রিয়াজ আহমেদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রিয়াজ আহমেদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৭

উপমহাদেশে ধর্মীয় প্রভাব এবং দেশপ্রেম

মুসলমানরা, মধ্যযুগে আরব, তুরস্ক, ইরান-তুরান, আফগানিস্তান প্রভৃতি দেশ থেকে বাংলা তথা ভারত উপমহাদেশে আগমন করে।শুরুতে এইদেশে  মুসলমানরা আশ্রয় নিলেও এক সময় নিজের অবস্থান শক্তিশালী করে।
৬৩০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ প্রথম মুসলমান পর্যটকরা নৌপথে ভারতীয় উপকূলভাগে অবতরণ করেন। সপ্তম শতাব্দীর শেষভাগে আরব মুসলমানরা প্রথম ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিলেন।
ঠিক মুহাম্মদ ১৪০০ বছর আগে মক্কা থেকে বিতাড়িত হয়ে মদিনা কাফের কাছে আশ্রয় নিয়েছিল।এর পরের ইতিহাস আমরা সবাই জানি।
ঠিক মুসলমানরা এই দেশে বিধর্মী দেশে এসে আশ্রয় নিয়েছিল মুহাম্মদ এর মত এর পরের ইতিহাস আজ বিশ্লেষণ করব।

কিছু মানুষ মনে করে মুসলিমরা তাদের চিরন্তত আবাসভূমি হিসাবে গ্রহণ করেছে এ দেশকে এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ দেশের হিন্দুর সাথে পাশাপশি বসবাস করে এসেছে। কিন্তু ঐতিহাসিক নির্মম সথ্য এই যে, হাজার বছরেরও বেশী কাল হিন্দু-মুসলমান একত্রে পাশাপাশি বাস করে,বরঞ্চ তাদের মধ্যে আত্মিক সম্পর্কও গড়ে উঠতে পারেনি।তবে একে অপরের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়নি, তা নয়। তবে তা বিশেষ স্থান, কাল–জাতি হিসাবে নয়, প্রতিবেশী হিসাবে। সেও আবার সামরিকভাবে। তাদের মধ্যে সৌহার্দ ও একাত্মতার স্থায়ী শিকড় বদ্ধমূল হতে পারেনি কখনো।
হিন্দু মুসলমান সম্পর্ক নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন উনার লেখায়-

“সকলের চেয়ে গভীর আত্মীয়তার ধারা নাড়ীতে বয়, মুখের কথায় বয় না। যাঁরা নিজেদের এক মহাজাত বলে কল্পনা করেন, তাঁদের মধ্যে নাড়ীর মিলনের পথ ধর্মের শাসনে চিরদিনের জন্য যদি অবরুদ্ধ থাকে, তাহলে তাঁদের মিলন কখনই প্রাণের মিলন হবে না। -[রবীন্দ্র রচনাবলী (শতবার্ষিকী সংস্করণ), ১৩’শ খন্ড-পৃঃ ৩০৮]

এই যে পাশাপাশি বসবাস করেও উভয়ের মধ্যে দূরত্ব
এর কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে ডক্টর রমেশ চন্দ্র মজুমদার বলেনঃ

এই দুই সম্প্রদায়ের ধর্মবিশ্বাস ও সমাজবিধান সম্পূর্ণ বিপরীত… হিন্দুরা বাংলা সাহিত্যের প্রেরণা পায় সংস্কৃত থেকে আর মুসলমানরা পায় আরবী-ফারসী থেকে। মুসলমানদের ধর্মের গোঁড়ামিও মুসলমানদেরকে তাদের প্রতি সেরূপ বিরূপ করেছিল। … হিন্দুরা যাতে মুসলমান সমাজের দিকে বিন্দুমাত্র সহানুভূতি দেখানে না পারে, তার জন্যে হিন্দু সমাজের নেতাগণ কঠোর বিধানের ব্যবস্থা করেছিলেন। (রমেশ চন্দ্র মজুমদারঃ বাংলাদেশের ইতিহাস মধ্যযুগ,

দেখা যাচ্ছে এই যে পার্থক্য এবং দূরত্ব এ শুধু বাহ্যিক ও কৃত্রিম নয়। এর গভীর মূলে রয়েছে উভয়ের পৃথক পৃথক ও বিপরীতমুখী ধর্মবিশ্বাস ও সংস্কৃতি। ইসলামি সংস্কৃতি হল একটি আরবিয়ান সসংস্কৃতি যা এইদেশের সংস্কৃতির বিপরীত মুখী। দুইটি জাতি একত্রিত হওয়ার প্রধান বাধা হল বিপরীত মুখী দুইটি ধর্ম।যা কখনো একই সংস্কৃতিতে মিলেমিশে  চলা সম্ভব না।

ইসলামী তৌহিদের চিত্তচাঞ্চল্যকর বিপ্লবী বাণী, স্রষ্টা সমীপে সর্বস্ব নিবেদন ইসলামের বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও প্রেম, এই গুলি শুরুতে হিন্দুদের জন্য ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।হিন্দুদের উপর আদেশ শুরু হয় মুসলামদের ধর্ম গ্রহনে জন্য।

বাংলা তথা ভারত উপমহাদেশের দু’টি বৃহৎ জাতি হিন্দু ও মুসলমান দু’টি স্বতন্ত্র ধর্মবিশ্বাস ও সংস্কৃতির। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই যে, দু’টি স্বতন্ত্র ধর্মবিশ্বাসী একই দেশে মিলেমিশে, শান্তিতে ও নির্বিবাদে বসবাস করতে পারলোনা কেন? পৃথক শুধু ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণেই তাদের সদ্ভাব, সৌহার্দ ও মধুর সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারেনি। এর জন্য দায়ী কে?

হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ ও সংঘর্ষের একটা কারণ হল রাজনৈতিক, আধিপত্য, ক্ষমতা লোভ এবং ধর্মীয় উন্মাদনা।

আর শুরুতে  উপমহাদেশে হিন্দুশাসনের পরিবতর্থে যে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা হিন্দুজাতি মনেপ্রাণে মেনে নিতে পারেনি। অষ্টম শতকের পর থেকে পরবর্তী কয়েক শতক পর্যন্ত মুসলিম সামরিক শক্তির প্রভাব ছিল। এ অপ্রতিহত শক্তির মুখে ভারতীয় রাজনৈতিক শক্তি টিকে থাকতে পারেনি বলে মুসলিম শাসন প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু আর এইজন্য এ দেশের বিজিত হিন্দুগণ নিজ রাজ্যের জন্য দুঃখ-অপমানে-লজ্জায় মুসলিম শাসন অন্তর দিয়ে মেনেও নিতে পারেনি।ভিনদেশীদের কাছে পরাজিত হয়ে নিজে আশ্রিত হয়ে থাকতে হবে তা মেনে নিতে পারেনি । তাদের অন্তরাত্মা বিক্ষোভে ফেটে পড়ছিল। বহু শতকের পুঞ্জিভূত বিক্ষোভ ও প্রতিহিংসার বহ্নির বিস্ফোরণ ঘটেছিল মধ্যভারতে রাজপূত, মারাঠা, শিখদের বিদ্রোহের মাধ্যমে এবং তা সার্থক হয়েছিল ১৭৫৭ সালে সিরাজদৌলার পতনে। তারপর থেকে ঊনবিংশ শতকের শেষ পর্যন্ত দেড় শতাব্দী যাবত মুসলমানদের জীবনে নেমে এসেছিল চরম দুর্দিন। হিন্দু ও ইংরেজদের সম্মিলিত শক্তি দিয়ে তাদেরকে ধরাপৃষ্ঠ থেকে উৎখাত করার সর্বপ্রকার প্রচেষ্টা ও কৌশল অবলম্বন করা হয়।আর এই ভাবে এক অপরে শত্রুতা সম্পর্ক আরও ভয়ংকর থেকে ভয়ংকরী রুপ নিতে থাকে।তার পরেও এই উপমহাদেশ হিন্দু মুসলিম সম্পর্কের বিন্দু মাত্র উন্নতি হয়নি।এই দুই জাতির সম্পর্কের অবনতি শেষ পর্যায় এসে এই দেশ দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়।ধর্মের কাল থাবায় একটি দেশ ভেঙ্গে  দ্বিখণ্ডিত  হয়ে যায়।তার পরেও একটি দেশ রক্ষা হয়নি ধর্মের আগ্রাসনে তাকে আবার রক্তাক্ত হতে হয়েছে।একটা দেশ, সংস্কৃতি তার নিজস্ব অস্তিত্ব রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পিছনে ধর্মীয় অবদান কতটুকু তা হিসাববিজ্ঞান ছাড়া গণনা করা যাবে না।ধর্ম দ্বারা আমাদের দেশ প্রেম বার বার ধর্ষিত হয়েছে এবং সু সম্পর্ক হয়েছে বিতাড়িত।

শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৭

এখনি সময় নিজেকে প্রশ্ন করুন ।

ধার্মিকদের  ধারণাগত দেবতা বা আল্লাহ জন্য প্রার্থনা থেকে  কি মানুষের  চিন্তাভাবনামূলক কর্মকান্ড আরও উত্তম না?

মানুষ খুব অলস প্রকৃতির।চিন্তাভাবনা নিয়ে সময় ব্যয় করতে চায় না।ধর্মের প্রতিষ্ঠাতার মস্তিষ্কের থেকে যে চিন্তাভাবনা বা ধারনা গুলি প্রতিষ্ঠিত শুধু তাই নিয়েই থাকতে চান। মানুষ যেই বাস্তব  চিত্রগুলি দেখে তা থেকে চিন্তার প্রক্রিয়া শুরু করে না।তাহলে ধর্ম অনেক আগেই বিলুপ্তি হয়ে যেত।

মানুষ  সঞ্চিত করেছে চিন্তাভাবনা গুলিকে। তারা  লেখা  পড়া করছে এবং প্রতিদিন শিখছে।কিন্তু তাদের নিজস্ব  জ্ঞানকে সঞ্চিতা করে রেখে অন্যের জ্ঞান দ্বারা সব কিছুর ব্যাখ্যা করেছে।

আপনার কাল্পনিক ধর্মই আপনার কর্তৃত্ব করছে কেন? আবার আপনার সন্তানকেও একই ভাবে শিখাছেন।এবং  তাদেররর  স্কুলে গুলিতেই শেখানো হয় গীর্জা,মজিদ এবং মন্দিরগুলি সব থেকে পবিত্র স্থান।আপনি তাদেরকে নতুন কিছু শিখাচ্ছেন না। আপনার অলস চিন্তা গুলিকে তাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। কারণ মনের মত করে নিজের এবং তাদের জন্য নতুন কিছু  খুঁজে বের করার জন্য আপনি খুব অলস।

তারপর আপনি আপনার কল্পনা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে কাঠ এবং মাটির মত কাঁচামাল থেকে আপনার ঈশ্বর সৃষ্টি এইগুলি বিশ্বাস করেন।তবে আপনি এখন পর্যন্ত এই সব বিশ্বাসকে সত্য ও চূড়ান্তভাবে কোন তদন্ত ছাড়াই গ্রহণ করেছেন।কারণ  তদন্তে করার মত শক্তি বা সৎ সাহস আপনার নেই।যা কিনা আপনার নিজের মধ্যে এইরকম সৎ সাহস সৃষ্টি ব্যর্থত হয়েছেন।এখন আবার আপনার এই ব্যর্থতা গুলিই সন্তানদের শিখাচ্ছেন।
এখন যারা এই বিষয় গুলি নিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করে তারা আপনার শত্রু হয়ে যায়।এবং তাদেরকে হত্যা করতেও কোন আপোষ করেন না।

আর মূল কথা হচ্ছে আপনি অজানাকে অনুমান করতে পারেন না তাই আপনি অজানা মধ্যে প্রসারিত ঈশ্বরের মতো একটি শব্দ তৈরি করেন।

এখনি সময় নিজেকে প্রশ্ন করুন।এটা কি সত্য? বা সঠিক ধারণা যা আপনি  বাস্তব সত্য  হিসাবে বিশ্বাসীর মধ্যে থেকে গ্রহণ করেছিলেন?

শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৭

এখনি সময় নিজেকে প্রশ্ন করুন ।

ধার্মিকদের  ধারণাগত দেবতা বা আল্লাহ জন্য প্রার্থনা থেকে  কি মানুষের  চিন্তাভাবনামূলক কর্মকান্ড আরও উত্তম না?

মানুষ খুব অলস প্রকৃতির।চিন্তাভাবনা নিয়ে সময় ব্যয় করতে চায় না।ধর্মের প্রতিষ্ঠাতার মস্তিষ্কের থেকে যে চিন্তাভাবনা বা ধারনা গুলি প্রতিষ্ঠিত শুধু তাই নিয়েই থাকতে চান। মানুষ যেই বাস্তব  চিত্রগুলি দেখে তা থেকে চিন্তার প্রক্রিয়া শুরু করে না।তাহলে ধর্ম অনেক আগেই বিলুপ্তি হয়ে যেত।

মানুষ  সঞ্চিত করেছে চিন্তাভাবনা গুলিকে। তারা  লেখা  পড়া করছে এবং প্রতিদিন শিখছে।কিন্তু তাদের নিজস্ব  জ্ঞানকে সঞ্চিতা করে রেখে অন্যের জ্ঞান দ্বারা সব কিছুর ব্যাখ্যা করেছে।

আপনার কাল্পনিক ধর্মই আপনার কর্তৃত্ব করছে কেন? আবার আপনার সন্তানকেও একই ভাবে শিখাছেন।এবং  তাদেররর  স্কুলে গুলিতেই শেখানো হয় গীর্জা,মজিদ এবং মন্দিরগুলি সব থেকে পবিত্র স্থান।আপনি তাদেরকে নতুন কিছু শিখাচ্ছেন না। আপনার অলস চিন্তা গুলিকে তাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। কারণ মনের মত করে নিজের এবং তাদের জন্য নতুন কিছু  খুঁজে বের করার জন্য আপনি খুব অলস।

তারপর আপনি আপনার কল্পনা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে কাঠ এবং মাটির মত কাঁচামাল থেকে আপনার ঈশ্বর সৃষ্টি এইগুলি বিশ্বাস করেন।তবে আপনি এখন পর্যন্ত এই সব বিশ্বাসকে সত্য ও চূড়ান্তভাবে কোন তদন্ত ছাড়াই গ্রহণ করেছেন।কারণ  তদন্তে করার মত শক্তি বা সৎ সাহস আপনার নেই।যা কিনা আপনার নিজের মধ্যে এইরকম সৎ সাহস সৃষ্টি ব্যর্থত হয়েছেন।এখন আবার আপনার এই ব্যর্থতা গুলিই সন্তানদের শিখাচ্ছেন।
এখন যারা এই বিষয় গুলি নিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করে তারা আপনার শত্রু হয়ে যায়।এবং তাদেরকে হত্যা করতেও কোন আপোষ করেন না।

আর মূল কথা হচ্ছে আপনি অজানাকে অনুমান করতে পারেন না তাই আপনি অজানা মধ্যে প্রসারিত ঈশ্বরের মতো একটি শব্দ তৈরি করেন।

এখনি সময় নিজেকে প্রশ্ন করুন।এটা কি সত্য? বা সঠিক ধারণা যা আপনি  বাস্তব সত্য  হিসাবে বিশ্বাসীর মধ্যে থেকে গ্রহণ করেছিলেন?

রবিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৭

বৌদ্ধধর্মের অদ্ভুত বিশ্বাস ।

যে বুদ্ধ নিরীশ্বরবাদী, কার্যকারণ সম্পর্কে বিশ্বাসী- সেই বুদ্ধকে দেবতা বানিয়ে ছাড়তে কেউই প্রায় কসুর করেননি। বুদ্ধকে ঘিরে কাহিনী ও তথাকথিত ইতিহাসে অলৌকিক ঘটনার ছড়াছড়ি। পালি ভাষায় বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে প্রথম লেখা হয় তাও বুদ্ধের মৃত্যুর কয়েক’শ বছর পরে। তখন আদি বৌদ্ধ ধর্মের রূপান্তর ও বিভাজন হয়েছে। পালি বৌদ্ধশাস্ত্রে আমরা পেলাম পল্লবিত, অলৌকিকে ভরা বুদ্ধকে।

দুটি ভিন্ন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী আছে, সেখানে মহাযানি ও থেরবাদী আছে।
থেরবাদী মূল বুদ্ধের মূল শিক্ষা অনুসরণ করে এবং তারা বুদ্ধ কী বলেছিলেন শুধু তা লিখেছেন, থেরবাদী বৌদ্ধ সাধারণত দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, প্রভৃতিতে বসবাস করে।তারা বিশ্বাস করে যে মানুষ  জীবদ্দশায় জ্ঞান অর্জন করে, এবং নিরভানে পৌঁছানোর জন্য এগুলি গ্রহণ করে।

মহাজানি বৌদ্ধ তিব্বতে, চীন, কোরিয়া ও জাপানে বাস করে, তারা মূল শিক্ষা অনুসরণ করে না, তারা বিশ্বাস করে যে বৌদ্ধ বাইরের স্থানে গিয়ে  দেবদূতদের সাথে কথা বলে, বুদ্ধ তাদেরকে একটি গোপন শিক্ষা  শেখিয়েছেন।তখন দেবতারা এই গোপন শিক্ষাকে সন্ন্যাসী বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল, তারপর সন্ন্যাসীরা এটি লিখেছে, আমার মনে হয়, এটা আমার কাছে খুবই বিভ্রান্তিকর।

তারা বিশ্বাস করে যে একবার আপনি জ্ঞানেন্দ্রিয় পৌঁছলে আপনি বোধিসত্ত্ব হয়ে উঠবেন এবং আপনি আবারও পুনরুত্থিত হবেন এবং অন্যদেরকে জ্ঞানদান পৌঁছানোর জন্য সাহায্য করবেন।

মূল বুদ্ধের পূর্বের জীবনগুলিতে প্রচুর পরিমাণে সাহিত্য আছে। বইগুলিতে তিনি হরিণ, হাতি এবং বানর হিসাবে আবির্ভূত হন।কল্পনানুসারে বুদ্ধ তাঁর অতীতের জীবন সম্পর্কে তাঁর শিষ্যদের বলেছিলেন, এবং তিনি তাদের লিখেছিলেন। তারা পড়ার প্রাণী এবং পৌরাণিক কাহিনী সঙ্গে চতুর সামান্য লোককাহিনী অনুরূপ।যা পড়তে মজাদার কিন্তু বাস্তবতার সাথে কি মিল আছে?

বৌদ্ধধর্মের একটি সুপার হিরো আছে যা আমাদের মিত্রেয় নামক যা তাদের রক্ষা  করবে। মিত্রেয় মূল বুদ্ধ নয়, তিনি বর্তমানে স্বর্গের অন্যতম ব্যক্তি। স্বর্গ একটি সমান্তরাল মহাবিশ্ব যেখানে দেব / দেবদূত বৌদ্ধ অধ্যয়ন করেন এবং ধর্ম যখন পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যাবে  মৈত্রেয় আবার ফিরে আসবে এবং আবার  ধর্মের শিক্ষা দেবেন।এখনও এই সম্পর্কে খুব বিভ্রান্ত আমি।

একজন সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই এই রোগগুলির মধ্যে কোনটিই থাকতে পারবে না: কুষ্ঠ, গিট্টি, ফোয়ারা,ফুসফুসের সমস্যা, মৃগী, জন্ডিস, হাতিটিসিস, হারিকিয়া, স্পমোডিক কলেরা, হাঁপানি, রক্তাক্ত ফোলা, রিমিটিজম, গ্ল্যান্ডস ফুলে যাওয়া, রক্তের রোগ, লিভারের রোগ, অর্শ্বরোগ, হাড়ের রোগ ইত্যাদি ইত্যাদি।

সাধারণভাবে বৌদ্ধধর্মের মধ্যে একজন পুরুষ জন্মগ্রহণ করা ভাল, তারা বিশ্বাস করে যে পুরুষ হচ্ছে পুরুষের দ্বারা জ্ঞান অর্জন করা সহজ। একটি মহিলা জ্ঞানেন্দ্রিয় পৌঁছতে পারে না। তাই সেখানে কখনও একটি মহিলা বুদ্ধ হতে পারে না।

শুক্রবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৭

ইবনে সিনার অবদান কি ইসলামের অবদান। ?

বাংলার আরজ আলী মাতুব্বর, আহমদ শরীফ বা হুমায়ূন আজাদকে কি মুসলমান বলা যাবে? শুধুমাত্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণের কারণে তবু যদি মুসলিমরা তাদেরকে মুসলিম বলে স্বীকার করে নেয়ও, তাদের দর্শন, পান্ডিত্যকে কি কিছুতে ইসলামের অবদান বলা যাবে?
আর যাদেরকে এক সময় মুরতাদ, নাস্তিক, কাফের বলে হত্যা করা হয়েছে, একঘরে করা হয়েছে- পরবর্তীকালের তাদেরকেই “মুসলিম দর্শনিক-জ্ঞানী” ব্যক্তি বলে প্রচারণা চালানো চরম ভন্ডামী ও প্রতারণা। আজকে যারা মুসলিম বিজ্ঞানী-দার্শনিক বলে যাদের পরিচয় করে দিচ্ছেন তাদের সবাই-ই ছিলেন সংশয়বাদী। ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছিলেন। পয়গম্ব দাবীকৃতদের “ভন্ড” বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
৯৮০ খৃস্টাব্দে ইবনে সিনার জন্ম বোখারার নিকটবর্তি আফসানা নামক এক গ্রামে। ইবনে সিনার বাবা ছিলেন তুরস্কের বলক প্রদেশের এবং একজন ইসমাইলী মুসলিম। ধর্মতাত্ত্বিক এবং দার্শনিক চিন্তাভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক দিক থেকেই তিনি ছিলেন কোরানের মৌলিক বিশ্বাসের পরিপন্থী। ইবনে সিনার (৯৮০ খৃঃ - ১০৩৭ খৃঃ) সময় আরবীয় দর্শন এবং চিকিৎসা বিজ্ঞান সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌছায়। তাকে একাধারে দর্শন এবং চিকিৎসা শাস্ত্রের রাজপুত্র নামে অভিহিত করা হত। পশ্চিমের এরিষ্টটল, প্লেটো, নব্য প্লেটোবাদ, এবং স্টয়িক দর্শনের উপর ব্যপক জ্ঞানার্জন করেন তিনি এবং একই সাথে প্রাচ্যের মনিষীদের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং কাঠামো সম্পর্কেও ব্যপক ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। কিন্তু এগুলির কোনটিকেই পুরোপুরি ভাবে মেনে চলতেন না বা অণুসরণ করতেন না। তবে সবগুলো বিশ্বাস থেকেই কিছু কিছু উপাদান নিয়ে নিজস্ব একটি বিশ্বাসের ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন। তার সেই ধর্মীয় বিশ্বাসে ইশ্বর (আল্লাহ), মানুষ, এবং এই মহাবিশ্বের সবকিছু পরস্পরের উপর নির্ভরশীল বা মুখাপেক্ষি ছিলো না। তিনি বিশ্বাস করতেন মানুষ এবং সৃষ্টিকর্তা পরস্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত হলেও মানুষ সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। আল্লাহ মানুষের সাথে সরাসরি কোন যোগাযোগ রাখেন না এবং বিশ্বটাকে নিয়ন্ত্রণ করেন না। ইবনে সিনার সাথে এরিষ্টটলের ইশ্বরের পার্থক্য আছে। এরিষ্টটলের ইশ্বর এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেননি এবং এটা নিয়ে তার কোন মাথা ব্যাথাও নেই। ইবনে সিনার ইশ্বর (আল্লাহ) মধ্যপ্রাচ্যীয় ইশ্বর (Semitic - আরব, হিব্রু, আসীরিয়, ফিনীসিয় ইত্যাদী) কিন্তু তার নিজস্ব দর্শন দ্বারা পুনঃনির্মিত ইশ্বর। তার আল্লাহর গুনাবলীর যৌক্তিক ব্যাখ্যা এবং সৃষ্টিশীলতার সাথে স্পস্টতই কোরানের আল্লাহর গুনাবলীর যৌক্তিক ব্যাখ্যা এবং সৃষ্টিশীলতার পার্থক্য রয়েছে।
ইবনে সিনার বিশ্বাসের সাথে কোরানের বিশ্বাসের সংঘর্ষ যেখানেঃ
১) মানুষ এবং মহাবিশ্বের সৃষ্টিঃ
ইবনে সিনার মতে এ বিশ্বের কোনকিছুই শূণ্য থেকে (Ex Nihilo) সৃষ্টি হয়নি। পদার্থের শুরু কিংবা শেষ নাই.... পদার্থ চিরন্তন এবং জগতের সৃষ্টি সময় এবং স্হান দ্বারা সীমাবদ্ধ নয় - এই জগতের কোন শুরু নেই এবং কোন শেষও নেই। কোরানের বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহ সবকিছুই শূণ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন এই মতবাদ তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। বরঞ্চ এ জগৎ তার ইচ্ছাশক্তির ফলস্বরুপ তার সত্বা থেকে বিকিরিত। সক্রিয় বুদ্ধিমত্তা সর্বপ্রথম বিকিরিত হয়, এরপর আত্মা এবং সবশেষে দেহ। সৃষ্টিকর্তা সরাসরি তার সৃষ্টির সাথে কোন যোগাযোগ রাখেন না। আল্লাহ যতদিন ধরে আছে এই জগতের অস্তিত্বও ততদিনকার। আল্লাহ এ বিশ্বকে কোন এক বিশেষ সময়ে সৃষ্টি করেছেন এ মতের বিরোধী ছিলেন। এ বিশ্ব পরম স্রষ্টা থেকে আদি বুদ্ধি এবং অন্যান্য বুদ্ধির মধ্য দিয়ে বিকির্ণ হয়ে অনন্তকাল ধরে বিরাজমান রয়েছে। তিনি আর বলেন সর্বত্র বিরাজিত পরম সত্বা এমন কোন সুশৃঙ্খল এবং মঙ্গলকর বিশ্ব সৃষ্টি করবেন না যেটা তার স্হায়িত্বকে সময়ের প্রেক্ষিতে অতিক্রম করতে সক্ষম নয়।
২) আল্লাহর স্বরুপ এবং তার সর্বজ্ঞানঃ
ইবনে সিনার মতে আল্লাহর স্বরুপ খুবই সাধারণ। তিনি আল্লাহর বিশুদ্ধ একক সত্তায় বিশ্বাস করতেন। তাঁকে অস্তিত্ব সম্পর্কিত দর্শনের কোন শব্দাবলী বা বৈশিষ্ট্য দিয়ে চিহ্নিত করা যাবে যাবে না এবং তাঁকে বিভিন্ন গুণাবলী দিয়ে প্রকাশ করার চেষ্টা হলো তাঁর একত্ববাদেরর স্পষ্ট লংঘন। মুতাজিলাদের মতোই তিনি আল্লাহর একক সত্তায় তাঁর আলাদা আলাদা গুনের অস্তিত্বকে অস্বীকার করেন। অপরদিকে কোরান অনুযায়ী আল্লাহ বিভিন্ন মানবিক গুনাবলীর অধিকারী এবং তার প্রায় শ'খানেক নাম আছে। ইবনে সিনা যে আল্লাহর কথা বলেন সে আল্লাহ এক পরম, বিশুদ্ধ একক স্রষ্টা, আমাদের পার্থিক জগতের তুলনায় সেই স্রষ্টা বিকারহীন এক সত্ত্বা। সমগ্র বিশ্ব সেই স্রষ্টার জ্ঞান প্রক্রিয়ার ফলাফল। ইবনে সিনার মতে আল্লাহ এ পৃথিবীর সব কিছু সম্পর্কেই একটা সামগ্রিক ধারণা রাখেন কিন্তু পুঙ্খানুপুঙ্খু জ্ঞান রাখেন না। যেহেতু স্রষ্টার জ্ঞান প্রক্রিয়ার ফলাফল এই বিশ্ব, সুতরাং সার্বিক বস্তু যেমন গ্রহ, সূর্য, তারা, গাছ, মাছ, মানুষ এইরকম সার্বিক বস্তু সম্পর্কে স্রষ্টা সচেতন এবং এগুলো তার সার্বিক জ্ঞানের অংশ। কিন্তু স্রষ্টা সার্বিক ‘মানুষ’ সম্বন্ধে জ্ঞান রাখলেও তিনি বিশেষ কোন ব্যক্তিবিশেষ যেমন ‘ইবনে সিনা’, বা হোরাস সম্পর্কে কোন জ্ঞান রাখেন না। ‘মানুষ’ তার জ্ঞান চিন্তার ফসল, এই কারণে মানুষ কি তা তিনি জানেন কিন্তু ইবনে সিনাকে তিনি চেনেন না।
৩) মৃত্যু পরবর্তী দৈহিক পুনুরুত্থানঃ
ইবনে সিনার মতানুসারে মানুষ আত্মা এবং দেহের সমন্বয়ে গঠিত। তবে কোরানে স্পষ্টভাষায় মৃত্যুপরবর্তি দৈহিক পুনুরুত্থানের যে বর্ণনা দেয়া আছে সুনির্দিষ্টভাবে তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তার মতে কোরানের বর্ণনা অনুসারে দৈহিক পুনুরুত্থান সম্ভব নয়। এবং তা যৌক্তিকভাবে ব্যাখা করাও সম্ভব নয়। তিনি আত্মার একত্বে বিশ্বাস করতেন। তার মতে, মৃত্যুর পরে পুণ্যাত্মা ফিরে যাবে বুদ্ধির জগতে, এ পর্য্যায়ে আত্মা আপন বিচ্ছিন্ন অস্তিত্ব হারিয়ে শাস্বত বুদ্ধিজগতের সাথে একাত্মতা লাভ করবে।
৪) নবীদের বা নবুয়ত সম্পর্কিত ধারণার সংঘর্ষঃ
নবুয়ত প্রাপ্তি সম্পর্কে ইসলামের ধারণাকে তিনি নামমাত্রে স্বীকার করে নিয়েছেন। কিন্তু তিনি নিজের মত করে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কোরানের নবি-রাসুলরা প্রত্যেকেই প্রেরিত পুরুষ, অনেকেই আসমানি কিতাব প্রাপ্ত। অনেকের সাথেই জিব্রাইল সরাসরি যোগাযগ করত, এবং স্বশরীরে আল্লাহর সাক্ষাত প্রাপ্ত। ইবনে সিনার মতে নবীরা আল্লাহর মুখপাত্র হিসাবে অর্পিত (Endowed) এবং মনোনীত/আদেশপ্রাপ্ত (Ordained) নন। আসলে তারা মানবীয় গুণাবলির অধিকারী সাধারণ মানুষ যারা কিনা সমাজের চলমান সমস্যা সমাধানের জন্য সমাজেরই সৃষ্টি। সমাজে কিছু মানুষ থাকে যাদের বুদ্ধিবৃত্তিক এবং নৈতিকতার ক্ষমতা অন্যদের তুলনায় বেশী থাকে। এই নেতা- নবীর উচ্চতর অন্তর্জ্ঞান (Intuition) ক্ষমতার সুবিধা থাকার কারণে গোত্রের কিংবা সমাজের প্রয়োজন এবং সমস্যাগুলো ভাল বুঝতে পারেন। এইসব সমস্যার সমাধানে তার প্রখর কল্পনা শক্তি তাকে সাহায্য করে এবং তার বক্তব্য সাধারণ মানুষদের সফলভাবে বোঝানোর ক্ষমতা থাকে এবং তাদের মাঝে প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা থাকে। তার বক্তব্যের রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট থাকে। হয়ত তার পক্ষে সক্রিয় বুধিমত্তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হলেও হতে পারে। সেই সক্রিয় বুদ্ধিমত্তা হতে পারে সম্ভাব্য, বাস্তব কিংবা আরোহিত বুদ্ধিমত্তা যাকে খ্রীস্টানদের 'হোলি ঘোস্ট' কিংবা ইহুদী-মুসলমানদের জিব্রাইলের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। তবে নবীদের সেই জ্ঞান তার নিজস্ব উপলব্ধীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। সাধারণ মানুষের বোধগম্যতার কথা মাথায় রেখে নবী তাকে রুপক কিংবা প্রতিকী ভাষায় সাধারণ্যে উপস্হাপন করেন। আর সাধারন মানুষেরা সেটাকেই আক্ষরিক অর্থে ধরে নেয়। কিন্তু জ্ঞানী মানুষেরা কখনও তা করে না।
৫) সূফীবাদঃ
ইবনে সিনার সবচাইতে উল্লেখযোগ্য দর্শনের বই হচ্ছে আল-সিফা (নিরাময় - The Cure)। এটা সম্ভবত একজন মানুষের লেখা দর্শনের উপর সবচাইতে বড় বই। এতে যুক্তি, পদার্থ বিদ্যা, অধি বিদ্যা, ভূ-তত্ব, জলবায়ু বিদ্যা, উদ্ভিদ বিদ্যা, প্রাণী বিদ্যা, গণিত এবং মনবিদ্যা স্হান পেয়েছে। তার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দর্শেনর বই আল ইশারাত ওয়া আল তামজিহাদ (Direction and Notices)। তিনি সুফিবাদের উপর তিনটি অধ্যায় এই বইতে লিখেছেন। সুফিবাদের উপর তার আরও ৩২টির মত প্রবন্ধ/নিবন্ধ আছে। শুধুমাত্র পার্থিব জগতের ভোগ-লালসা থেকে বিরত থাকাটাই তার কাছে যথেষ্ঠ মনে হয়নি। তিনি মনে করতেন জ্ঞানের চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌছানোর জন্য উদ্ভাসনের (Illumination) চেষ্টা করা উচিৎ। আর উদ্ভাসন সম্ভব জাগতিক এবং মহাজাগতিক জগতের মধ্যে সংযোগ স্হাপনের মাধ্যমে। উদ্ভাসনের এই তত্বটি নিকট প্রাচ্য (পারস্য) এবং নব্য প্লেটোনিক (গ্রীক) মতবাদের বিভিন্ন উপাদানের সংমিশ্রণ। আর এরই মাধ্যমে ইবনে সিনা সূফীবাদের এক নতুন ধারার সৃষ্টি করেন যা হিকমত আল ইশরাক (The illuminative one) নামে পরিচিত। তার ভাবশিষ্য আল সুহারোয়ার্দি পরবর্তিকালে সূফীবাদের এই শাখাটির প্রচার এবং প্রসার ঘটান।
৬) একমাত্র আল্লাহই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক: ইসলাম ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহ হলেন যা কিছু ঘটে তার একমাত্র কার্যকরণ। কোরান শরীফের সুরা আল ইমরানের আয়াত নাম্বার ২৬-২৭ এ কথা পরিস্কার ভাবে বলা আছে।
আল্লাহ ছাড়া আর কারও পক্ষে কোন কিছু ঘটানো সম্ভব না। ইবনে সিনা এই মতের বিরুদ্ধে ছিলেন। তার অধিবিদ্যা সম্পর্কিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী মানুষ এবং অন্য প্রাণী কিংবা এমনকি জড়বস্তুও আল্লাহর সাহায্য ছাড়াই কোন কিছুর সংঘটনের কারণ হতে পারে।
এছাড়াও কোরানে পরিষ্কার ভাবেই বলা আছে মানুষের জীবনে যা কিছু ঘটে তার নিয়ন্ত্রক আল্লাহ। ইবনে সিনা একজন যুক্তিবাদী হিসাবে এই তত্ব প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন মানুষ নিজেই নিজের কর্মের নিয়ন্ত্রক।
৭) মদ্যপান: দুটি জিনিষের উপর ইবনে সিনার আকর্ষণ/মোহ ছিলো সর্বজন বিদিত - তার ক্রীতদাসী এবং মদ। যদিও প্রথমটি ইসলাম ধর্মমতে যায়েজ এবং সেই সময়ের প্রেক্ষিতে পশ্চিম এবং প্রাচ্যে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই তা প্রাক্টিস করত বিধায় সেটা এখানে গুরত্বপূর্ণ না তবে মদ্যপান ইসলাম ধর্মমতে কঠোরভাবে নিষেধ। মদের প্রতি তার আকর্ষণের যে ব্যাখ্যা তিনি দিয়েছেন সেটা খুবই চিত্তাকর্ষক। তিনি বলেছেন ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে মদ বোকা/নির্বোধদের (fool) জন্য নিষিদ্ধ। কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক আইন অনুসারে বুদ্ধিমানদের জন্য মদ হালাল।
একজন যুক্তিবাদী মানুষ হিসাবে মক্কা-মদীনা বনাম এথেন্স-আলেকজান্দ্রিয়ার মধ্যে তিনি এথেন্স-আলেকজান্দ্রিয়াকে বেছে নিয়েছিলেন। তার পূর্বসূরী আল কিন্দী এবং উত্তরসূরী ইবন রুশদের মত তাকেও কাফের ঘোষণা করা হয়েছিলো। মোল্লাদের প্ররোচণায় আব্বাসীয় খলিফা আল মুস্তানজিদ (মৃত্যু ১১৭০ খৃঃ) তার সব বই পুড়িয়ে ফেলার আদেশ দিয়েছিলেন। ইসমাইলী ধর্মতাত্মিক এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ ধারণ করা এবং প্রচার করায় তিনি বারবার বিপদাপন্ন হন, পাড়ি জমান এক দেশ থেকে আরেক দেশে।
তথ্যসংগৃহীত-
ব্লগ। ,ইনলাইন পত্রিকা,ফেইসবুক কমেন্ট এবংইবনে সিনা  জিবনী থেকে।

প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম,ধর্মীয় আচারনবিধি ও মানবতা প্রথম পর্ব

প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম যেমন ইশ্বর বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত,ইশ্বর বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল, তেমনি এও সত্যি-ধর্মের প্রাতিষ্ঠানিক বা সাংগঠনিক কাঠামো না থাকলে শুধুমাত্র ঈশ্বর বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে ধর্মীয় সম্প্রদায় গুলো কখনই গড়ে উঠত না।অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম ও ঈশ্বর বিশ্বাস উভয় উভয়ের পরিপুরক।এ যেন দুই টলোমলো মাতালের দুইজনের গায়ে ঠেকনা দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা।বাস্তবিকই প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম না থাকলে ঈশ্বর বিশ্বাস টিকে না।ঈশ্বর বিশ্বাস না থাকলে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম দাঁড়াতে পারে না।
মানুষের ধর্ম কখনইই অলীক বিশ্বাসের উপর গড়ে ওঠা হিন্দু,মুসলিম বা খ্রিষ্ট ইত্যাদি হতে পারে না।এমন ভ্রান্ত ধর্ম চিন্তা আরোপিত। অসাম্যের সমাজ কাঠামো কে টিকিয়ে রাখাই আরোপিত। মানুষ ধর্মের নামে কৃত্রিম ভাবে এমন ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায়ে বিভক্ত হতে পারে না।মানুষের একটাই ধর্ম মানুষ্যত্ব বা মানবতা।মানুষ্যত্ব বা মানবতার সংগে  ইশ্বর বিশ্বাসের মত অলীক বিশ্বাস একান্তভাবেইই সুসম্পর্কহীন।সম্পর্ক যদি কিছু থেকেই থাকে তা সংঘর্ষের।অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের সংগ্রামের।অলীকের বিরুদ্ধে বাস্তবের সংগ্রামের।
হিন্দু,মসলিম,খ্রিষ্ট বা অন্য যে কনোও ধর্মবিশ্বাসীরাই বিশ্বাস করেন,তাদের ধর্মগ্রন্থের নির্দেশিত আচারনবিধি মেনে চলাই সৎ জিবন যাপন আর্দশ জিবন যাপনের দিশারী।তাদের ধর্মগ্রন্থ বা ধর্মশাস্ত্রগুলি নির্দেশের বিরোধী কনোও আচারন কখনো  সৎ বা আর্দশ আচারন বলে ধর্মাবিশ্বাসীদের কাছে গন্য হয় না।যদিও সময়ের সংগে তাল মিলাতে অনেক ক্ষেত্রে ধর্মিও নির্দেশের বা বানীর নতুন নতুন ব্যাখ্যা হাজির করা হচ্ছে।তবুও এখন পর্যন্ত ধর্মগ্রন্থ বা ধর্মশাস্ত্রগুলোর মুল বক্তব্যকে অস্বীকার করা হয়নি।প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের নিরিখে একজন ধার্মিক লোক কখনো শাস্ত্রের বিধান অমান্য করে আচারন করতে পারে না।ভগবদগীতা ভগমান শ্রীকৃষ্ণ অস্ত্রত্যাগকারী অর্জুনকে শাস্ত্রের বিধান মেনে ক্ষতিয়ের যুদ্ধেই ধর্মের বিবেচনায় অস্ত্রধারণ করাটাই ইহলোকের কর্তব্য বলে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছেন-যে শাস্ত্র বিধান না মেনে ইচ্ছে মত কাজ করে সে সিদ্ধি, সুখ বা পরমগতি লাভ করে না।কোন কাজ,কোনটা অকাজ,তা নির্ণয়ে একমাত্র প্রমান শাস্ত্র।শাস্ত্রে বিধান জেনে শুধু তা পালনের মাধ্যই তুমি ইহকালের কাজ করতে পার।ভগবদগীতা,১৬/২৩-২৪।

কোরআন এর দিকে তাকান,সেখানে বলা হচ্ছে কোরআন সতপথের দিশারী।যারা এর নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করে তাদের জন্য রয়েছে মার্মান্তিক শাস্তি।কোরআন ৪৫(১১)
এভাবে বৌদ্ধরা'ত্রিপিটক'- এর বিধানকে সৎপথের নির্দেশাবলী মনে করে।খ্রিস্ট ধর্মে বিশ্বাসীরা নিউ টেস্টামেন্ট এর নির্দেশিত পথেই আর্দশ জিবনযাপনের একমাত্র পথ বলে বিশ্বাস করে।ইহুদিরা ওল্ড টেস্টামেন্ট,তালমুদ ও তোরাহ, এর বিধানগুলোকে সৎ পথে চলার নির্দেশ বলে মনে করে।
প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম গুলোর ক্ষেত্রে নিজস্ব বিচার বুদ্ধি,মূল্যবোধ, সমাজ সচেতনতা এ সবের কোনও দাম নেই।ধর্ম গুলো যে ছক তৈরি করে দিয়েছে তাই চিরন্তন এবং অপরিবর্তনীয় আর্দশ বলে ধরে নিতে হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগুলোর নির্দেশিত পথ মানবিক গুনে ভরপুর এমন একটা বিশ্বাস বহুমানুষের চেতনাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।আর এই আচ্ছন্নতার কার ব্যাপক প্রচার।পত্র পত্রিকার ছাপার অক্ষরকে,টেলিভিশন ও সিনেমার পর্দাকে এবং বুদ্ধিজীবীদের কথা ও কলমকে বিশ্বাস করে মানুষ ভেবেছে-সব ধর্মই মানুষের সাম্যে বিশ্বাসী।মানুষ মানুষ বিবেদ সূষ্টির বিরোধী।
এই ধরনের প্রচার ও বিশ্বাস কতটা যুক্তিগ্রাহ্য,আসুন খোলা মনে একটু বিচার করে দেখি।দেখি প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম বাস্তবিক সাম্যের সমাজ গড়তে কতটা আন্তরিক। যারা আধুনিক যুগের তালে তাল মিলাতে,প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মকে মানুষের কাছে গ্রহণীয় করে তুলতে বলেন,ধর্ম মানে শান্তির-শীতলার পুজো,দর্গার সিরনি  বা গির্জার মোমবাতি নয়,ধর্ম মানে way of life বা একটি বিশেষ জীবন যাপন পদ্ধতি''-দেখা যাক ধর্মিয় বিধান মাফিক জীবন যাপন পদ্ধতি কতটা মানবিক।মানবিক কি না বিচার বিশ্লেষণ এর আগে এটা অবশ্যই আরও একবার পরিষ্কার করে বলে দেওয়ার প্রয়োজন  প্রতিটি প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মেই পরমাত্মা, ঈশ্বর বা আল্লাহ আছেন,আছে ইশ্বরের পৃজার বা মনোবাসনার নানা রীতিনীতি আচার আচারন ইত্যাদি।
এই একই সুরে কথা বলছেন রামকৃষ্ণ মিশনের ধর্মিয় বেত্তারা থেকে মুসলিম ধর্মগুরুরা পের্যন্ত সবাই। এইসব ধর্ম কতটা মানবিক তা জানতে আমাদের ফিরে তাকাইতে হবে ধর্মের বিধানগুলোর দিকে।
হিন্দু ধর্মীয় বিধানে নারী জন্ম-পরাধীন,চির-পরাধীন।মনুর বিধানে (৯:৩)আছে
পিতা রক্ষতি কৌমারে ভর্ত্তা রক্ষিত যৌবনে।
রক্ষন্তি স্থবিরে পৃত্রা না স্ত্রী স্বাতন্ত্র‍্যমর্হতি।।
অর্থাৎ নারী স্বাধীনতার যোগ্য না।
হঠাৎ মনুর বিধান টানলাম কেন?মনুর বিধান কি হিন্দু ধর্মীয় বিধান,যেমন মুসলিম ধর্মীয় বিধান কুরআন হাদিস? হ্যা কারন মনু কে?হিন্দু ধর্মের বিশ্বাসীরা মনে করেন,মনু কোণোও রমণীর গর্ভজাত নন,ব্রহ্মার দেহ থেকে উদ্ভৃত।এই হেতু তিনি বহ্মার পুত্র বলে বিবেচিত হয়ার পাশা পাশি 'স্বয়ম্ভূ' মনু বলেও পরিচিত। মনুর শতরূপা,ছেলে প্রিয়ব্রত ও উত্তানপাদ।কন্যা আকুতি,দেবহুতি ও প্রসূতি। এদের ছেলে মেয়েদের থেকেই নাকি মানুষের বা মানব জাতির বিস্তার। মনুর বংশগত বলেই নাকি এই প্রাণীদের নাম হয়েছিল মানুষ। মনু স্মৃতিশাস্ত্র অধ্যায় করেন ব্রহ্মার কাছে।এই স্মৃতিশাস্ত্রই ধর্মশাস্ত্র বা প্রচীন আইনের বিধান।অর্থাৎ হিন্দু আইনের বিধান ছিল সৃষ্টির দেবতা ব্রহ্মারই চিনার ফসল।
মনুর বিধানে মানুষের বিভক্ত হয়েছিল সরাসরি দুটি ভাগে- পুরুষ ও নারী। পুরুষকে প্রভুর ভূমিকায় এবং নারীকে ক্রীতদাসীর চেয়ে অধম,ধর্ষিতার চেয়েও অত্যাচারিত  এবং গৃহপালিত পশুর চেয়েও হীন ভূমিকায় নামিয়ে এনেছিল মনুর আইন বা হিন্দু ধর্মীয় আইন।
মনুর পদাংক অনুসরণ করে হিন্দু ধর্মগুলো একই ভাবে নারীকে চূড়ান্তভাবে শোষন করতে নানান উপদেশ প্রয়োগ করেছে,নানান নীতিকথা প্রচার করেছে।
মানুষের চরম শত্রু বিধান দিলেন মনু তার বিখ্যাত মনুসংহিতায় (২:৬৭)
বৈবাহিকো বিধিঃ স্ত্রীনাং সংস্কারো বৈদকঃস্মৃত। পতিসেবা গুরৌরবাসে।গৃহাথোহাগ্নি পরিক্রয়া।।
বিয়েই নারীর বৈদিক উপনয়।পতিসেবাই গুরুগৃহবাস,গৃকর্মই হোমস্ব্রুপ অগ্নিপূজক।।  বিধানে আর বলেছেন (৫:১৫৪),পতি সদাচারহীন, পরস্ত্রীগমন বা গুণহীন হলেও সতী স্ত্রী সেই পতি কে দেবতার মতই পুজো করবে।

তাহলে হিন্দু নারীর বিনোদ কি শুধু ব্রতপালন ও উপবাস ঘিরেই আবর্তিত হবে? না ব্রতপালন বা উপবাসের স্বাধীনতা নারী কে দেননি মনু।তার বিধানে আছে (৫:১৫৫)স্ত্রীর স্বামী ছাড়া পৃথক যজ্ঞ নেই,পতির অনুমিত ছাড়া ব্রত বা উপবাস নেই।নারী স্বর্গে যেতে পারে কেবল মাত্র স্বামী-সেবার সাহায্যেই।এইভাবে হিন্দু ধর্মে পুরুষকে দেবতার আসনে বসিয়ে রেখেছে হিন্দু ধর্মের ভিবন্ন বিধান খারা করে।
হিন্দু ধর্মে বিভন্ন বিধানে পদে পদে পুরুষের লাম্পট্যকে স্বীকার করে নিয়েছে এবং তা নীতিগত ভাবে গ্রহন করেছে।
তৈত্তিরীয়  সংহিয়ায় (৫/৬/৮৫)  বলা হয়েছে পুরুষরা  যজমান,দীক্ষার দিনে গনিকাসাহচর্য বর্জন করবেন তার পর দিন পরস্ত্রীগমন করবেন এবং তৃতিয় দিন নিজ স্ত্রীর সাহচর্য বর্জন করবেন অর্থাৎ দীক্ষার দিন পর স্ত্রী সাহচর্য বৈধ ছিল।
আবার মনুর বিধানে  (৯:৪) বলা হয়েছে,নিঃসন্তা স্ত্রীকে বিয়ের দশ বছর পর ত্যাগ করা যায়,যে স্ত্রী শুধু মাত্র ক্যানা সন্তান জন্ম দে তাকে ত্যাগ করা যা বার বছর পর,মৃত সন্তানের জন্মদানকারী স্ত্রী কে ত্যাগ করা যায় পনের বছর পরে।সন্তান জন্মদেয়ার অক্ষমতার কারনে স্বামী কে ত্যাগ করার কোন বিধান নাই হিন্দু শাস্ত্রে।
মনু (৯:৪) আরও বলেছেন ঝগড়াটে স্ত্রী কে ত্যাগ করার অধিকার দিয়েছেন।কিন্তু অঅত্যাচারী স্বামীকেও দেবতার জ্ঞানে পুজো করতে বলেছেন।

বৃহত্তর ধর্মগোষ্ঠির মধ্যে ইসলাম এসেছে সবচে পরে অর্থাৎ আধুনিকতম।তাই ইসলাম ধর্ম নারীকে দিয়েছিল কিছু অধিকার।
কিন্তু অত্যাচার কম না তা দেখোন কুরআনের এ সূরা নিসা:৩৪, আছে পুরুষ নারীর কর্তা,কারন আল্লাহ তাদের কে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং স্ত্রীগনদের মধ্যে যাদের অবাধ্যতার আশংকা কর তাদের সদুপদেশ দাও তার পর তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং তাদের প্রহার কর।কেন প্রহার করবে? স্ত্রী কি পুরুষের ক্রিতদাসী।সূরা নিসা:৩) আরও বলেছে,''বিয়ে করবে নারীদের মধ্যে যাদের ভাল লাগে দুই তিন অথবা চার" ।
ইসলাম ধর্ম নারীকে দেখেছে পণ্য হিসাবে।ভোগের সামগ্রী হিসাবে।মানুষ হিসাবে নয়।তারই পথ নির্দেশ  রয়েছে কুরআনে।সেখানে বলা হচ্ছে (সূরা বাকারা:২২৩) "তোমাদের স্ত্রী তোমাদের শস্যক্ষেত্র তাই তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যে ভাবে খুশি প্রবেশ করতে পার।"
চলবে-..
আমি কেন ইশ্বর বিশ্বাস করি না।