সোমবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৭

রুশ বিপ্লব !

নতুন দিনের সূর্যোদয় হবে বলে ওরা জড়ো হয়েছিল
যখন বিশ্বযুদ্ধের দামামা বিশ্বজুড়ে,
ক্লান্ত রুশ সেনারা আর যুদ্ধ চালাতে পারছে না;
ক্লান্ত ভীষণ ক্রুব্ধ হয়ে ওরা অস্ত্র হাতে তুলে নেয় জার শাসনের বিরুদ্ধে।
পতন হয় জার সাম্রাজ্যের।

১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস, নতুন অন্তবর্তীকালীন বুর্জোয়া সরকার ক্ষমতার মসনদে।
তখনো বাকি ছিল শোষিত শ্রেণীর ক্ষমতা দখলের কাজ।
‘না এখন নয়’ সমাজতন্ত্রী তত্ত্ববাদীরা বলে দিলেন
‘রাশিয়ার পুঁজিবাদ সমাজতন্ত্রের অনুকূলে নয়, বুর্জোয়াদের ক্ষমতায় থাকতে দাও’।

এপ্রিল মাসে কবি এসে হাজির হলেন নতুন তত্ত্ব নিয়ে। ‘আজ সময় হয়েছে সোভিয়েত জনগণের’
‘এখনি সময় আঘাত কর সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধবাজদের'
‘ক্ষমতার নিশান আজ ওড়াবে প্রলেতারিয়েত শ্রেণী'।
নারী বিপ্লবীরা বের হয়ে গেল কারখানা
থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে, ধর্মঘট হুংকার লড়াইয়ের দামামা!
আজ সময় এসেছে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
বিপ্লবী রুশ জনগণ জেগেছে দখল করবে ক্ষমতার মসনদ
পুঁজি আর শোষণের পরিসমাপ্তি করবে বলে।

অক্টোবর মাস, বিজয়ের পতাকা উড়িয়ে সেন্টস পিটার্সবুর্গের দখলে
শ্রমিক সৈনিক এবং সাধারণ সোভিয়েত জনগণের হাতে,
নতুন সোভিয়েত রিপাবলিকের যাত্রা শুরু, তখনো পথ অনেক দূরে ছিল।
যুদ্ধ থেকে নিজেদের মুক্ত করে নতুন দিনের সূর্য উদয় হয়েছিল।
শোষণের জাল ছিন্ন করে সোভিয়েত জনগণ নিজেদের নিবেদিত করেছিল
নতুন দিনের আশায়, ভোরের উকি দিয়ে আশাহত করে তা আবার পুরাতন গবহরে হারিয়ে গেছে।

না এখনো তার আবেদন শেষ হয়ে যায়নি।
দুনিয়ার বুকে আজকের লেনিনেরা জেগেছে-
যুদ্ধবাজদের, সাম্রাজ্যবাদী শোষকদের, আর দেশীয় লুটেরা শাসকদের
হাত থেকে ক্ষমতার দখল নিতে হবে শোষিত জনগণের হাতে;
নতুন দিনের সূর্যোদয় উকি দেয় বলে শত বছরের রুশ বিপ্লব
এখনো হারিয়ে যায়নি তার স্বকীয় আবেদন নিয়ে।


EmoticonEmoticon