তোমার কথা ভুলিয়া গিয়াছি , ক্ষমা কর নজরুল ...
২৩ বছর ছিল তার সৃস্টিকাল, এই স্বল্প সময়ে রাষ্ট্র, সমাজ, মানুষ নিয়ে কি অপুর্ব পর্যবেক্ষণ ছিল তার !
" কে তোমায় বলে ডাকাত বন্ধু, কে তোমায় চোর বলে ?
চারিদিকে চলে ডাকাতি ডংকা, চোরেরি রাজ্য চলে ।"
ধর্মের নামে যা হয়েছিল তা নিয়ে তিনি বলেছেন, যা আজও প্রযোজ্য নয় কি ?
" মানুষেরে ঘৃণা করি
ও কারা কোরান, বাইবেল, বেদ
চুম্বিছে মরি মরি । "
" জাতের নামে বজ্জাতি সব
জাত জালিয়াত খেলছে জুয়া ।"
"ধর্মের কড়াকড়ি আরোপ করিবার পর আরব দেশে আর কোন কবি জন্মিল না ।"
কি বেদনাময় উপলব্ধি ছিল তার !
" তোমার বাণী কে করিনি গ্রহণ , ক্ষমা কর হযরত ।"
" হায়রে ভজনালয় !
তোমার মিনারে চড়িয়া ভন্ড , গাহে স্বার্থের জয় ।"
ধর্মান্ধ হলে যে মনুষ্যত্ব মরে যায় তা তিনি দেখিয়েছিলেন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষিতে লেখা প্রবন্ধগুলোতে ।
আজ দেশে দেশে ধর্মীয় উগ্রতা দেখে তা কি সত্য মনে হয় না ।
" মুখ তাহাদের শুকরের চাইতে কুৎসিত, মন তাহাদের শয়তানের চাইতে কদর্য ।"
শ্রমজীবীদেরকে শোষণ, বন্চনা শুধু নয় অপমান যে করা হয় তা তাকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল ..
দেখিনু সেদিন রেলে
কুলি বলে এক বাবুসাব তারে
ঠেলে দিল নিচে ফেলে ।
চোখ ফেটে এল জল
এমন করিয়া জগৎ জুড়িয়া
মার খাবে দুর্বল ! "
" বেতন দিয়াছ ?
চুপ রও ! যত মিথ্যাবাদীর দল ,
কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই , কত ক্রোর পেলি বল ? "
ধর্মে - ধর্মে, নারী - পুরুষে , জাতিতে - জাতিতে বৈষম্য তাকে ব্যথিত ক্ষুব্ধ করেছে । তাই শুধু পর্যবেক্ষণ নয়, পরিবর্তন প্রত্যাশা করেছেন তিনি । তা মনের, সমাজের, রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে - অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকা নয়, নিজের কর্তব্য পালন করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন তিনি ।
"হিন্দু না ওরা মুসলিম, ঐ জিজ্ঞাসে কোন জন ?
কান্ডারী, বল ডুবিছে মানুষ !
সন্তান মোর মা'র । "
" নেতা কে ? তোমার বিবেক তোমার নেতা । দেশমাতা সকলকে আহবান করিয়াছেন, যাহার বিবেক আছে, কর্তব্যজ্ঞান আছে সে বুক বাড়াইয়া আগাইয়া যাইবে ।"
" আমরা যদি না জাগি মা !
কেমনে সকাল হবে ? "
যখনই আধার নামবে তখনই আধার তাড়াতে, সকাল আনতে আমরা যেন জেগে উঠি !
( স্মৃতি থেকে লেখা, উদ্ধৃতিতে ভুল থাকতে পারে, বানানে তো অবশ্যই । সংশোধন কাম্য )
EmoticonEmoticon