শুক্রবার, ১ জুন, ২০১৮

অতীত থেকে এরা বেরিয়ে আসতে পারলো না ।

মোহাম্মদ আবু তৈয়ব। সুন্দরবন আন্দোলনের একনিষ্ঠ কর্মী। আমার মনে আছে সুন্দরবন আন্দোলনের ঢাকায় যখন সমাবেশ হয় সেখানে আবু তৈয়ব শিশু বাচ্চাসহ পরিবার সমেত হাজির। এমন নিবেদিত প্রাণ কর্মী আবু তৈয়ব বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে অনলাইনে আফলাইনে সরব থাকেন। গতকাল তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণের নামে র‍্যাব ও পুলিশ কতৃক বিনাবিচারে ইতিমধ্যে ১২২ জনকে রাষ্ট্রীয় হত্যার প্রতিবাদে এবং ভারতের সাথে অসম সামরিক চুক্তি বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করেন। সাথে শিশুবাচ্চা চে গুয়েভারা জুনিয়ন, প্রীতিলতা সুন্দরী উনার স্ত্রী মিলি খানম আরোও কয়েকজন বন্ধু তার সাথে যুক্ত হন।

তার এই সময়ের সাহসী প্রতিবাদকে কটাক্ষ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন যুব ইউনিয়ন ও সিপিবি নেতা খন্দকার আশরাফুজ্জামান। তার বক্তব্যের হল -
“ভারতের সাথে চুক্তি করে দেশ বিক্রি করে দিচ্ছে!  বন্দুক যুদ্ধে মানুষ হত্যা হচ্ছে, তার প্রতিবাদে পরিবার সবাইকে নিয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনানে সমবেত হবার আহ্বান জানিয়েছেন!  আমি বিচার বহিরভুত হত্যাকে সমর্থন করছি না, কিন্তু তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, মাদকের বিরুদ্ধে কেন পরিবারের সবাই নিয় এতদিন প্রতবাদ করেন নাই?  আর একটা দেশ কতবার বিক্রয় করা যায়?  সেই ছোট বেলা থেকে শুনে আসছি, দেশ ভারতের কাছে বিক্রি করে দিয়েছ!  একটি যুক্তি হলেই দেশ বিক্রি হয়ে যায়?  তো আমেরিকা সহ অনেক দেশের সাথ কোন না কোন সরকার চুক্তি করেছে, তাতে গা জ্বলে না কেন?  আমেরিকা কি কারো ভাশুড় হয়?  বলি ভাই এখন আপনেরা কোন দেশে বাস করছেন?  ভারত, না বাংলাদেশ?  যদি বাংলাদেশে বাস করেন, স্বদেশ প্রেমিক হন, সকল অন্যায় অবিচারের প্রতবাদ চাই, রাজনৈতিক সুবিধা ভোগিদের সাথ স্বচেতন মানুষ কখনোই থাকবে না!”
উপরের সিপিবির মধ্যমসারির এক নেতার বক্তব্য এটি। আমি অনলাইনে সিপিবি বা ছাত্র ইউনিয়ন এর অনেক কর্মীকে ক্রসফায়ারে হত্যার প্রতিবাদ করতে দেখেছি। আমি মনে করতে চাই এটা সিপিবি বা যুব ইউনিয়নের বক্তব্য নয়।
উনার বক্তব্যের সারমর্ম করলে দাঁড়ায় শহীদ মিনারে পরিবার সমেত আবু তৈয়ব হাজির হয়েছেন শো অফ করতে। উনি ভারতের সাথে অসম সামরিক চুক্তির পক্ষে। উনি বলতে চান কথায় কথায় যারা দেশ বিক্রি করার কথা বলে তারা সঠিক নয়। আসল কথা হল দেশ বিক্রির কথা বললে ভূমিসহ সবাইকে বিক্রি করা বুঝায় না। এর অর্থ অনুধাবন করতে ব্যর্থ তিনি। এটা বলতে বুঝায় যে দেশের জনগণের পক্ষে যায় না এমন সব চুক্তি যার মধ্য দিয়া আসমতা বা অধীনতাকে তুলে ধরে। সামরিক চুক্তি ছিল একটি অধীনতার চুক্তি। ফলে অবশ্যই নিজ জনগণের স্বার্থে এই অধীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। রাষ্ট্র হিসেবে ভারত কখনই বাংলাদেশের শ্রমিক কৃষক সাধারণ জনগণের বন্ধু হতে পারে না। ভারত রাষ্ট্রযন্ত্র ভারতীয় বড় পুঁজির মালিকের প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে প্রতিবেশির সাথে তার বড়ভাইসুলভ আচরণ দেখা যায়। ভারত চায় তার আশেপাশের ছোট দেশগুলোকে নিজের অধীনে রাখতে। ফলে একটি আগ্রাসনবাদী রাষ্ট্রের সাথে কখনো বন্ধুত্ব হতে পারে না। বন্ধুত্ব হয় শাসক দলের, তাদের নিজেদের স্বার্থের। হ্যাঁ তা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে ভারতের সাধারণ শ্রমিক কৃষক শ্রমজীবী মানুষ নিপীড়িত জাতিসত্ত্বা বাংলার সাধারণ জনগণের বন্ধু।

আরেকটি বক্তব্য তার ছিল আগে কখনো মাদকের বিরুদ্ধে শহীদ মিনারে সমবেত কেন না হয়ে এখন ক্রসফায়ারে হত্যার বিরুদ্ধে এসেছেন। কী ভয়ংকর! ক্রসফায়ারকে সমর্থন? আগে কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ না করতে পারলে এখন করা যাবে না কোথায় লেখা আছে? সারাদেশে বিনাবিচারে ১২২ জনকে খুন করা হয়েছে। আমরা যদি টেকনাফের যুবলীগ নেতা একরামুলের হত্যার অডিও রেকর্ড শুনি তাতে দেখা যাবে র‍্যাব ঠাণ্ডা মাথায় ধরে নিয়ে খুন করেছে। ফলে কোন সাধারণ বিবেক সম্পন্ন মানুষ এসব খুনকে সমর্থন করতে পারে না। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হয়। আবু তৈয়ব যখন দেখলেন কেউ রাস্তায় দাঁড়াচ্ছে না তখন তিনি একা পরিবারসমেত দাঁড়িয়ে গেলেন। নিজ শিশু সন্তানের নিরপত্তা না ভেবে আবু তৈয়ব যে সাহস দেখালেন তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।
আমিতো আগেই বলেছি আবু তৈয়ব হলেন সময়ের সাহসী বীর। যিনি ডর ভয়কে তোয়াক্কা করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। লাল সালাম আবু তৈয়ব পরিবারকে। আর খন্দকার আশরাফুজ্জামানদের জন্য একঝাক সমবেদনা। অতীত থেকে এরা বেরিয়ে আসতে পারলো না।


EmoticonEmoticon