রবিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৮

জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে নয়

পরিবহন শ্রমিকদের একটা অংশ ৪৮ ঘন্টার ধর্মঘট ডেকেছে। ধর্মঘট মানার জন্য কোন কোন এলাকায় এরা সাধারণ মানুষকে বাধ্য করছে, নানা ধরণের শারীরিক নির্যাতন, গায়ে কালি মেখে দিয়েছে। এগুলো করছে মন্ত্রী শাহাজাহান খানের অধীনস্থ শ্রমিকরা। যাদের কিছু কিছু দাবি যৌক্তিক নয় তা নয়। কিন্তু ধর্মঘটের নামে মানুষের উপর শারীরিক নির্যাতন ন্যাক্কারজনক কাজ। যা আদতে সাধারণ মানুষের সমর্থন পাবে না। ফলে এসব আন্দোলন শ্রমিকদের বিপক্ষে যাবে।

শ্রমিক শ্রেণী, শ্রেণী হিসেবে বিপ্লবী হলেও বাংলাদেশে পরিবহন শ্রমিকরা সেই জায়গায় আসে নাই বা যে আদর্শিক জায়গা থেকে এই শ্রেণী বিপ্লবী হয়ে উঠতে পারে সেই জায়গায় এরা নেই বা সেই অবস্থায় আসার জন্য যে আদর্শিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান দরকার সেখানে যথেষ্ট ঘাটতি আছে। ফলে শ্রমিকদের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন বুর্জোয়া ভাবাদর্শ দ্বারা পরিচালিত। এরকম একটি চক্র হল মন্ত্রী শাহাজাহান খানের নেতৃত্বাধীন অংশ যারা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে নানা ধরণের কাজ করছে যা আদতে শ্রমিকদের পক্ষে যায় না। তবে  সড়ক দুর্ঘটনার দায় শুধু শ্রমিকদের হতে পারে না। এর দায় যেমন শ্রমিকদের তেমনি পরিবহন ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা, সরকারের নীতি, আইন, রাস্তাঘাটের শৃঙ্খলা। এগুলো যথাযত কার্যকর না করে শুধুমাত্র শ্রমিকদের উপর দায় চাপানো যাবে না। তবে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক ক্ষেত্রে নির্ভর করে রাষ্ট্রীয় নীতির উপর। বাংলাদেশে যে ধরণের পরিবহন সিস্টেম বর্তমান তা সড়ক দুর্ঘটনার জন্য সহায়ক। কারণ পাবলিক রাস্তায় গাড়ী চালাতে হলে যে ধরণের নিয়মনীতি দরকার তার কোনটাই ভালভাবে মানা হয় না। ফলে হর হামেশা দুর্ঘটনা ঘটছে। বহু মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে অবশ্যই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

পরিবহন শ্রমিকরা সাধারণ মানুষের শত্রু নয়। কিন্তু একটি পক্ষ শ্রমিকদের জনগণের শত্রু হিসেবে উপস্থাপন করছেন তা যেমন সমর্থনযোগ্য নয়, তেমনি শ্রমিকদের সাধারণ মানুষদের উপর হয়রানি শারীরিক নির্যাতন কাম্য নয়। সঠিক গণতান্ত্রিক উপায়ে শ্রমিকরা দাবি জানাতে পারে। তবে তা জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে নয়।


EmoticonEmoticon