ঋতুকালীন ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছিল ১২ বছরের মেয়েটি। স্কুল ইউনিফর্ম এবং বসার জায়গাতেও লেগে গিয়েছিল ঋতুস্রাবের রক্ত। সেই নিয়ে হাসি মজা করছিল সহপাঠীরা। বকা দিয়েছিলেন শিক্ষিকাও। ক্লাস থেকে বেরিয়ে যেতেও বলেছিলেন। আর সেই দুঃখেই আত্মহত্যা করেছেন ভারতের তামিনলাড়ুর পালায়ামকোট্টাইয়ের একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী। বুধবার রাত তিনটার দিকে এক প্রতিবেশীর বাড়ির ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে সে।
এই মেয়েটির ভাবনা হওয়া স্বাভাবিক সে পাপী, অশুচি।তা ভাবতে বাধ্য করছে সমাজ।এরকম ভাবনা প্রতিটি নারীকে এই সময়টায় ভাবতে বাধ্য করানো হয়! আত্মহত্যার চিন্তা করে না এমন খুব কম আছে,কারন ভাবতে শেখারর সময় যে তার হয়নি।
ঋতুস্রাব একটি অতি সাধারণ শারীরিক বিষয় না লজ্জার না লুকোবার । অথচ আমাদের দেশে বা সমাজে ঋতুস্রাবকে যৌনতার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মেয়েদের ছোটবেলায়ই শিখিয়ে দেয়া হয় এ ব্যাপার নিয়ে যেন কাউকে কিছু না বলে। এমনকি, ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়কার ব্যাথাও যেন খুব বেশি স্বাভাবিক।
আমাদের সকলকেই পরিবার থেকে শেখাতে হবে সে হোক ছেলে বা মেয়ে। এই ব্যপারটা যে স্বাভাবিক তাই। বুঝাতে হবে দেখো একটি মেয়েকে মা হবার জন্য কত সংগ্রাম করে যেতে হয়।মুল্যবোধটা সেখান থেকেই তৈরি হবে।
আমরা এতটাই ভ্রষ্ট সমাজে বাস করি শিশ্নের অগ্রভাগের চামড়া কেটে ফেলার মত ঘটনা হয় উৎসবের !! আর একটি মেয়ে সন্তান জন্ম দেবার অংশবিশেষ ঋতুস্রাবের মত ঘটনার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে - সেটি হয় গোপন লজ্জাকর !
নারীতে হুমায়ুন আজাদ বলেছেন,
'নারীর ভেতরে যা ঘটে, তার জন্য তার প্রাপ্য ছিল স্তব; কিন্তু পিতৃতন্ত্র তাকে করছে তিরস্কার; ঘোষনা করছে দুষিত ব'লে।কারন নারীর কোন-না-কোন দোষ খুঁজে বের করতে পারলেই পিতৃতন্ত্র তার বিধানকে ক'রে তুলতে পারে আর নির্মম। '
EmoticonEmoticon