শামীম পারভেজ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শামীম পারভেজ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৯

ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় ৪ সন্তানের মাকে ‘আওয়ামী লীগ কর্মীদের গণধর্ষণ’

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গতকাল (৩১ ডিসেম্বর) চার সন্তানের এক জননীকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ১০/১২ কর্মী মিলে গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৫ বছরের ওই নারীর অভিযোগ, নির্বাচনে বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।
চর জুবিলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য রুহুল আমীনের নেতৃত্বে এই পাশবিক কাজ করা হয়েছে বলে জানান ওই নারী। তিনি বলেন, “তারা আমাকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য জোর করেছিলো, কিন্তু আমি তাদের কথা না শুনে ধানের শীষে ভোট দিয়েছি।”
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে রুহুল আমীন জানান, ওই নারী তার আত্মীয় এবং তাদের মধ্যে কোনো শত্রুতা নেই। তিনি আরও বলেন, “ভোটকেন্দ্রে কেবল একবার আমি তার (নারী) সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম।”
রুহুল আমীনের রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাইলে, তিনি সুবর্ণচর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানান।
ঘটনার বর্ণনায় ভুক্তভোগী নারী জানান, গতকাল মধ্যরাতের পর ১০ থেকে ১২ জন লোক হাতে লাঠিসোটা নিয়ে বেড়া কেটে তার বাড়িতে ঢুকে। তারপর তারা তার সিএনজি-চালিত অটোরিকশার ড্রাইভার স্বামী ও চার সন্তানকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে।
“এরপর তারা আমাকে বাইরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে,” তীব্র ব্যথায় গোঙাতে গোঙাতে বলেন ওই নারী।
তিনি আরও বলেছেন যে, এ বিষয়ে মুখ খুললে তার স্বামী ও সন্তানদের মেরে ফেলা হবে এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে ধর্ষণকারীরা।
ওই নারীর স্বামী (যিনি নিজেও আহত) জানান, আনুমানিক রাত চারটার দিকে তার স্ত্রীকে মারাত্মক আহত করে অচেতন অবস্থায় ফেলে রাখে এবং ৪০ হাজার টাকা, সোনার গয়না ও অন্যান্য দামী জিনিসপত্র নিয়ে ধর্ষণকারীরা পালিয়ে যায়।
এরপর, ওই নারীর স্বামী ও সন্তানের কান্নাকাটি শুনে প্রতিবেশীরা এসে তাদের উদ্ধার করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী বলেন, “প্রথমে গ্রামের একজন চিকিৎসককে ডাকা হয়। কিন্তু, ওই নারীর শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হতে থাকায় দুপুরে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।”
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শ্যামল কুমার বিশ্বাস বলেন, তারা ধর্ষণের আলামত পেয়েছেন। ভুক্তভোগীর শরীরে একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ওই নারীর স্বামী জানান, তার স্ত্রী গত রবিবার সকাল ১১টায় চর জুবিলী প্রাথমিকে বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যান। সেখানে তিনি সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট পেপার নিয়ে বুথে যেতে চান। ওই সময় আওয়ামী লীগের কর্মী রুহুল আমীন তাকে নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্য জোর করেন। কিন্তু, তাকে (রুহুল আমীন) যখন বলা হয় যে ধানের শীষে ভোট দেওয়া হয়েছে, তখন তিনি ব্যালট পেপারটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু, এরমধ্যেই তার স্ত্রী ব্যালটটি বাক্সে ঢুকিয়ে দেন। এতেই রুহুল ক্ষেপে যান এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
নোয়াখালী পুলিশ সুপার ইলিয়াস শরীফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ধর্ষণের অভিযোগটি নিশ্চিত করেন, কিন্তু এটি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ঘটনা নয় বলে দাবি করেন। তবে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষকদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
চর জব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় একটি মামলা করেছেন।

বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

ওমর খৈয়ামের একটি অমর কবিতা

যদি মাতালের শিক্ষাকেন্দ্র মাদ্রাসাগুলো এপিকিউরাস, প্লেটো, এরিস্টোটলের দর্শন - শিক্ষালয় হতো,
যদি পীর - দরবেশের আস্তানা ও মাজারগুলো গবেষণা প্রতিষ্ঠান হতো,
যদি মানুষ ধার্মিকের ধর্মান্ধতার পরিবর্তে নীতিজ্ঞানের চর্চা করতো,
যদি মানুষ শাস্ত্র- কিতাব থেকে কেবলমাত্র যুক্তিসঙ্গত ভালো জিনিস গ্রহণে আগ্রহী হতো,
যদি শাস্ত্রের উদ্ভট নিয়মকানুনকে তারা ঘৃণার সঙ্গে বর্জন করতো,
যদি শাস্ত্রকে মানব কল্যাণের জন্য মনে করে মানুষকে শাস্ত্রের উর্ধ্বে স্থান দিতো বিচক্ষণের মতো,
যদি তারা আল্লাহ আল্লাহ ও শয়তান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির কল্পনা করে কাহিনী সৃষ্টি না করতো,
যদি উপাসনালয়গুলো সর্ববিদ্যা চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠতো,
যদি শাস্ত্রবাহক আলেম বুজর্গরা দার্শনিক ও চিন্তাবিদ হতো,
যদি তারা কাল্পনিক গালগল্পকে শাস্ত্রীয় সত্য বলে প্রচার না করতো,
ধর্ম প্রচারকেরা যদি ধর্মতত্ত্বের পরিবর্তে জ্ঞান বিজ্ঞান দর্শন প্রচার করে বেড়াতো,
জ্যোতির্বিদ্যাকে যদি কেউ ভাগ্য গণনার কাজে না লাগাতো,
ধর্মতত্ত্বের চর্চার পরিবর্তে যদি গণিত বীজগণিেতের উন্নতি সাধন করতো,
মুসাফির ও হাজীরা যদি জ্যামিতি, ভূগোলের খবর রাখতো,
যুক্তিবিদ্যা যদি সুফীতত্ত্ব, সংস্কার, কুসংস্কারের জায়গা দখল করতো,
ধর্ম যা মানবজাতিকে বিভক্ত করে তা মানবতার দ্বারা প্রতিস্থাপিত হতো,
এরিস্টোটল, প্লেটো, বু আলী সিনা যদি নবী পয়গম্বর হতো,
মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও রাজপ্রাসাদগুলো যদি সৃষ্টি না হতো,
পৃথিবী তাহলে বেহেস্তে পরিণত হতো,
পরপারের বেহেস্ত বিদায় নিতো,
প্রেম প্রীতি মুক্তি আনন্দে জগৎ পরিপূর্ণ হতো নিঃসন্দেহে।

বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৭

আসুন এখান দিয়ে নামি...

ট্রেনে করে কাজে যাচ্ছিলাম, স্টেশন চলে এসেছে আমি নামাবো, এমন সময় ট্রেনের ভিতরে সামনে থেকে, মুখে লম্বা দাড়ি, টাকনুর উপরে উঠানো সাদা পায়জামা, মাথায় টুপির উপরে সাদা পাগড়ি, চোখে সুরমা, গায়ে সাদা জোব্বা পরিহিত এক হুজুর ভদ্রলোক আমাকে হাত উঁচু করলেন, আমি আচমকা ঘাবড়ে গেলাম, তিনি ধিরে ধিরে কাছে এসে সালাম দিয়ে বললেন আমি হাসান, উত্তরে বললাম আমি শামীম পারভেজ।
ট্রেন থেমে গেছে, একটু ব্যাস্ত ছিলাম, নেমে পড়ব, আমার হাত ধরে উনিও নামলেন। আমার বুক দুরু দুরু কাঁপছে, আশপাশের পথযাত্রি মুখ চাওয়া চাওয়ি করছে বেশ বুঝতে পারলাম। খুব বিব্রত হচ্ছিলাম।
স্টেশানটা উপরে হওয়াতে চলন্ত সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে হবে, আমি ডান পার্শ্বের সিঁড়ি দিয়ে নামার জন্য বাক নিলাম, উনি হাতটা টান দিয়ে বাম পার্শ্বের সিঁড়ি দেখিয়ে বললেন- "আসুন এখান দিয়ে নামি।" প্রবল অনিচ্ছা সত্ত্বেও নামতে হলো কারণ উনি আমার হাতটা তখনো ধরে রেখেছেন।
নামতে নামতে উনি বয়ান শুরু করলেন, ক্ষণিকের দুনিয়ায় এসেছি আমরা, একদিন মরে যাবো তাই নামাজ পড়ার জন্য অনুরোধ করলেন, কোরআন দুরুধ পড়ার কথা বললেন, আরো বললেন ইউরোপে ভালো কথা কেউ বলেনা, সবাই বেহাইয়ার মতো চলাফেরা করে, রাস্তায় বের হলেই চোখের জিনায় প্রচুর গুনা হয় আমাদের। তাই যেন যত সময়টা পারি মসজিদে সময় দেই, আল্লাহকে স্বরণ করি, ইমান আমল নিয়ে থাকি এবং আমাকে মসজিদে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন।
মসজিদে যাওয়ার ঠিকানা দিতে চাই্লে আমি বললাম ঠিকানা লাগবে না, আমি খুঁজে নিবো, এখন একটু তাড়া আছে আমি যাই।
নাম্বার চাইলে বললাম মোবাইলটা ভুল করে বাসায় ফেলে এসেছি, নাম্বার মুখস্ত নেই।
ঐটুকু সময় আমি খুব বিব্রত অবস্থায় ছিলাম এই কারণে যে, আজকাল ইউরোপ কান্ট্রিতে জোব্বাধারী দেখলে পথচারীরা সন্দেহের এবং ভীত চোখে তাকায়। আমার ব্যাপারেও অন্যথা হয়নি, পথচারীরা ঘুরে ঘুরে আমাদের দেখছিলো।
ভদ্রলোকের সাথে কথার ফাঁকে আমি এটুকু আঁচ করে নিয়েছিলাম যে, এই লোক প্রায়ই বাংগালি পথচারীদের তার শিকার বানিয়ে থাকেন কারণ তার বয়ান শুনে বোঝা গেছে পথেঘাটে লোকজন ধরে বয়ান দেয়াতে সে বেশ অভিজ্ঞ।
অবশেষে বিদায় হলো, আমিও নিশ্বাস ছেড়ে বাঁচলাম, চলে আসলাম আমার গন্তব্যে।
তবে আসার পর থেকে একটা কথাই ভাবছি, ইউরোপ যদি এতই খারাপ হয় তাহলে সে কেন এসেছে ইউরোপে? ইউরোপের রাস্তায় বের হলেই যদি চোখের জিনা হয় তাহলে এই জিনার ভিতরে সে কেন চলাচল করে? ইউরোপের মানুষ যদি ভালো কথা না বলে তাহলে এই খারাপের ভিতরে সে কেন আসলো?
উত্তর খুঁজে পাইনি, তবে এতটুকু বুঝলাম এই মানুষগুলো বড়ই নেমকহারাম এবং বেঈমান। এরা এদেশের হাওয়া খাবে, এদেশের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে আবার এদেশকে, এদেশের মানুষকেই খারাপ বলবে।
আর ইউরোপের রাস্তায় মেয়েদের সর্ট পোশাকে এদের ঈমানি চেতনা দাঁড়িয়ে গিয়ে চোখ দিয়ে ধর্ষন করে হবে ধর্ষক, কিন্তু দোষটা আস্তের উপরে চাপিয়ে দিবে মেয়েদের উপর।
তাই বলছি অতি ঈমানদার ভাইয়েরা আপনারা ইউরোপ আমেরিকা না এসে যদি সৌদিআরব, দুবাই, কাতার, আরব আমিরাতের যেকোনো দেশের দিকে যান, তবে আপনারা চোখের জিনা থেকে রক্ষা পাবেন এবং ঈমানও ঠিক থাকবে।
উপরন্তু পথে ঘাটেব আমাদের মত খেটে খাওয়া ব্যাস্ত পথচারিকেও বিরক্ত-বিব্রত অবস্থায় পড়তে হবেনা।

বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বাংলাদেশে অপরাধ...

চুরির অভিযোগে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা

বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে অমানবিকভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় সাগরকে। এ সময় অনেকে দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য দেখেন এবং মোবাইলে ভিডিও করেন। ছবি ভিডিও থেকে নেওয়াময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার চর শ্রীরামপুর গ্রামে চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এরপর লাশ একটি বাড়িতে ফেলে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় পুলিশ ওই বাড়ির সামনের একটি কাশবন থেকে ওই কিশোরের লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, নিহত কিশোরের নাম মো. সাগর (১৬)। তাঁর বাবার নাম মো. শিপন মিয়া। সাগর ময়মনসিংহ শহরের নাটকঘর লেন এলাকায় রেললাইনের বস্তিতে থাকত। সে ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলা থেকে পরিত্যক্ত জিনিস কুড়িয়ে এনে বিক্রি করত।

নিহত সাগরের বাবা শিপন মিয়া জানান, গতকাল সোমবার ভোর চারটার দিকে সাগর একটি ভ্যান নিয়ে পরিত্যক্ত জিনিস কুড়ানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। ওই রাতে সে বাড়ি না ফেরায় তিনি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেন। পরে রাতেই ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় বিষয়টি জানান।

শিপন মিয়ার দাবি, সাগর কোনো চুরি করতে পারে না।

দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সাগর দ্বিতীয়। বোন বড়। বাবা ফেরিওয়ালা। রেললাইনের বস্তিতে পাঁচজনের সংসার ছিল তাদের।

চর শ্রীরামপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, গতকাল ভোরে মানুষজন জাগার আগেই ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত গাউছিয়া হ্যাচারিতে পানির মেশিন চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে মারধর করে ওই হ্যাচারির মালিক আক্কাস আলী ও লোকজন। বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তাকে নির্মমভাবে মারধর করায় ওই কিশোরের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ওই কিশোরকে ইজিবাইকে তোলা হয়। এরপর ঘটনাস্থলে থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে সাহেক কাছারি বাজারে নেওয়ার পর কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বুঝতে পেরে আক্কাস আলী ও তাঁর সহযোগীরা হ্যাচারির পেছনের একটি ঘরে লাশটি ফেলে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন নিহত কিশোরের পরিচয় জানতে পারেনি।

গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই নির্যাতনের ছবি প্রকাশ পায়। পুলিশ আজ দুপুর ১২টার দিকে হ্যাচারির সামনের একটি কাশবনের ভেতর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

আমরা সবাই খুঁজছি...

”পড়ালেখা শেষ করে বাপের কাঁধে বসে খাওয়া ছেলেটি একটা চাকুরী খুঁজছে। সারা রাত ডিপ্রেশনে ভূগতে থাকা ছেলেটি মুক্তির পথ খুঁজছে।”
.
”রাতের বেশ্যাও দশ মিনিটের সুখ ক্রেতা খুঁজছে কোন ফ্লাইওভার কিংবা ওভার ব্রিজে দাড়িয়ে। ফুটপাতে পুরানো জামা বিক্রেতা সস্তায় কেনা ক্রেতা খুঁজছে। বাঁদাম বিক্রেতা খদ্দের খুঁজছে।”
.
”সদ্য প্রেমে ঠকে যাওয়া ছেলেটি নিজের কাছ থেকে পালিয়ে থাকার পথ খুঁজছে। শরীর খসে পড়া রোদের মধ্যে 'শরবত' বিক্রেতা ক্লান্ত মানুষ খুঁজছে, পাঁচ টাকায় প্রতি গ্লাস বিক্রি করবে বলে।”
.
”ধন-দৌলতের ভিতরে থেকেও সুখ বিহীন মানুষটি একটু সুখ খুঁজছে। পনেরো টাকায় এক বেলা ভাত খাবে বলে টোকাই ছেলেটা ভাঙ্গা বোতল আর পুরানো লোহার টুকরো খুঁজছে।”
.
”বিশ্বাস করে ঠকে যাওয়া মেয়েটি একজন বিশ্বাসী মানুষকে খুঁজছে। মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠা ছেলেটি মধ্যবিত্ত শব্দ থেকে বেরিয়ে যাবার পথ খুঁজছে।”
.
”অফিসের বস একটু রাত করে বাড়ী ফিরে বউকে কি জবাব দিবে সেই উপায় খুঁজছে। একজন লেখক সর্বোচ্চ দিয়ে একটা বই লিখে মনের মতো পাঠক খুঁজছে।”
.
আমরা সবাই খুঁজছি, খুঁজতে-খুঁজতে দিশেহারা হয়ে পড়ি, আবার দিশেহারা হয়ে সহজ হবার পথ খুঁজছি। আমার বড্ড অপূর্ণ, আমাদের খোঁজার শেষ নেই। যে যার মতো করে খুঁজছি... ”সারাদিন রিক্সার প্যাড়েল ঘুরিয়ে ষাট টাকায় চাল কিনে ঘরে গিয়ে রিক্সাওয়ালা সুখ খুঁজছে।”

বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৭

কি নির্মম ইতিহাস !

"যুদ্ধ শেষে ক্যাম্প থেকে কয়েকটি কাঁচের জার উদ্ধার করা হয়,যার মধ্যে ফরমালিনে সংরক্ষিত ছিল মেয়েদের শরীরের বিভিন্ন অংশ। অংশগুলো কাটা হয়ে ছিল খুব নিখুঁতভাবে।"

"মার্চে মিরপুরের একটি বাড়ি থেকে পরিবারের সবাইকে ধরে আনা হয় এবং কাপড় খুলতে বলা হয়। তারা এতে রাজি না হলে বাবা ও ছেলেকে আদেশ করা হয় যথাক্রমে মেয়ে এবং মাকে ধর্ষণ করতে। এতেও রাজি না হলে প্রথমে বাবা এবং ছেলে কে টুকরো টুকরো করে হত্যা করা হয় এবং মা মেয়ে দুজনকে দুজনের চুলের সাথে বেঁধে উলঙ্গ অবস্থায় টানতে টানতে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।"
-মোঃ নুরুল ইসলাম, বাটিয়ামারা কুমারখালি।
"আমাদের সংস্থায় আসা ধর্ষিত নারীদের প্রায় সবারই ছিল ক্ষত-বিক্ষত যৌনাঙ্গ। বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ছিড়ে ফেলা রক্তাক্ত যোনিপথ, দাঁত দিয়ে ছিড়ে ফেলা স্তন, বেয়োনেট দিয়ে কেটে ফেলা স্তন-উরু এবং পশ্চাৎদেশে ছুরির আঘাত নিয়ে নারীরা পুনর্বাসন কেন্দ্রে আসতো।"
-মালেকা খান, যুদ্ধের পর পুনর্বাসন সংস্থায় ধর্ষিতাদের নিবন্ধীকরণে যুক্ত সমাজকর্মী।
"মিরপুরে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া একজনকে খুঁজতে গিয়ে দেখি মাটির নিচে বাঙ্কার থেকে ২৩জুন সম্পূর্ণ উলঙ্গ, মাথা কামানো নারীকে ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে পাক আর্মিরা।"
-বিচারপতি এম এ সোবহান
"যুদ্ধের পর পর ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারী, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে উদ্বাস্তুর মতো ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে বেশ কিছু নারীকে। তাদের পোশাক এবং চলাফেরা থেকে আমরা অনেকেই নিশ্চিত জানতাম ওরা যুদ্ধের শিকার এবং ওদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।"
-ড. রতন লাল চক্রবর্তী, অধ্যাপক ইতিহাস বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
"কোনো কোনো মেয়েকে পাকসেনারা এক রাতে ৮০ বারও ধর্ষণ করেছে।"
-সুসান ব্রাউনি মিলার (এগেইনেস্ট আওয়ার উইল: ম্যান, উইম্যান এন্ড রেপঃ ৮৩)
"এক একটি গণধর্ষণে ৮/১০ থেকে শুরু করে ১০০ জন পাকসেনাও অংশ নিয়েছে।"
-ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির গ্রন্থ “যুদ্ধ ও নারী”
মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে দেশে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী। এই নরপশুর নেতৃত্বেই রাওফরমান, রহিম খান, টিক্কা খানের মত পাকিস্তানী জেনারেল এদেশের উপর চালায় শতাব্দীর ঘৃণ্যতম গণহত্যা। সেই সাথে এসব বিকৃত রুচির জেনারেলদের পরিকল্পনায় সংঘটিত হয় ধর্ষণের মহোৎসব।
আমার এখনকার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু মুক্তিযুদ্ধে নারী নির্যাতন, যত ঘাঁটছি আমার বিস্ময় তত বেড়েই চলছে। এই সেক্টরে এসে আমরা বরাবরই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পুরনো কিছু গল্প বলে পাশ কাটিয়ে যেতে চাই, আর এর ফাঁকে আড়াল হয়ে যায় নির্মমতার অনেক গল্প, যে গল্প হার মানাবে হিটলারের নির্মমতাকে, আনা ফ্র্যাঙ্কের ডাইরিকে। আমার হিসাবে মুক্তিযুদ্ধে প্রকৃত ধর্ষণের সংখ্যা হয়ত দশ লক্ষও হতে পারে।
জী ভাই আমি দশ লক্ষই বলছি।
হাতে যথেষ্ট প্রমাণ আছে দেখেই বলছি। সম্ভবত সবচেয়ে কম সময়ে সবচেয়ে বেশী ধর্ষণের রেকর্ডটাও আমাদের পকেটেই যাচ্ছে। আর এই ধর্ষণ উৎসবের হালালাইজেশানটা করা হয়েছিলো ধর্মের নামে।
ব্রিগেডিয়ার আবদুল রহমান সিদ্দিকী তার East Pakistan The End Game বইতে লেখেন, "নিয়াজী জওয়ানদের অসৈনিকসুলভ, অনৈতিক এবং কামাসক্তিমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতেন। 'গতকাল রাতে তোমাদের অর্জন কি আমার বাঘেরা?' চোখে শয়তানের দীপ্তি নিয়ে জিজ্ঞেস করতেন তিনি। অর্জন বলতে তিনি ধর্ষণকেই বোঝাতেন।"
সেপ্টেম্বরে পূর্ব পাকিস্তানের সকল ডিভিশান কমান্ডারের কনফারেন্সে এক অফিসার তুলেছিলেন পাকিস্তানী সেনা কর্তৃক বাঙ্গালী নারীদের ধর্ষনের প্রসঙ্গ । নিয়াজী তখন সেই অফিসারকে বলেন,
"আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি। যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনাকে স্বাভাবিক বলে ধরে নিও।"
তারপর তিনি হেসে বলেন,
"ভালই তো হচ্ছে, এসব হিন্দুয়ানী বাঙ্গালী রক্তে সাচ্চা মুসলিম পাঞ্জাবী রক্ত মিশিয়ে তাদের জাত উন্নত করে দাও।"
আর এই ধর্ষণের পক্ষে তিনি যুক্তি দিয়ে বলতেন,
"আপনারা কি ভাবে আশা করেন একজন সৈন্য থাকবে,যুদ্ধ করবে, মারা যাবে পূর্ব পাকিস্তানে এবং যৌন ক্ষুধা মেটাতে যাবে ঝিলমে?"
ধর্ষণে লিপ্ত এক পাকিস্তানী মেজর তার বন্ধুকে চিঠি লিখেছে;
"আমাদের এসব উশৃঙ্খল মেয়েদের পরিবর্তন করতে হবে যাতে এদের পরবর্তী প্রজন্মে পরিবর্তন আসে, তারা যেন হয়ে ওঠে ভালো মুসলিম এবং ভালো পাকিস্তানী"
স্বাধীনতার পর ধর্ষিতা বাঙালী মহিলাদের চিকিৎসায় নিয়োজিত অষ্ট্রেলিয় ডাক্তার জেফ্রি ডেভিস গনধর্ষনের ভয়াবহ মাত্রা দেখে হতবাক হয়ে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে আটক পাক অফিসারকে জেরা করেছিলেন যে তারা কিভাবে এমন ঘৃণ্য কাজ-কারবার করেছিলো। অষ্ট্রেলিয় চিকিৎসক বিচলিত হলেও পাক অফিসারদের সাচ্চা ধার্মিক হৃদয়ে কোন রকম রেখাপাত ঘটেনি। তাদের সরল জবাব ছিল,
"আমাদের কাছে টিক্কা খানের নির্দেশনা ছিলো যে একজন ভালো মুসলমান কখনই তার বাবার সাথে যুদ্ধ করবে না। তাই আমাদের যত বেশী সম্ভব বাঙালী মেয়েদের গর্ভবতী করে যেতে হবে।"
নিয়াজী ধর্ষণে তার সেনাদের এতই চাপ দিতেন যে তা সামলে উঠতে না পেরে এক বাঙালি সেনা অফিসার আত্মহত্যা করতে বসেন।
ঘৃণা আর ভালোবাসা একটা মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ, আপনি কাউকে প্রচণ্ড ভালোবাসতে পারেন শুধুমাত্র তখনই যখন আপনি ঘৃণা করতে পারবেন তার বিপরীত সত্ত্বাকে। আপনি নিজেকে মনেপ্রাণে একজন বাঙ্গালী, একজন দেশপ্রেমিক তখনই বলতে বলতে পারবেন যখন পাকিস্তানকে, তাদের সমর্থকদের মনে প্রাণে ঘৃণা করতে পারবেন।
কৃতজ্ঞতায়ঃ শহীদ রুমী স্কোয়াড

মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৭

প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ...

কেউ কথা রাখেনি-
কেউ কথা রাখেনি।
ছিচল্লিশ বছর কাটলো,
কেউ কথা রাখেনি।
ছেলেবেলা এক জনক স্বাধীনতা এনে দিয়ে বলেছিল,
"এ দেশকে আমি সোনার বাংলা করে গড়ে তুলবো।"
তারপর একে একে কতো নেতা-নেত্রী এসে চলে গেলো,
কিন্তু সে-ই জনক আর এলো না।
বিয়াল্লিশ বছর প্রতীক্ষায় আছি!
সেনাবাহিনীর এক জেনারেল
পালা বদলের পর ক্ষমতায় এসে বলেছিল,
"খাল কাটো, দেশবাসী।
তোমাদেরকে আমি সবুজ বিপ্লব এনে দিবো।"
সেনাপতি, আমি আর কতো খাল কাটবো?
খাল কাটতে কাটতে বঙ্গোপসাগরে পড়লে তারপর কি আমাকে সবুজ বিপ্লব এনে দিবে?
একটাও মেয়ের ভালোবাসা পাইনি কখনো।
দেখিয়ে দেখিয়ে তিন তিনটা বিয়ে করেছে আরেক সেনা শাসক।
দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখেছি,
ভেতরে জলসা মহল।
উচ্চ পদস্থ আমলা আর সুন্দরী রমনীরা
কতো রকম আনন্দে হেসেছে।
আমার সিরিয়াল নাম্বারই আসেনি কোনদিন!
বেকার বন্ধু কাঁধে হাত রেখে বলেছিল,
দেখিস, একদিন আমরাও...
বন্ধুটা এখনো বেকার।
দেখা হয়নি তাঁর কিছুই—
সেই জলসা মহল, সুন্দরী বধূ, একটা চাকরী...
কেউ তাকে এনে দিবে না।
বুকের মধ্যে উর্বর মাটি রেখে একদিন বাংলাদেশ বলেছিল,
"যেদিন আমাকে সত্যিকার ভালোবাসবে,
সেদিন আমার বুকেও এমনি অনেক সোনা ফলবে।"
ভালোবাসার জন্য আমি নিজের হাতে অস্ত্র নিয়েছি,
হিংস্র পাক সেনাদের করেছি পদানত,
সমগ্র বাংলাদেশ তন্ন তন্ন করে এনে দিয়েছি ত্রিশ লক্ষ জীবন,
তবু কথা রাখেনি বাংলাদেশ।
তার দেহে এখন রাজাকার বংশের নোংরা পরশ।
এখন সে 'কাউয়া'দের হাতে জিম্মি
কেবলই একখানি জমি।
কেউ কথা রাখেনি।
ছিচল্লিশ বছর কাটলো,
কেউ কথা রাখে না..

সোমবার, ৩১ জুলাই, ২০১৭

মহিউদ্দিন শরীফকে বিদেশে যাবার নেপথ্যে কে বা কারা? (দ্বিতীয় পর্ব)

আজ বলব মহিউদ্দিন শরীফকে নিয়ে। বরিশাল বিএম কলেজের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্র্র ছিল সে। গত ১ লা মার্চ ২০১৭ তারিখে ভয়েস অব আমেরিকায় ‘বাংলাদেশ ক্রিটিসাইজড ফর স্লো প্রোগ্রেস ইন ব্লগার মার্ডারস’ নামে একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। সেখানে ‘শুদ্ধস্বর’ প্রকাশনীর অন্যতম উদ্যোক্তা আমেরিকায় নির্বাসনে থাকা মাহবুব লিলেনের সঙ্গে বরিশালের মহিউদ্দিন শরীফের কিছু বক্তব্য প্রকাশ করানো হয় উদ্দেশ্যমূলকভাবে।
মহিউদ্দিন শরীফ বরিশালে একসময় ইসলামিক ঘরানার লেখক বলে পরিচিত ছিল। বাকেরগঞ্জে তার গ্রামের বাড়িতে খবর নিয়ে জানা যায় তার পরিবার স্থানীয় জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এলাকায় একটি জোর গুঞ্জন প্রচলিত আছে মহিউদ্দিন শরীফ বরিশাল শহরে হিজবুত তাহরীরের সঙ্গে যুক্ত। তাকে ভয়েস অব আমেরিকার উক্ত রিপোর্টে প্রগতিশীল ব্লগার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতে দেখে অবাক হলাম। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে। বি.এম. কলেজের পুরনো ছাত্রদের কাছে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায় যে সে বরিশাল বিএম কলেজ মাঠে ও সংলগ্ন বিভিন্ন মেসে একসময় শিবিরের হয়ে স্টাডি সার্কেল আয়োজন ও পরিচালনা করত।
সে সব প্রতিটি সাপ্তাহিক ও কখনো পাক্ষিক স্টাডি সার্কেলে ১৫ থেকে ২০ জন সমাবেত হত। মূলত সেখানে দর্শন ও চিন্তা চর্চার নামে ফরহাদ মজহার ঘরানার কথাবার্তা বলে মগজ ধোলাইয়ের ব্যবস্থা করত মহিউদ্দিন শরীফ ও তার সহযোগীরা। এ কারণে বি.এম. কলেজের ছাত্র্রলীগের কর্মীদের দ্বারা মহিউদ্দিন শরীফ চিহ্নিত হয়ে যায় এবং সে পালিয়ে পালিয়ে তার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায় বিএমকলেজ সংলগ্ন সোবাহান মিয়ার পুল, মধু মিয়ার পুল, বৈদ্য পাড়া, কলেজ রো সংলগ্ন এলাকায়। তাকে কয়েকবার সতর্ক করেও দেয় ছাত্রলীগের কর্মীরা, যারা অনেকে এখন বরিশাল ছাত্রলীগের মহানগর কমিটিতে আছে। বর্তমানেও সে বরিশালে জামাত সমর্থক পুরনো কর্মী হিসেবে সংস্কৃতি মহলে পরিচিত বলে সাংবাদিকদের কাছ থেকে জানা গেছে এবং তার কিছু লেখাপত্র তাদের পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
তার একসময়ের সহপাঠিনী জানান, ‘‘মহিউদ্দিন শরীফ তার কয়েকজন শিষ্য সহ আমাদের কাছে সেসব প্রচারপত্র নিয়ে আসত। কিন্তু আমরা না বলতে পারতাম না। কেননা সেসময় বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় ছিল এবং তাদের কর্মী পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত। তাদের টার্গেট বাঙালী মুসলমানের মনকে আরো মুসলমানিত্বের দিকে নিয়ে আসা। ২০১০ সালের পরীক্ষায় সে মাস্টার্স পাশ করে। এর মাঝে মাঝে সে ছাত্র্র পড়িয়ে যায় আর দাওয়াতী কর্মকাণ্ড চালু রাখে।‘’
তার সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে আরো ভয়ঙ্কর তথ্য জানা যায়। ঢাকার ইংরেজি গ্রামার স্কুল ‘লেকহেড গ্রামার স্কুল’টি রিজোয়ান হারুন ও হিজবুত তাহরীরের আমীর প্রফেসর ড. গোলাম মাওলা প্রতিষ্ঠিত। রিজওয়ান হারুনকে পুলিশ বহুদিন ধরে খুঁজছে। সেখানে মহিউদ্দিন শরীফের দুই চাচাত ভাই মাইনুদ্দিন শরীফ ও রেজওয়ান শরীফ। যাদের একজন রেজওয়ান শরীফ সিরিয়ায় পরিবার নিয়ে চলে যায়, সেও লেকহেড গ্রামার স্কুলের শিক্ষক ছিল। লেকহেড গ্রামার স্কুল প্রতিষ্ঠার পর মহিউদ্দিন শরীফ নিয়মিত ঢাকায় যাওয়া আসা শুরু করে নিয়মিত। ঢাকা থেকে প্রতিবার ফেরার পরে সে নিত্য-নতুন ইসলামিক প্রচারপত্র ও হ্যান্ডবুক স্টাডি সার্কেলে বিতরণ করত। এখানে একটি লিঙ্ক দিলাম তার কাজিনদে নিয়ে: http://www.dhakatribune.com/bangladesh/2017/05/14/militant-missing-dhaka-airport/
তার সহপাঠী ও বন্ধুরা জানিয়েছেন, যখন তারা ভয়েস অব আমেরিকায় উল্লেখ্য রিপোর্ট পরে জেনেছেন বর্তমানে মহিউদ্দিন শরীফ স্ত্রী রহিমা মহিউদ্দিন মুন্নী ও কন্যা সন্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার কোন দেশে আছে এবং সে একজন প্রগতিশীল ব্যক্তির অভিনয় করে অন্যদের ধোঁকা দিতে সমর্থ হচ্ছে, শুনে তারা অবাক হয়েছেন। এটা সবার জন্য সতর্কতার বিষয়। সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন ব্যক্তি অনেক ব্লগারের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশে যখন একের পর এক হত্যা হচ্ছিল তখন কয়েকজন ব্লগার বাংলাদেশ ত্যাগ করে। জানা গেছে, বিদেশে গমনকারী কোন কোন ব্লগারের ইন্ধন পেয়ে সে দেশ ত্যাগের প্রস্তুতি নেয় এবং তারপর থেকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে নানা রকম উস্কানীমূলক পোস্ট ফেসবুকে দিতে শুরু করে বলেই তথ্য পেয়েছি।
বাংলাদেশে ব্লগারদের হত্যাকাণ্ড জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পেয়েছে। ওয়াশিকুর রহমান বাবু, নিলয় নীল হত্যাকাণ্ডগুলোতে অনেক প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায় না। নিলয় নীল গ্রামের বাড়িতে বহুদিন পালিয়ে ছিল। সেখান থেকে ফিরে আসার পর পর তিনি হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হন। ওয়াশিকুর রহমান বাবু কোথায় থাকতেন এ বিষয়ে তথ্য তেমন কেউ জানতেন না। কিন্তু ওয়াশিকুর রহমান বাবুও হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হয়ে যান। এ দু’টো হত্যাকাণ্ড মূলত ভীতি ছড়িয়ে দেয়। কেননা এতো গোপনিয়তা রক্ষার করার পরও কিভাবে ব্লগারদের অবস্থান ফাঁস হয়ে যাচ্ছিল। ব্লগারদের তথ্য কোন না কোন ভাবে পাচার হয়ে যাচ্ছিল। তারপর থেকে ব্লগাররা বাংলাদেশ ত্যাগ শুরু করেন।       
মহিউদ্দিন শরীফ দক্ষিণ এশিয়ার কোন এক দেশে কেন পালিয়ে আছে? বরিশালে তার কোন সমস্যার কথা কোন সাংবাদিককের কাছে খবর নিয়েও জানা যায়নি। তাদের কাছে এমন কোন খবর নেই যে মহিউদ্দিন শরীফ নামের বাকেরগঞ্জে বাড়ি বরিশালের কেউ হুমকি পেয়েছেন। এমনকি মহিউদ্দিন শরীফের ফেসবুক একাউন্ট ঘেঁটে এমন কিছু তথ্য ব্লগার হত্যাকাণ্ডগুলোর আগে পাওয়া যায় না। খবর নিয়ে জানা গেছে সে বাংলাদেশ ত্যাগ করার আগে ঢাকায় একটি ফ্লাটে ছিল। সেখান থেকে সে বিদেশে যাওয়ার জন্য নানারকম যোগাযোগ করে। এবং তাকে বিদেশে থাকা একাধিক ব্যক্তি সহযোগিতা করে, কেননা তাদের উদ্দেশ্য নিজেদের দল ভারী করে এসাইলাম ব্যবসা জমজমাট করা। বর্তমানে সপরিবারে দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশে স্ত্রী ও এক কন্যা সহ অবস্থান করছে।
আমিও মহিউদ্দিন শরীফ নামের কাউকে কখনো কোথাও থ্রেট দেয়া হয়েছে এমন খবরও আমার কাছে নেই। কিংবা এমন কোন সংবাদ এর আগে পড়িনি। কিংবা কোন তালিকায় তার নাম প্রকাশ হয়নি। সে কারণে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে হঠাৎ করে ভয়েস অফ আমেরিকায় প্র্রকাশিত এ রিপোর্টের মাজেজা কি? সেখানে কেন অলরেডি আমেরিকায় নির্বাসনে থাকা মাহবুব লীলেনের সঙ্গে মহিউদ্দিন শরীফকে নিয়ে এমন প্রচারপ্রচারণা চালানো হয়েছে?
মহিউদ্দিন শরীফকে প্রগতিশীল ব্লগার হিসেবে পরিচিত করিয়ে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পেছনে একটি চক্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছে। কিন্তু মহিউদ্দিন শরীফের নেপথ্যে কে বা কারা? কারা রেফারেন্সে দিচ্ছে তাহলে?
আমরা কি খুব শিঘ্রী আরেকটি অসত্য এসাইলামের গল্প শুনতে পাব?
নিম্নে ‘ভয়েজ অব আমেরিকা’য় প্রকাশিত খবরের লিঙ্ক:  
https://www.voanews.com/a/bangladesh-criticized-for-slow-progress-blogger-murders/3744833.html