না।তাহলে এখন আপনারা কোন যুক্তিতে আশা করে থাকেন যে অমুসলিমরা (কাফের) আপনাদের সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসুক?
এখানে আমার প্রশ্ন যেখানে ইসলামিক দেশগুলো তাদের সহ-ধর্মীয় (মুসলিম) দ্বারা মুসলিম হত্যা এবং মুদলিম দ্বারা অ-মুসলমান সংখ্যালঘুদের সিরিয়া, ইরাক, উত্তর নাইজেরিয়াতে হত্যা এবং অত্যাচারিত হচ্ছে তখন মুসলিমদেশ গুলি প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেছে না কেন?তাহলে তারাই কেন আবার এখন রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার নিয়ে কান্নাকাটি করে?
মুসলমানদের কাছে আমার প্রশ্ন হল: কেন এ ধরনের দ্বৈত মান ও ভণ্ডামি? কেন আপনারা অন্যদের সাথে একই মানবিক আচরণ করছেন না? যেহেতু আপনা তাদের সাথে এইরকম আচারণ করছেন না তাহলে এখন আপনার এবং আপনার সহকর্মী মুসলমানরা পৃথিবীর অন্য কোথাও নিয়ে গিয়ে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা করাছেন না কেন?কাফেরদেরকে কেন এগিয়ে আসতে বলেন?
আমি মায়ানমার, সিএর, নাইজেরিয়া, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, মার্কিন বা বিশ্বের কোথাও যে কোনও জাতি, ধর্ম বা জাতিসত্তার নির্বিশেষে নির্দোষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন বা সহিংসতার বিরুদ্ধে আমি যেই প্রতিবাদ করি তা নিরসন করে যাচ্ছি এবং আমি মনে করি তা সবার করা উচিত। এই সব যেখানেই ঘটেছে নিন্দা করা উচিত।আমি এখানে বলি না যে রোহিঙ্গাদের জন্য কাফেররা এগিয়ে না আসুক।আমি চাই এখন বিশ্বের সব মানুষ তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়।
আমি শুধু এখানে মুসলিমদের হিপোক্রেসি এবং দ্বৈত মানদণ্ডটি বা ভন্ডামি গুলি তুলে ধরছি, যখন তারা মুসলিমদের মধ্যে অ-মুসলমানদের সংখ্যা কতটুকু বিবেচনা করে প্রতিবাদ করে এবং তাদের এই রকম নীরবতা কতটা বিপজ্জনক নিয়ে আসে শুধু বলতে চেয়েছি।
৩। যখন লক্ষ লক্ষ 'মুসলিম' সিরিয়ান শরণার্থী তুরস্কে আশ্রয় নিতে চেয়েছিল তখন তুরস্ক তার সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছিল।
সেই তুরস্ক এখন রোহিঙ্গাদের জন্য লোক দেখানো কান্নাকাটি করছে।
কারন একটাই, সিরিয়ান শরণার্থীদের আইএস জঙ্গি হবার যোগ্যতা নাই যা রোহিঙ্গাদের আছে।
বাংলাদেশ একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খুলুক এবং আইএসে রিক্রুটমেন্ট প্রোসেস আটকে দিক.... তুরস্কের এই রোহিঙ্গাপ্রীতি চোখ পাল্টি নিতে দুই সেকেন্ডও না।
৪। রোহিঙ্গাদের কবজা করার জন্যে মীর কাশেম এর বেশ কয়েকটি এনজিও বহু আগে থেকেই কাজ করে আসতেছিল । মীর কাশেমের বিচার শুরু হওয়ার পর রোহিঙ্গাদের কজি করার কার্যকম সাময়িক বাধাগ্রস্থ হয় । রোহিঙ্গাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার লক্ষ্যে ইতি মধ্যে জামায়াতে ইসলামি সহ বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনই খামটি মেরে বসে আছে, এর কারণ একটাই রোহিঙ্গাদের খুব সহজেই জিহাদি বানানো সম্ভব ।
ইত্তেহাদুল জামিয়াতুল রোহিঙ্গা নামে একটি সংগঠন, জামাত শিবির নেতাদের সাথে রয়েছে তাদের গভীর সম্পর্ক !! এরই মধ্যে মেশিনম্যান সাঈদি পুত্রের কর্মে তা প্রমাণিত । এমন অবস্থায় সরকারের উচিৎ রোহিঙ্গাদের কঠোর নজরদারীতে রাখা ।
এছাড়াও এই সংগঠন গুলোকেও রাখা উচিৎ নজরদারীতে ।
EmoticonEmoticon